'বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন'-এর উদ্যোগে একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী এ অভিযানে অংশ নেয়
তারুণ্যের ছোঁয়ায় মেডিক্যাল এলাকার নোংরা পরিবেশ এখন ‘ঝাঁ-তকতকে’
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 162
'বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন'-এর উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের এলাকা পরিচ্ছন্ন করা হয়। ছবি- অগ্নিপ্রহর
প্রায় দুই সপ্তাহের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ বদলে দিয়েছে একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী।
একসময় যেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে পথচারীদের নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হতো, সেখানে এখন বিরাজ করছে এক ঝাঁ-তকতকে ঝলমলে পরিবেশ।
স্বেচ্ছাসেবীরা দীর্ঘদিনের জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে এলাকাটি নেট দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন। সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি আর সবুজ গাছপালা। দেখলেই যে কারো নজর কাড়ে, মনে ভালো লাগা জাগায়।
’বাংলাদেশ ইয়াংস্টার সোশ্যাল অর্গানাইজেশন’-এর উদ্যোগে এবং ফরিদপুর পৌরসভার সার্বিক সহযোগিতায় এই অসাধ্য সাধন হয়েছে।
সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী প্রতিনিধি ও ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন জানান, গত ২১ ডিসেম্বর থেকে তাদের এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের গেটের পাশ থেকে বিএডিসি (সেচ) অফিসের সামনের এলাকা পর্যন্ত তারা এই কাজ বাস্তবায়ন করেন।
জেবা বলেন, “এত বড় একটি হাসপাতালের সামনের মহাসড়কের পাশেই ফেলা হতো সব ধরনের নোংরা বর্জ্য। এটি দেখতে যেমন দৃষ্টিকটু ছিল, তেমনি অস্বাস্থ্যকরও হয়ে উঠেছিল। তাই আমরা পরিবেশ উন্নয়নের এই উদ্যোগ গ্রহণ করি।” তিনি আরও জানান, পৌরসভা তাদের বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মনপ্রাণ দিয়ে কাজটি সফল করেছেন।
আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও দোকানপাটের ময়লা ফেলে জায়গাটিকে দীর্ঘদিনের এক স্থায়ী ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু তরুণ-তরুণীদের হাতের স্পর্শে সেখানে এখন নান্দনিকতার ছোঁয়া।
গত দুই সপ্তাহ ধরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকাটি পরিষ্কার করা হয়েছে। কেউ যাতে আর সেখানে ময়লা ফেলতে না পারে, সেজন্য রাস্তার পাশের ঢালু অংশে বাঁশ-খুঁটি গেড়ে নেট দিয়ে লম্বা করে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখানে ক্যালিগ্রাফি আঁকা ফেস্টুন লাগানো হয়েছে এবং রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন গাছগাছালি।
তরুণদের এই উদ্যোগ এরই মাঝে সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। সাধারণমানুষ তাদের কাজের প্রশংসা করেন।
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ এই কাজে অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হলে এই পরিশ্রম সার্থক হয়ে উঠবে।”














