সিটি স্ক্যান মেশিন একমাস, এক্সরে মেশিন ২৩ দিন যাবত অচল
ফমেক হাসপাতালে চলছেনা এক্সরে ও সিটিস্ক্যান মেশিন, রোগীদের চরম ভোগান্তি
- আপডেট সময় : ০৯:২১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 133
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সামনে এভাবেই টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে এক্সরে ও সিটিস্ক্যান মেশিন নষ্টের নোটিশ। ছবি- অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের এক্সরে ও সিটি স্ক্যান মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার চিঠি পাঠানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এতদঅঞ্চলের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্সরে ও সিটি স্ক্যান করার প্রয়োজন হয়। তারা সরকারি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে এসে সেবাবঞ্চিত হয়ে নিরুপায় হয়ে ছুটছেন বিভিন্ন প্রাইভেট সেন্টারে। সেখানে তাদের গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি টাকা। সাথে রয়েছে নানান ভোগান্তি। অনেকসময় অচেনা-অজানা পরিবেশে আগত রোগীর স্বজনেরা এক্ষেত্রে দালাল-টাউট শ্রেণির খপ্পরে পরে সর্বস্বান্ত হন।
সরেজমিনে ফমেক হাসপাতালে যেয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের আউটডোর এবং ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্যে অসংখ্যজন চিকিৎসকের পরামর্শে এই এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের জন্য রেডিওলজি বিভাগে আসছেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পরে তারা জানতে পারছেন এক্সরে ও সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট। ফলে তারা সেবা না পেয়ে বিফল মনোরথে ফেরত যাচ্ছেন। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা জরুরি অপারেশনের রোগীদের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন হয়ে উঠে এতে। তাদের নিতান্ত বাধ্য হয়ে বাইরে প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে এই এক্সরে কিংবা সিটি স্ক্যান করাতে হয়। দেখা যায়,লরির উপর অসুস্থ্য রোগীকে শুইয়ে সবসময়েই কোন না কোন রোগীকে বাইরে প্রাইভেট সেন্টারে এই এক্সরে কিংবা সিটিস্ক্যান করাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেহেদী হাসান (১৪) নামে এক কিশোর বলেন “সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যাওয়ার পরে মধুখালী থেকে তাকে রেফার্ড করা হয়েছে ফমেক হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে। ডাক্তার তাকে দেখে এক্সরে করানোর জন্য লিখেছেন। এখন বাইরে থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে। মেহেদী বলেন, ‘‘এক্সরে করানোর জন্য ভ্যানে করে যখন বাইরে নিয়ে যায়, তখন অনেক ঝাঁকি লাগে। কী যে কষ্ট হয় সেসময়ে! ”
রাজবাড়ী থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন জালালউদ্দিন বলেন, সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার্থে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দিয়ে রাখলেও সেগুলো বেশিরভাগ সময়েই বিকল থাকে। আমাদের মতো দরিদ্র রোগীরা এখানে কম খরচে চিকিৎসা নিতে আসি। কিন্তু এখানে এসে সেই বাইরের দালালের খপ্পরে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসানুজ্জামান বলেন, ফমেক হাসপাতালের জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেবাটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকার বিষয়টি কোন অবস্থাতেই কাম্য নয়। চিকিৎসা সেবা নিয়ে যেই নৈরাজ্যকর ব্যবস্থা তৈরি হয়ে রয়েছে, এটি তারই নমুনা।
ফমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মানষ কৃষ্ণ কুন্ডকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এই এক্সরে ও সিটিস্ক্যান মেশিন বিকল হওয়ার কথা স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, মেশিনগুলো নষ্ট হওয়ার পরপরই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত মেরামতের জন্য ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হচ্ছে যাতে রোগীদের ভোগান্তি দ্রুত লাঘব করা যায়। বর্তমানে মেশিনগুলো মেরামতের জন্য টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।












