০১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

ফরিদপুরে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল: গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 24

ফরিদপুরে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে শহরে মশাল মিছিল বের করার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন- যুবলীগ নেতা খসরু ও আনন্দ ফকির।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় তাদের আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দিলে কোতয়ালী থানার এসআই বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ফোর্স তাদের থানায় নিয়ে আসে।

এব্যাপারে জানতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নম্বরে ফোন দিলে অন্য একটি কলে ব্যস্ত থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে এই মশাল মিছিলের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুবলীগ নেতা খসরু টাকা দিয়ে বিন্দুপাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের কিছু ছেলেদের ব্যবহার করে এই মিছিল বের করে। পরে খসরুকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সাথে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

শাহরিয়ার শিথীল বলেন, যুবলীঘ নেতা খসরুর সাথে টেলিগ্রাম গ্রুপে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জেলার সভাপতি শামীম হকের সাথেও তাদের যোগাযোগ ছিলো। শামীম হকের এক আত্মীয় তাদের সাথে এই সমন্বয় করতো। শিথীল বলেন, কমলাপুরের হাতকাটা আক্তার মাছের পোনার ব্যবসা করার সুবাদে বিন্দুপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী আনন্দ ফকিরের সাথে যোগাযোগ ছিলো। মাছ বিক্রির কথা বলে তারা বিন্দুপাড়ার কিছু দরিদ্র ছেলেপেলেদের ডেকে এনে হাতে মশাল ধরিয়ে দিয়ে এই মিছিল করে। এ ঘটনার পর খোঁজ নিয়ে আমরা এই মিছিলের অর্থ যোগানদাতা সহ সকল তথ্য জানতে পেরেছি।

জানা গেছে, এর আগে রোববার শহরের টেপাখোলা সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে জড়ো হয়ে দশ থেকে পনেরজন যুবক মশাল জ্বালিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি কিছু দুর এগোনোর পর তাদের ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর শহরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পাল্টা মিছিল বের করে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ট্রাকের পাশে তারা একে একে মশাল জ্বালিয়ে ব্যানার সহকারে মিছিল শুরু করে। এসময় তারা জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ভয় নাই- রাজপথ ছাড়ি নাই সব বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের ব্যানারে রেখা ছিলো- শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ব্যানারে দলীয় প্রধানের ছবিসহ কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের ছবি সম্বলিত ছিলো।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো- মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই বিন্দু সম্প্রদায়ের ছোট ছোট শিশু বালক। এরা কেউ জানতোই না তারা কোথায় যাচ্ছে কিংবা কোন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে কিনা! সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে মিছেলে নিয়ে আসা হয়।এতেই প্রমাণিত হয় আওয়ামিলীগ এখন দেউলিয়াত্বের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, তাদের কোন নেতাকর্মীই নেই তাদের ভাড়াটে মাদক ব্যবসায়ী এবং নিম্ন সম্প্রদায়ের অভাবগ্রস্থ লোকদেরকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে এখন ভাড়ায় দল চালানো হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল: গ্রেপ্তার ২

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থনে শহরে মশাল মিছিল বের করার ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন- যুবলীগ নেতা খসরু ও আনন্দ ফকির।

সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় তাদের আটক করে কোতয়ালী থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দিলে কোতয়ালী থানার এসআই বাশারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি ফোর্স তাদের থানায় নিয়ে আসে।

এব্যাপারে জানতে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নম্বরে ফোন দিলে অন্য একটি কলে ব্যস্ত থাকায় তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের এই নেতা জানান, আওয়ামী লীগের ব্যানারে এই মশাল মিছিলের পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যুবলীগ নেতা খসরু টাকা দিয়ে বিন্দুপাড়ার জেলে সম্প্রদায়ের কিছু ছেলেদের ব্যবহার করে এই মিছিল বের করে। পরে খসরুকে জিজ্ঞাসাবাদে তার সাথে জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

শাহরিয়ার শিথীল বলেন, যুবলীঘ নেতা খসরুর সাথে টেলিগ্রাম গ্রুপে কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জেলার সভাপতি শামীম হকের সাথেও তাদের যোগাযোগ ছিলো। শামীম হকের এক আত্মীয় তাদের সাথে এই সমন্বয় করতো। শিথীল বলেন, কমলাপুরের হাতকাটা আক্তার মাছের পোনার ব্যবসা করার সুবাদে বিন্দুপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী আনন্দ ফকিরের সাথে যোগাযোগ ছিলো। মাছ বিক্রির কথা বলে তারা বিন্দুপাড়ার কিছু দরিদ্র ছেলেপেলেদের ডেকে এনে হাতে মশাল ধরিয়ে দিয়ে এই মিছিল করে। এ ঘটনার পর খোঁজ নিয়ে আমরা এই মিছিলের অর্থ যোগানদাতা সহ সকল তথ্য জানতে পেরেছি।

জানা গেছে, এর আগে রোববার শহরের টেপাখোলা সরকারি ইয়াছিন কলেজের সামনে জড়ো হয়ে দশ থেকে পনেরজন যুবক মশাল জ্বালিয়ে মিছিল বের করে। মিছিলটি কিছু দুর এগোনোর পর তাদের ধাওয়া করলে মিছিলকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনার পর শহরে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল পাল্টা মিছিল বের করে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ট্রাকের পাশে তারা একে একে মশাল জ্বালিয়ে ব্যানার সহকারে মিছিল শুরু করে। এসময় তারা জয়বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ভয় নাই- রাজপথ ছাড়ি নাই সব বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের ব্যানারে রেখা ছিলো- শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ব্যানারে দলীয় প্রধানের ছবিসহ কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি শামীম হক ও সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আরিফের ছবি সম্বলিত ছিলো।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার শিথীল বলেন, উদ্বেগের বিষয় হলো- মিছিলে অংশগ্রহণকারী সকলেই বিন্দু সম্প্রদায়ের ছোট ছোট শিশু বালক। এরা কেউ জানতোই না তারা কোথায় যাচ্ছে কিংবা কোন অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে কিনা! সামান্য টাকার লোভ দেখিয়ে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে মিছেলে নিয়ে আসা হয়।এতেই প্রমাণিত হয় আওয়ামিলীগ এখন দেউলিয়াত্বের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, তাদের কোন নেতাকর্মীই নেই তাদের ভাড়াটে মাদক ব্যবসায়ী এবং নিম্ন সম্প্রদায়ের অভাবগ্রস্থ লোকদেরকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে এখন ভাড়ায় দল চালানো হচ্ছে।