০২:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো
মনের কথা কইবার জায়গা কোথায় শহর ফরিদপুরে!

বসন্তের মোহনায় ভালোবাসার জোয়ার : এলো আগুনঝড়া ফাগুন

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 98

বসন্তের মোহনায় ভালোবাসার জোয়ার : এলো আগুনঝড়া ফাগুন। ছবি- সংগৃহীত।

আজ প্রকৃতির আঙিনায় দ্বৈত উৎসবের দোলা। একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’, অন্যদিকে ক্যালেন্ডারের পাতায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। শীতের রিক্ততা আর জরাজীর্ণতা কাটিয়ে প্রকৃতি আজ সেজেছে নতুন কচি পাতায়, আর মানুষের মনে লেগেছে মিলনের রঙ। হলুদ-বাসন্তী শাড়ি আর লাল পাঞ্জাবির মিশেলে আজ রাজপথ থেকে শুরু করে সব বিনোদন কেন্দ্র যেন এক মোহনায় এসে মিশে যাওয়ার দিন।

এবারের বসন্তের শুরুটা অন্যবারের মতো ছিল না। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক চাপা রেশ জনমনে রয়ে গিয়েছিল। নির্বাচনের ডামাডোলে অনেকটা সময় মানুষের মধ্যে যে দ্বিধা আর জড়তা ছিল, তার প্রভাব উৎসবের শুরুর দিকের আয়োজনে স্পষ্ট দেখা গেছে। বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার ভিড় কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রস্তুতিতে যেন কিছুটা ভাটা পড়েছিল।

শহরের উদ্যান আর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গেলে সেটি বোঝা গেছে। রাজনীতি কিংবা অস্থিরতা মানুষের মনের আবেগকে দমাতে পারে না। তবে শহর ফরিদপুরে সেই অবকাশ যাপনের ফুরসত কোথায়?কলেজ মাঠের খোলা প্রান্তর, লোক পাড় কিংবা পার্কে বসে মনের কথা কইবার জায়গা কোথায়? হাতে হাত রেখে প্রিয় মানুষের চোখে চোখ রেখে মনের কথা বলা, চুলে গুঁজে দেওয়া লাল গোলাপ কিংবা কপালে টিপ— চলতি পথে রিকশার হুড ফেলে বসন্তের বাতাস গায়ে লাগানো যুগলদের হাসিমুখ, সব অস্থিরতার ঊর্ধ্বে ভালোবাসার স্পন্দন এবার অনেকটাই ফিকে দেখা গেছে । তবে ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত!

বসন্ত কেবল একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির মনন ও ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর যে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই ‘বসন্ত উৎসব’। সেই থেকে আজ অবধি বসন্ত বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে নতুন জীবনীশক্তি। কবিগুরুর ভাষায় আজ সত্যিই— ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। শিমুল-পলাশের রক্তিম আভা আর কোকিলের কুহুতান জানান দিচ্ছে, দখিনা দুয়ার খুলে গেছে।

বসন্তের দেশীয় আমেজের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে পশ্চিমা ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত এই দিন । স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, ভাইবোন কিংবা প্রিয় বন্ধুর সাথে ভালোবাসার বন্ধন ঝালিয়ে নেওয়ার দিন। ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রামের ওয়ালে ওয়ালে এখন  শুভেচ্ছার বিনিময় চলে। প্রযুক্তির বুকে প্রকৃতির সেই আদিম সতেজতা থাকুক অম্লান।

ট্যাগ

শেয়ার করুন

মনের কথা কইবার জায়গা কোথায় শহর ফরিদপুরে!

বসন্তের মোহনায় ভালোবাসার জোয়ার : এলো আগুনঝড়া ফাগুন

আপডেট সময় : ১০:৫২:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আজ প্রকৃতির আঙিনায় দ্বৈত উৎসবের দোলা। একদিকে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন ‘পহেলা ফাল্গুন’, অন্যদিকে ক্যালেন্ডারের পাতায় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। শীতের রিক্ততা আর জরাজীর্ণতা কাটিয়ে প্রকৃতি আজ সেজেছে নতুন কচি পাতায়, আর মানুষের মনে লেগেছে মিলনের রঙ। হলুদ-বাসন্তী শাড়ি আর লাল পাঞ্জাবির মিশেলে আজ রাজপথ থেকে শুরু করে সব বিনোদন কেন্দ্র যেন এক মোহনায় এসে মিশে যাওয়ার দিন।

এবারের বসন্তের শুরুটা অন্যবারের মতো ছিল না। সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার এক চাপা রেশ জনমনে রয়ে গিয়েছিল। নির্বাচনের ডামাডোলে অনেকটা সময় মানুষের মধ্যে যে দ্বিধা আর জড়তা ছিল, তার প্রভাব উৎসবের শুরুর দিকের আয়োজনে স্পষ্ট দেখা গেছে। বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটার ভিড় কিংবা সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রস্তুতিতে যেন কিছুটা ভাটা পড়েছিল।

শহরের উদ্যান আর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গেলে সেটি বোঝা গেছে। রাজনীতি কিংবা অস্থিরতা মানুষের মনের আবেগকে দমাতে পারে না। তবে শহর ফরিদপুরে সেই অবকাশ যাপনের ফুরসত কোথায়?কলেজ মাঠের খোলা প্রান্তর, লোক পাড় কিংবা পার্কে বসে মনের কথা কইবার জায়গা কোথায়? হাতে হাত রেখে প্রিয় মানুষের চোখে চোখ রেখে মনের কথা বলা, চুলে গুঁজে দেওয়া লাল গোলাপ কিংবা কপালে টিপ— চলতি পথে রিকশার হুড ফেলে বসন্তের বাতাস গায়ে লাগানো যুগলদের হাসিমুখ, সব অস্থিরতার ঊর্ধ্বে ভালোবাসার স্পন্দন এবার অনেকটাই ফিকে দেখা গেছে । তবে ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত!

বসন্ত কেবল একটি ঋতু নয়, এটি বাঙালির মনন ও ঐতিহ্যের অংশ। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর যে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই ‘বসন্ত উৎসব’। সেই থেকে আজ অবধি বসন্ত বাঙালির জীবনে নিয়ে আসে নতুন জীবনীশক্তি। কবিগুরুর ভাষায় আজ সত্যিই— ‘ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। শিমুল-পলাশের রক্তিম আভা আর কোকিলের কুহুতান জানান দিচ্ছে, দখিনা দুয়ার খুলে গেছে।

বসন্তের দেশীয় আমেজের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে পশ্চিমা ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’। ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের স্মৃতি বিজড়িত এই দিন । স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, ভাইবোন কিংবা প্রিয় বন্ধুর সাথে ভালোবাসার বন্ধন ঝালিয়ে নেওয়ার দিন। ডিজিটাল যুগে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রামের ওয়ালে ওয়ালে এখন  শুভেচ্ছার বিনিময় চলে। প্রযুক্তির বুকে প্রকৃতির সেই আদিম সতেজতা থাকুক অম্লান।