Bangladesh ০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?

ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার তদন্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 606

ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার মাধ্যমে জেলার একটি সরকারি দপ্তর থেকে দুই দফায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিচার ও প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা একজন ছাত্র প্রতিনিধি ও একজন ঠিকাদারকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানান এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

বুধবার (১০ জুন) বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে চব্বিশের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি মো: সাব্বির হোসেন বলেন, চব্বিশে আন্দোলনের পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ এলএ শাখার একজন সার্ভেয়ারের দুর্নীতির বিষয়ে তাদের নিকট কিছু তথ্য দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি জানতে একবারই ওই সার্ভেয়ারের নিকট থেকে বিষয়টি জানতে ওই অফিসে গিয়েছিলেন।

কিন্তু তারপরে তাদের নাম ভাঙিয়ে আনিচুর রহমান নামে একজন সাংবাদিক পরিচয়ে তার আরো দুই তিনজন সহযোগী নিয়ে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন।
এ বিষয় জানাজানির পরে অনেকে ফোন করে আমার নিকট সত্যতা জানতে চায়। তখন তৎকালীন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিদের নেতৃস্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ওই সার্ভেয়ারকে ডেকে আনা হয়।
তখন সবার সামনে ওই সার্ভেয়ার স্বীকার করেন যে, আনিচুর ও তার সাথে থাকা আরো দু’তিনজন তার নিকট থেকে প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই দুর্নীতির অভিযোগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিকট থেকে তাঁকে রক্ষা করতে।

সাব্বির বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে পরে আমি সবার সামনে খারাপ হিসেবে সন্দেহের চোখে পড়ে যাই। একপর্যায়ে পারিবারিক ও সামাজিক হেনেস্তার শিকার হয়ে ফরিদপুর ছেড়ে অপমানে আমি ঢাকায় যেয়ে একটি চাকরিতে যোগ দেই। এরপর গত কোরবানির ঈদের সময় ছুটিতে বাড়ি আসার পরে আমি আনিচুরকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তার স্ত্রী অসুস্থ বলে এড়িয়ে যান। পরে ঘটনার দিন গত ২০ মে আনিচুর তাকে ডেকে ডায়াবেটিক হাসপাতালের দশতলায় যেতে বলেন। তবে বন্ধুরা তাকে সতর্ক করে এটি কোন ফাঁদ হতে পারে বলে হাসপাতালের দশতলায় যেতে নিষেধ করেন। পরে হাসপাতালের নিচে যেয়ে আনিচুরের সাথে তার কথা হয়।

এসময় আনিচুর তার কাঁধে হাত রেখে তার মোবাইল কললিস্ট ওপেন করে ফরিদপুরের দুইজন এমপি এবং একজন শীর্ষ পদধারী যুবদল নেতার সাথে তার কথোপকথনের নম্বর দেখান।
সাব্বির বলেন, আনিচুর এই নম্বরগুলো দেখিয়ে তাকে বলেন যে- তাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং তারা তার অসুস্থ স্ত্রীর বিষয়ে খোঁজখবর জানতে তাকে ফোন করেছিলেন। সাব্বির যেনো তাকে এনিয়ে আর কোন ডিস্টার্ব না করে। একথা বলার পরপরই তিনি আনিচুরকে থাপ্পড় মারেন। তারপর সে দৌড়ে পালায়।

সাব্বির বলেন, এ ঘটনার তিনদিন পরে তার বিরুদ্ধে যেই মিথ্যা মামলার বরাতে সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। তিনি বলেন, মামলায় যাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে, সেই ঠিকাদার আবু সাইদকে তিনি চিনেনই না। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমাকে গোটা সাংবাদিক সমাজের শত্রু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারাই সৎ সাংবাদিকদের শত্রু। আমি এর বিচার চাই। পুলিশ ও প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করছি, আপনারা বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে এই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তদন্তে যদি আমার অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেব।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র সোহেল, নাদিম, সালাউদ্দিন, রাতুল, মিঠু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবিতে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার তদন্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৪:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার মাধ্যমে জেলার একটি সরকারি দপ্তর থেকে দুই দফায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজির সাথে জড়িতদের বিচার ও প্রকৃত ঘটনা তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা একজন ছাত্র প্রতিনিধি ও একজন ঠিকাদারকে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানান এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি করেন।

বুধবার (১০ জুন) বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে চব্বিশের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি মো: সাব্বির হোসেন বলেন, চব্বিশে আন্দোলনের পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ এলএ শাখার একজন সার্ভেয়ারের দুর্নীতির বিষয়ে তাদের নিকট কিছু তথ্য দেওয়া হয়। তিনি বিষয়টি জানতে একবারই ওই সার্ভেয়ারের নিকট থেকে বিষয়টি জানতে ওই অফিসে গিয়েছিলেন।

কিন্তু তারপরে তাদের নাম ভাঙিয়ে আনিচুর রহমান নামে একজন সাংবাদিক পরিচয়ে তার আরো দুই তিনজন সহযোগী নিয়ে দুই দফায় প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন।
এ বিষয় জানাজানির পরে অনেকে ফোন করে আমার নিকট সত্যতা জানতে চায়। তখন তৎকালীন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিদের নেতৃস্থানীয় কয়েকজনের উপস্থিতিতে ওই সার্ভেয়ারকে ডেকে আনা হয়।
তখন সবার সামনে ওই সার্ভেয়ার স্বীকার করেন যে, আনিচুর ও তার সাথে থাকা আরো দু’তিনজন তার নিকট থেকে প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই দুর্নীতির অভিযোগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের নিকট থেকে তাঁকে রক্ষা করতে।

সাব্বির বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে পরে আমি সবার সামনে খারাপ হিসেবে সন্দেহের চোখে পড়ে যাই। একপর্যায়ে পারিবারিক ও সামাজিক হেনেস্তার শিকার হয়ে ফরিদপুর ছেড়ে অপমানে আমি ঢাকায় যেয়ে একটি চাকরিতে যোগ দেই। এরপর গত কোরবানির ঈদের সময় ছুটিতে বাড়ি আসার পরে আমি আনিচুরকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তার স্ত্রী অসুস্থ বলে এড়িয়ে যান। পরে ঘটনার দিন গত ২০ মে আনিচুর তাকে ডেকে ডায়াবেটিক হাসপাতালের দশতলায় যেতে বলেন। তবে বন্ধুরা তাকে সতর্ক করে এটি কোন ফাঁদ হতে পারে বলে হাসপাতালের দশতলায় যেতে নিষেধ করেন। পরে হাসপাতালের নিচে যেয়ে আনিচুরের সাথে তার কথা হয়।

এসময় আনিচুর তার কাঁধে হাত রেখে তার মোবাইল কললিস্ট ওপেন করে ফরিদপুরের দুইজন এমপি এবং একজন শীর্ষ পদধারী যুবদল নেতার সাথে তার কথোপকথনের নম্বর দেখান।
সাব্বির বলেন, আনিচুর এই নম্বরগুলো দেখিয়ে তাকে বলেন যে- তাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ হয় এবং তারা তার অসুস্থ স্ত্রীর বিষয়ে খোঁজখবর জানতে তাকে ফোন করেছিলেন। সাব্বির যেনো তাকে এনিয়ে আর কোন ডিস্টার্ব না করে। একথা বলার পরপরই তিনি আনিচুরকে থাপ্পড় মারেন। তারপর সে দৌড়ে পালায়।

সাব্বির বলেন, এ ঘটনার তিনদিন পরে তার বিরুদ্ধে যেই মিথ্যা মামলার বরাতে সাংবাদিকদের উপর হামলার খবর বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে, তার সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। তিনি বলেন, মামলায় যাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে, সেই ঠিকাদার আবু সাইদকে তিনি চিনেনই না। একটি সংঘবদ্ধ চক্রের ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রতিবাদ করতে যেয়ে আমাকে গোটা সাংবাদিক সমাজের শত্রু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারাই সৎ সাংবাদিকদের শত্রু। আমি এর বিচার চাই। পুলিশ ও প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করছি, আপনারা বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে এই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তদন্তে যদি আমার অপরাধ প্রমাণিত হয়, আমি যেকোন শাস্তি মাথা পেতে নেব।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র সোহেল, নাদিম, সালাউদ্দিন, রাতুল, মিঠু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা এ ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবিতে জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।