Bangladesh ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ : তিন যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 120

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাদের কড়া পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) ও একই গ্রামের বাসিন্দা নাসির মোল্যা (৩৬)।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসে। খবর পেয়ে ছাত্রীটি সেখানে গেলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছবি তোলে। পাশবিক নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায়। অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানানোর পর ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

রায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

 

ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ : তিন যুবকের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ও ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন। পরে তাদের কড়া পুলিশ প্রহরায় ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী গ্রামের নাসির মোল্যা (২৬), ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লঙ্কারচর এলাকার সৈকত চন্দ্র (২৬) ও একই গ্রামের বাসিন্দা নাসির মোল্যা (৩৬)।

মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী স্থানীয় গোহাইলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ১ নম্বর আসামি নাসির মোল্যার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি রাত ৮ টার দিকে নাসির মোল্যা দেখা করার জন্য ওই ছাত্রীর বাড়ির কাছাকাছি জীবন মন্ডলের বাগানের কাছে আসে। খবর পেয়ে ছাত্রীটি সেখানে গেলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে মধুমতি নদীর তীরে থাকা একটি নৌকায় তুলে চরে নিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। এ সময় মোবাইল ফোনে সেই নৃশংস ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণ ও ছবি তোলে। পাশবিক নির্যাতনে ছাত্রীটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে তাকে নৌকায় করে নদীর পাড়ে এনে বাড়ির কাছে ফেলে রেখে যায়। অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রী বাড়ি ফিরে তার মা, বাবা ও স্বজনদের বিষয়টি জানানোর পর ২৯ জানুয়ারি বোয়ালমারী থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

রায়ের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ফলে সমাজে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে। আমরা এই রায়ে অত্যন্ত সন্তুষ্ট।