স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ০৮:৫১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 55
কেশবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের সংস্কার কাজের জন্য এভাবেই বিটুমিন পোড়ানো হচ্ছে। এতে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে ওই এলাকার গোটা পরিবেশ। ছবি- অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের সংস্কার কাজের জন্য বিটুমিন পোড়ানোর জন্য মক্সিচার মেশিনের চুল্লী স্থাপন করা হয়েছে সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কেশবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। আর এতে বিটুমিন পোড়ানো বিষাক্ত ধোঁয়া, ধুলা ও শব্দদূষণে অসহনীয় হয়ে উঠেছে গোটা পরিবেশ। অবস্থা এমনই যে, শ্রেণিকক্ষের বাইরে এসে স্কুলের সামনে খোলা মাঠে স্কুলের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা একটু খেলাধুলাও করতে পারছে না। এমনকি শ্রেণিকক্ষে বসেও এই অবস্থা থেকে রেহাই মিলছে না তাদের। সেখানে থেকেও অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে তারা। গতকাল বুধবার স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স এনে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় সুস্থ্য করে তোলার জন্য।
জানা গেছে, গত প্রায় দুই সপ্তাহযাবত স্কুলের মাঠের সামনে মহাসড়ক সংস্কার কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারদের মিক্সচার মেশিনের বয়লার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বিটুমিন পুড়িয়ে পাথর মিশিয়ে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সড়ক সংস্কারের কাজে। আর এতে বয়লারের বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকায় পরিবেশের স্বাভাবিক বাতাস প্রবাহ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এর ফলে স্কুল মাঠে শিশুরা খেলাধুলা করতে পারছে না। তারা পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষে যেয়ে বসলে সেখানেও তাদের এই দূষিত বাতাসের কবলে পড়রেত হচ্ছে। এতে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। গতকাল এর তীব্রতা বৃদ্ধির পর নাদিয়া নামের পঞ্চম শ্রেণির মেয়েটি গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তাকে অ্যাম্বুলেন্স এনে হাসপাতালে নিতে হয়।
এদিকে, সন্তানদের স্কুলের পরিবেশের এই অবস্থা জানেত পেরে গতকাল স্কুলে হাজির হন অনেক অভিভাবক। তারা সরেজমিনে সেখানকার বায়ু দূষনের তীব্রতা প্রত্যক্ষ করে সন্তানদের স্কুল থেকে বাড়ি ফিরিয়ে নেন। এতে পাঠদানে চরম বিপত্তিতে পড়তে হয় শিক্ষকদের।
সংশ্লিষ্ট অভিভা্বকেরা জানান, গত প্রায় ১৪ দিনযাবত স্কুল মাঠের সামনে এই বিটুমিন পোড়ানোর বয়লার বসিয়ে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি তাদেরকে জানানোর পরে তারা স্কুলের শিক্ষকদের জানিয়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়ে অদ্যাবধি ওই বিটুমিন পোড়ানোর বয়লার সেখান থেকে সরানো হয়নি। এর ফলে তারা পরিবেশের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত আর সন্তানদের স্কুলে দিতে চাইছেন না।
এব্যাপারে কেশবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের স্কুলের সামনে এভাবে ধুলা, ধোঁয়া ও শব্দদূষণে আমাদের প্রচন্ড ক্ষতি হচ্ছে এবং অনেক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অভিভাবেকদের নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হচ্ছি। অনেক মা আসছেন, বাবা আসছেন, তারা বলছেন তাদের বাচ্চাদের স্কুলে রাখবেন না, বাসায় নিয়ে যাবেন। ছেলেমেয়েরা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি। এই অবস্থা চলতে থাকলে ছেলেমেয়েরাও আর উৎসাহ নিয়ে স্কুলে আসতে চাইবে না। তিনি এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।













