০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

চৌর্যবৃত্তির সত্যতা পাওয়ায় অধ্যাপক রিদওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 15

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মোঃ রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময়ে জমাকৃত প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কর্তৃক পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ড. মো. রিদওয়াদুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ মিল থাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ড. মো: রিদওয়ানুল হক দুটি ইনস্টিটিউটে প্রবন্ধ জমা দেন। তার মধ্যে একটি প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যটি অধ্যাপক পদের জন্য প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়। যাচাই করে দেখা যায়, প্রবন্ধ দুটিতেই শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়ে। জানা যায়, প্রবন্ধে একটি শব্দ বাদে অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল শব্দের স্থলে বেসরকারি হাসপাতাল বসিয়ে শতভাগ কপি করেন তিনি। তখন তার বিরুদ্ধে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
এ নিয়ে অতীতে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের প্রভাবে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, সে সময় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার জন্য কমিটিকে প্রকাশ্যে প্রভাবিত করেছিলেন। অধ্যাপক রিদওয়ানকে শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়া প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ সময় একটা কথা চাউর হয় যে, অধ্যাপক রিদওয়ান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতকে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে শাস্তি থেকে রক্ষা পান।
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ এই অনিয়মসহ ড. রিদওয়ানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মতামত চায়। তখন বিজনেস অনুষদের ডিন এই অভিযোগকে গুরুতর বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য আছেন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে নতুন করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে অথবা সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য মতামত দেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মতামত চাইলে আইন উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মতামত প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে শনিবার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে তিনি নীল দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নীল দলের আইবিএ ইউনিটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট প্রদান ও দলীয় সভায় নিয়মিত উপস্থিত থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে নীল দলের ৭৬০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত বিবৃতির অন্যতম স্বাক্ষরদাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত একটি ‘কেস বুক’-এর সমন্বয়ক ও মূল লেখক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আইবিএ’র ৫ জন নারী সহকর্মী তার বিরুদ্ধে হেনস্তার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যা তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করার মতো গুরুতর অপরাধেও সিন্ডিকেট কর্তৃক তাকে কেবল সতর্কবার্তা দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে একই অভিযোগে অনেক শিক্ষকের চাকরিচ্যুতি ঘটেছে। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সময়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান তিনি। যদিও অভিযুক্ত এই শিক্ষকের ভাষ্য, বিগত সময়ে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।

 

শেয়ার করুন

চৌর্যবৃত্তির সত্যতা পাওয়ায় অধ্যাপক রিদওয়ানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় : ১২:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মোঃ রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে অধ্যাপক পদে আবেদনের সময়ে জমাকৃত প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি অধিকতর তদন্ত করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম কর্তৃক পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, ড. মো. রিদওয়াদুল হকের একজন মনোনীত প্রতিনিধি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় ড. রিদওয়ানুল হকের জমা দেওয়া দুটি গবেষণা প্রবন্ধের প্রায় শতভাগ মিল থাকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ড. মো: রিদওয়ানুল হক দুটি ইনস্টিটিউটে প্রবন্ধ জমা দেন। তার মধ্যে একটি প্রকাশিত হয়েছে এবং অন্যটি অধ্যাপক পদের জন্য প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়। যাচাই করে দেখা যায়, প্রবন্ধ দুটিতেই শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়ে। জানা যায়, প্রবন্ধে একটি শব্দ বাদে অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল শব্দের স্থলে বেসরকারি হাসপাতাল বসিয়ে শতভাগ কপি করেন তিনি। তখন তার বিরুদ্ধে একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়।
এ নিয়ে অতীতে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তার পদোন্নতি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তৎকালীন প্রশাসনের প্রভাবে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, সে সময় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবায়াত উল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার জন্য কমিটিকে প্রকাশ্যে প্রভাবিত করেছিলেন। অধ্যাপক রিদওয়ানকে শতভাগ চৌর্যবৃত্তি ধরা পড়া প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করার সুযোগ করে দেয়া হয়। এ সময় একটা কথা চাউর হয় যে, অধ্যাপক রিদওয়ান অধ্যাপক শিবলী রুবায়াতকে বিপুল পরিমাণ টাকার বিনিময়ে শাস্তি থেকে রক্ষা পান।
গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ এই অনিয়মসহ ড. রিদওয়ানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেয়। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর তৎকালীন প্রশাসন বিজনেস অনুষদের ডিনের কাছে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে মতামত চায়। তখন বিজনেস অনুষদের ডিন এই অভিযোগকে গুরুতর বলে অভিহিত করেন এবং অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য আছেন বলে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টার মতামত নিয়ে নতুন করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে অথবা সরাসরি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করার জন্য মতামত দেন। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইন উপদেষ্টার মতামত চাইলে আইন উপদেষ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক এবিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মতামত প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধ্যাপক ড. রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে শনিবার এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিগত সরকারের আমলে তিনি নীল দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নীল দলের আইবিএ ইউনিটের শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট প্রদান ও দলীয় সভায় নিয়মিত উপস্থিত থাকার প্রমাণও পাওয়া যায়। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল পুরস্কার প্রত্যাহারের দাবিতে নীল দলের ৭৬০ জন শিক্ষকের স্বাক্ষরিত বিবৃতির অন্যতম স্বাক্ষরদাতা ছিলেন তিনি। এছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে প্রকাশিত একটি ‘কেস বুক’-এর সমন্বয়ক ও মূল লেখক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আইবিএ’র ৫ জন নারী সহকর্মী তার বিরুদ্ধে হেনস্তার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, যা তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করার মতো গুরুতর অপরাধেও সিন্ডিকেট কর্তৃক তাকে কেবল সতর্কবার্তা দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে একই অভিযোগে অনেক শিক্ষকের চাকরিচ্যুতি ঘটেছে। ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিগত সময়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের প্রভাব খাটিয়ে এসব অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যান তিনি। যদিও অভিযুক্ত এই শিক্ষকের ভাষ্য, বিগত সময়ে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।