০৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

বিভাগ আছে পদ নেই : শিক্ষক নিয়োগ হয়নি ১৫ বছরেও

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / 21

বিভাগ চালু হওয়ার দেড় দশক তথা ১৫ বছর পার হলেও তৈরি হয়নি কোনো স্থায়ী শিক্ষকের পদ। ফলে অতিথি এবং খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়েই চলছে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের  ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষা কার্যক্রম। এতে একদিকে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রয়েছেন বিপাকে, অন্যদিকে এই ডিপার্টমেন্টে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হারও কমতে শুরু করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ফিন্যান্স বিষয়ে অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়। এর পাঁচ বছর পর, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হয় মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স। অনার্স ও মাস্টার্স চালুর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত এই বিভাগে কোনো স্থায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং) বিভাগের দু’জন অতিথি শিক্ষক এবং দু’জন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে এই বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা।

এদিকে স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় এই বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দ্রুত কমছে। যার প্রভাব পড়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায়। অফিস রেকর্ড অনুযায়ী, ফিন্যান্স বিভাগে অনার্সে মোট আসন রয়েছে ২১৫টি। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৮ জন শিক্ষার্থী—যা মোট আসনের এক-চতুর্থাংশও নয়। ভর্তির এই নিম্নমুখী হার হঠাৎ করে নয়, বরং গত ৩-৪ বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এবিষয়ে কলেজের ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক না থাকায় বেশিরভাগ দিনেই তাদের ক্লাস হয়না। ক্লাস করার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাদের প্রায়ই শুনতে হয়, আজ স্যার আসবেন না তাই ক্লাস হবেনা। ফলে কলেজে গেলেও তাদের আর ক্লাস করা হয়ে উঠেনা। ওই শিক্ষার্থী জানান, এই সমস্যা চতুর্থ বর্ষে এসে খুবই প্রকট হয়ে উঠেছে।

জানতে চাইলে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কলেজের ফিন্যান্স বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত বছরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি। এদিকে সেমিনারে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় আমরা যে নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক নেব, সেই উপায়ও এখন আর নেই।’

এ বিষয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেও কলেজের তৎকালীন প্রশাসন স্থায়ী পদের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছিল। আশা করছি এ সমস্যার সমাধান হবে।

শেয়ার করুন

বিভাগ আছে পদ নেই : শিক্ষক নিয়োগ হয়নি ১৫ বছরেও

আপডেট সময় : ০৯:২৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বিভাগ চালু হওয়ার দেড় দশক তথা ১৫ বছর পার হলেও তৈরি হয়নি কোনো স্থায়ী শিক্ষকের পদ। ফলে অতিথি এবং খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়েই চলছে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের  ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’ ডিপার্টমেন্টের শিক্ষা কার্যক্রম। এতে একদিকে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা রয়েছেন বিপাকে, অন্যদিকে এই ডিপার্টমেন্টে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির হারও কমতে শুরু করেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ফিন্যান্স বিষয়ে অনার্স (সম্মান) কোর্স চালু করা হয়। এর পাঁচ বছর পর, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চালু হয় মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স। অনার্স ও মাস্টার্স চালুর পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত এই বিভাগে কোনো স্থায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। বর্তমানে হিসাববিজ্ঞান (অ্যাকাউন্টিং) বিভাগের দু’জন অতিথি শিক্ষক এবং দু’জন খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে এই বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা।

এদিকে স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় এই বিভাগের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দ্রুত কমছে। যার প্রভাব পড়েছে চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায়। অফিস রেকর্ড অনুযায়ী, ফিন্যান্স বিভাগে অনার্সে মোট আসন রয়েছে ২১৫টি। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২৮ জন শিক্ষার্থী—যা মোট আসনের এক-চতুর্থাংশও নয়। ভর্তির এই নিম্নমুখী হার হঠাৎ করে নয়, বরং গত ৩-৪ বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এবিষয়ে কলেজের ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষক না থাকায় বেশিরভাগ দিনেই তাদের ক্লাস হয়না। ক্লাস করার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাদের প্রায়ই শুনতে হয়, আজ স্যার আসবেন না তাই ক্লাস হবেনা। ফলে কলেজে গেলেও তাদের আর ক্লাস করা হয়ে উঠেনা। ওই শিক্ষার্থী জানান, এই সমস্যা চতুর্থ বর্ষে এসে খুবই প্রকট হয়ে উঠেছে।

জানতে চাইলে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কলেজের ফিন্যান্স বিভাগে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের জন্য গত বছরেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্থায়ী শিক্ষকের পদ সৃষ্টির আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি। এদিকে সেমিনারে পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় আমরা যে নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত খণ্ডকালীন শিক্ষক নেব, সেই উপায়ও এখন আর নেই।’

এ বিষয়ে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম আব্দুল হালিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আমার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বেও কলেজের তৎকালীন প্রশাসন স্থায়ী পদের অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছিল। আশা করছি এ সমস্যার সমাধান হবে।