০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 171

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজিগঞ্জের ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে প্রায় এক ঘন্টা পথে পাড়ি দিয়ে পৌছাতে হয় চার শালেপুর গ্রামে। সোলার বিদ্যুৎই যেখানে ভরসা। রাস্তাঘাট, স্কুল সহ জীবনধারণের অনেক প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নেই বলে মাছ ধরা, কৃষি কাজ করা আর মেয়েদের গৃহস্থালি জীবনযাপনের উপর নির্ভর করতে হয়। এই গ্রামের মোফাজ্জল শেখের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান এই দিপালী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা হয়ে ১১ বছর আগে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে। সেখান থেকে উপার্জন করে টাকা পাঠাতেন দেশে পরিবারের কাছে। দিপালী অবিবাহিত ছিলেন।

গত বুধবার বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর মিসাইল হামলায় নিহত হন তিনি। শুক্রবার বিকেলে এ খবর জানার পর তার পরিবারে চলছে মাতম। বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ওই হামলায় দিপালীর কফিলের পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। তাদের মৃতদেহ সেখানকার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বজ্রপাতে মায়ের মৃত্যুর পর তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন দিপালী। কিছুদিন থেকে পরের বছর আবার লেবাননে চলে যান। বৃদ্ধ বাবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে তাই পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ।

পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম চর শালেপুর গ্রামে দিপালীর বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়, পরিারের সদস্যদের মাঝে এক শোকাবহ পরিবেশ নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। প্রতিবেশী নারী ও শিশুদের অনেকে এসে বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন।

দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন জানান, সবশেষ ৮ এপ্রিল বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তারপর থেকে তাকে আর ফোনে কিংবা ইন্টারনেটে পাইনি।
লাইজু বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে টাকা পাঠাতেন দেশে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।

দিপালীর নিহত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে লেবাননের বৈরুত থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস খবরটি নিশ্চিত করে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইসরায়েলের বোমা হামলা ও এতে দিপালীর নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।

চরভদ্রাসন উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানিয়েছেন, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারের সাথে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজিগঞ্জের ঘাট থেকে ট্রলারে চড়ে প্রায় এক ঘন্টা পথে পাড়ি দিয়ে পৌছাতে হয় চার শালেপুর গ্রামে। সোলার বিদ্যুৎই যেখানে ভরসা। রাস্তাঘাট, স্কুল সহ জীবনধারণের অনেক প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নেই বলে মাছ ধরা, কৃষি কাজ করা আর মেয়েদের গৃহস্থালি জীবনযাপনের উপর নির্ভর করতে হয়। এই গ্রামের মোফাজ্জল শেখের দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে চতুর্থ সন্তান এই দিপালী। রেমিট্যান্স যোদ্ধা হয়ে ১১ বছর আগে গিয়েছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লেবাননে। সেখান থেকে উপার্জন করে টাকা পাঠাতেন দেশে পরিবারের কাছে। দিপালী অবিবাহিত ছিলেন।

গত বুধবার বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর মিসাইল হামলায় নিহত হন তিনি। শুক্রবার বিকেলে এ খবর জানার পর তার পরিবারে চলছে মাতম। বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, ওই হামলায় দিপালীর কফিলের পরিবারের সদস্যরাও নিহত হয়েছেন। তাদের মৃতদেহ সেখানকার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, বজ্রপাতে মায়ের মৃত্যুর পর তিন বছর আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন দিপালী। কিছুদিন থেকে পরের বছর আবার লেবাননে চলে যান। বৃদ্ধ বাবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে তাই পুরো পরিবার বাকরুদ্ধ।

পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দুর্গম চর শালেপুর গ্রামে দিপালীর বাড়িতে যেয়ে দেখা যায়, পরিারের সদস্যদের মাঝে এক শোকাবহ পরিবেশ নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তারা। প্রতিবেশী নারী ও শিশুদের অনেকে এসে বাড়িতে উপস্থিত হয়েছেন।

দিপালী খাতুনের ছোট বোন লাইজু খাতুন জানান, সবশেষ ৮ এপ্রিল বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে বোনের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তারপর থেকে তাকে আর ফোনে কিংবা ইন্টারনেটে পাইনি।
লাইজু বলেন, আমার বোন লেবাননে যেখানে থাকতেন তার বাসার পাশে একটি মুদি দোকান থেকে কেনাকাটা ও বিকাশে টাকা পাঠাতেন দেশে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ৩৭ মিনিটে আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে বোনের মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়।

দিপালীর নিহত হওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে লেবাননের বৈরুত থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস খবরটি নিশ্চিত করে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেয়।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের উপর ইসরায়েলের বোমা হামলা ও এতে দিপালীর নিহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়।

চরভদ্রাসন উপজেলায নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া মমতাজ জানিয়েছেন, আমরা ঘটনা জানার পর থেকেই পরিবারের সাথে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া তাদের কাছে কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে আমরা কাগজপত্র পেলেই মরদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের হাতে চাল সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য তুলে দেয়া হয়েছে।