গঙ্গা চুক্তি নবায়নে দিল্লির সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 21
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়াটি ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির পারস্পরিক গুরুত্ব বিবেচনা করে নয়াদিল্লি একটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় এই আলোচনার হালনাগাদ তথ্য জানান। শামা ওবায়েদ বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলেছে। চুক্তিটি নিয়ে দুই দেশই প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে এই মুহূর্তে আলোচনার সব কৌশলগত বা অভ্যন্তরীণ বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।”
বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন স্বার্থের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঙ্গার পানির তাৎপর্য এবং এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ অবগত। দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে নয়াদিল্লি ইতিবাচক সাড়া দেবে বলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময় ফুরিয়ে আসার আগেই বর্তমান সরকার অত্যন্ত সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ প্রতিনিধি দল ও টেকনিক্যাল কমিটি চুক্তি নবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আলোচনার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু এখন ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা এই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।”
শামা ওবায়েদ আরও মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি ভারতের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি এই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। দুই প্রতিবেশীর মধ্যে পানি বণ্টনের প্রধান আইনি কাঠামো হিসেবে এই চুক্তিটি ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যার পানি ব্যবস্থাপনা ও বণ্টনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ‘যৌথ নদী কমিশন’ (জেআরসি) একটি প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।














