বোয়ালমারী-সালথা সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষে আহত ৩০, আটক ২
- আপডেট সময় : ০৭:১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / 102
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ছবি- দৈনিক অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও সালথা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত চারদিন লাগাতার হামলা, সংঘর্ষ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে গতকাল রোববার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার সকালেও ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। পুলিশ ২জনকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মাতুব্বর এবং সালথা উপজেলার খাড়দিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ মানবতাবিরোধী মামলার সাজা স্থগিত হওয়া মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ছেলে। অপরদিকে, মান্নান মাতুব্বর খাড়দিয়ার মাওলানা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন। তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বৈরিতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে মামলা মাথায় নিয়ে মাওরানা আবুল কালাম আজাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে মান্নান মাতুব্বর ময়েনদিয়া বাজারের উপর একাধিপত্য গড়ে তুলেন। তবে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি নেতা মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ এলাকায় ফিরে আসেন। সেই থেকে মাঝেমধ্যেই এই দুই দলের মধ্যে হামলা-মামলা ও সংঘর্ষ চলছে। স্থানীয় বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, গত শুক্রবার ময়েনদিয়া দাইপাড়া এলাকায় একটি দোকানে হামলার পরেরদিন হামলায় সোলায়মান নামে এক যুবদল নেতা আহত হন। সোলায়মানকে উদ্ধার করে একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়ার সময় সেখানেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল অপরপক্ষ হামলা চালায়। এতে সোলায়মান ও মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ আহত হন। গুরুতর আহত সোলায়মানকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় যুবদল নেতা মাহবুব হাসান সজিব বলেন, শনিবার মান্নান মাতুব্বরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে জিহাদ ও সোলায়মান আহত হন। তবে এসব বিষয়ে জানতে আব্দুল মান্নান মাতুব্বর ও তার সমর্থক সালথার তারা মিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে, শনিবারের এই হামলার জের ধরে গত রোববার বিকেল ৪টার দিকে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকেল থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০-৩৫জন জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইজাজ আহমেদ শাওন বলেন, রোববার সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকজন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আসার পর তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে রোববার রাতের সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধুলজোড়া ব্রিজ এলাকায় আবারও দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বেলা ১২টার দিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রকিবুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান ও বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
টানা কয়েক দিনের হামলা, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় ময়েনদিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষ শুরু হতে পারে-এমন আশঙ্কায় অনেকে দোকানপাট খোলা নিয়েও উদ্বিগ্ন তারা। স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, রাজনৈতিক প্রভাব ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেেএই বিরোধে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজনও এতে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে পরিস্থিতি আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে জানতে চেইলে তিনি বলেন, মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পরে দুইপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে দুই উপজেলার প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

















