Bangladesh ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে একই সাথে দুটি ইউনিয়নের আহ্বায়ক করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

১ ঘণ্টাতেই স্থগিত বোয়ালমারীর ৯ ইউনিয়ন বিএনপির ঘোষিত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 102

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে একই সাথে দুটি ইউনিয়নের আহ্বায়ক করে গঠন করা হয় কমিটি। ছবি- অগ্নিপ্রহর

ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে স্থগিত করা হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি। গত সোমবার রাত সোয়া ১০টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি প্রকাশ করা হয়। তবে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটিগুলো স্থগিতের কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গুণবহা ইউনিয়নের সম্মেলন আগে থেকেই স্থগিত রয়েছে। অবশিষ্ট ৯টি ইউনিয়নে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও সেখানে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়— প্রতিটি কমিটিতে একজন করে আহ্বায়ক রাখা হলেও কোনো যুগ্ম আহ্বায়ক বা সদস্যসচিবের পদ রাখা হয়নি; বাকি ৩০ জনকেই সদস্য করা হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপির গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ পদধারীদের ইউনিয়ন পর্যায়ের আহ্বায়ক করা হয়েছে, যাদের অনেকে আবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাও নন। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে একই সাথে দুটি ইউনিয়নের (পরমেশ্বরদী ও দাদপুর) আহ্বায়ক করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

ঘোষিত ওই কমিটিতে শেখর ইউনিয়নে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইকবাল ঠাকুর পিন্টু, চতুল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুজ্জামান শাহীন, ঘোষপুর ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ময়না ইউনিয়নে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি খান আতাউর রহমান, সাতৈর ইউনিয়নে কৃষকদলের সভাপতি লুৎফর রহমান, সদর ইউনিয়নে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম সম্রাট এবং রূপাপাত ইউনিয়নে আকরাম হোসেন মিয়াকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল।

কমিটি প্রকাশের পর তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোয়ালমারী বিএনপি এখন খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। তিল তিল করে গড়ে ওঠা দলকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।” ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক বোরহান উদ্দিন খান সৈকত বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “তাদের হঠকারিতায় পুরো উপজেলার বিএনপি ধ্বংসের প্রান্তে।” মহিলা দল নেত্রী মুন্নি রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন হাস্যকর ও অবাস্তব কমিটি কোথাও দেখিনি, যেখানে সদস্যসচিবের কোনো পদই রাখা হয়নি।” পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ নিউটন ও যুবদল নেতা মো. সামিউল হকসহ অনেকেই এই উদ্যোগকে গঠনতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপ দাগেন।

সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, “প্রকৃতপক্ষে এটি আহ্বায়ক কমিটি নয়, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি হওয়ার কথা ছিল। ভুলবশত ‘আহ্বায়ক কমিটি’ লেখা হয়েছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে কাউন্সিল সম্পন্ন করার স্বার্থেই উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভুলটি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে।” অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ “অনিবার্য কারণ” দর্শিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন জানান, সাংগঠনিক ত্রুটি নজরে আসার পরই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই জেলা বিএনপির একটি সাংগঠনিক টিম বোয়ালমারীতে সরেজমিনে গিয়ে নিয়মানুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের ব্যবস্থা নেবে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে একই সাথে দুটি ইউনিয়নের আহ্বায়ক করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

১ ঘণ্টাতেই স্থগিত বোয়ালমারীর ৯ ইউনিয়ন বিএনপির ঘোষিত কমিটি

আপডেট সময় : ১০:০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ঘোষণার মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্কের মুখে স্থগিত করা হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি। গত সোমবার রাত সোয়া ১০টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কমিটি প্রকাশ করা হয়। তবে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটিগুলো স্থগিতের কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে গুণবহা ইউনিয়নের সম্মেলন আগে থেকেই স্থগিত রয়েছে। অবশিষ্ট ৯টি ইউনিয়নে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও সেখানে এক অদ্ভুত চিত্র দেখা যায়— প্রতিটি কমিটিতে একজন করে আহ্বায়ক রাখা হলেও কোনো যুগ্ম আহ্বায়ক বা সদস্যসচিবের পদ রাখা হয়নি; বাকি ৩০ জনকেই সদস্য করা হয়েছে। তা ছাড়া বিএনপির গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ পদধারীদের ইউনিয়ন পর্যায়ের আহ্বায়ক করা হয়েছে, যাদের অনেকে আবার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাও নন। বিশেষ করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহাকে একই সাথে দুটি ইউনিয়নের (পরমেশ্বরদী ও দাদপুর) আহ্বায়ক করার বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

ঘোষিত ওই কমিটিতে শেখর ইউনিয়নে পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জহিরুল ইকবাল ঠাকুর পিন্টু, চতুল ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুজ্জামান শাহীন, ঘোষপুর ইউনিয়নে নজরুল ইসলাম, ময়না ইউনিয়নে পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি খান আতাউর রহমান, সাতৈর ইউনিয়নে কৃষকদলের সভাপতি লুৎফর রহমান, সদর ইউনিয়নে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম সম্রাট এবং রূপাপাত ইউনিয়নে আকরাম হোসেন মিয়াকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল।

কমিটি প্রকাশের পর তৃণমূলের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মিনাজুর রহমান লিপন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোয়ালমারী বিএনপি এখন খন্দকার নাসিরুল ইসলামের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে। তিল তিল করে গড়ে ওঠা দলকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে।” ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক বোরহান উদ্দিন খান সৈকত বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, “তাদের হঠকারিতায় পুরো উপজেলার বিএনপি ধ্বংসের প্রান্তে।” মহিলা দল নেত্রী মুন্নি রহমান বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমন হাস্যকর ও অবাস্তব কমিটি কোথাও দেখিনি, যেখানে সদস্যসচিবের কোনো পদই রাখা হয়নি।” পাশাপাশি সাবেক ছাত্রদল নেতা সাহাবুদ্দিন আহমেদ নিউটন ও যুবদল নেতা মো. সামিউল হকসহ অনেকেই এই উদ্যোগকে গঠনতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোপ দাগেন।

সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সাহা বলেন, “প্রকৃতপক্ষে এটি আহ্বায়ক কমিটি নয়, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি হওয়ার কথা ছিল। ভুলবশত ‘আহ্বায়ক কমিটি’ লেখা হয়েছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে কাউন্সিল সম্পন্ন করার স্বার্থেই উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ভুলটি দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়েছে।” অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম সিরাজ “অনিবার্য কারণ” দর্শিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন জানান, সাংগঠনিক ত্রুটি নজরে আসার পরই কমিটি স্থগিত করা হয়েছে এবং শিগগিরই জেলা বিএনপির একটি সাংগঠনিক টিম বোয়ালমারীতে সরেজমিনে গিয়ে নিয়মানুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের ব্যবস্থা নেবে।