কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পরিবেশবান্ধব স্কুলব্যাগ ও জুতা বিতরণ
১৭ বছর শিক্ষাব্যবস্থায় চরম ধস নেমেছিল: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- / 69
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ এবং জুতা বিতরণ করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি- অগ্নিপ্রহর
গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং এই খাতে চরম ধস নেমেছিল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তবে অতীতের সেই অন্ধকার সময় পেরিয়ে বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছে বলে জানান তিনি। শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে আন্তর্জাতিক মানের জনশক্তিতে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই প্রতিমন্ত্রী।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে নিজের নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুলড্রেস, পরিবেশবান্ধব পাটের তৈরি স্কুলব্যাগ এবং জুতা বিতরণের লক্ষ্যে এই ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিশুদের হাতে নতুন শিক্ষা উপকরণ তুলে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।
অনুষ্ঠানে সমবেত শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধীসমাজের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শামা ওবায়েদ আগের সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা একটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে এবারের জাতীয় বাজেটে। শিক্ষাক্ষেত্রে এবার সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল শিক্ষিত হলেই চলবে না, সেই সঙ্গে কর্মসংস্থানেরও ব্যবস্থা করতে হবে। আমাদের সন্তানরা যেন কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মেধা ও দক্ষতার জোরে দেশে-বিদেশে কাজ করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সরকার সেই লক্ষ্যেই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইতিহাস স্মরণ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মেয়েদের জন্য প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক করে প্রতিটি ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারই যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ধারাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তিনি এই অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগকে আরও চার বছর বাড়িয়ে স্নাতক (গ্রাজুয়েশন) পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, সন্তানদের যদি সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয় এবং তাদের একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে হয়, তবে সবার আগে সমাজকে মাদকমুক্ত করতে হবে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে পাড়ায় পাড়ায় একটি শক্তিশালী মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের সন্তানদের ঠিকমতো পড়ার টেবিলে বসানোর দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। তারা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারে, সেজন্য পরিবার থেকেই সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. শাহিনুল ইসলামের সাবলীল সঞ্চালনায় এই মহতী অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা সুলতানা, সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আল ফাহাদ, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাশেম উদ্দিন। এছাড়াও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আছাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ এবং যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন ও হাসান আশরাফসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই আয়োজনে অংশ নেন।

















