সংসদে বাজেট বক্তৃতার পর আলোচনায় জীবা আমিনা
- আপডেট সময় : ০২:১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / 7
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাজেট নিয়ে বক্তব্য দিয়ে সকলের নজর কেড়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য জীবা আমিনা খান। ইংরেজি ও বাংলার মিশ্রণে দেওয়া তার এই বক্তব্যটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনেকে ট্রলও করছেন। এরপরই মানুষের কৌতুহল তৈরি হয় তাঁকে নিয়ে। তার রাজনৈতিক ও পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্যের সমালোচনার জবাবে সংসদে বাজেট বক্তৃতায় জীবা আমিনা খান বলেন, ‘উই হ্যাভ সিক্সটিন হান্ড্রেড থাউজেন্ড অব কাঁচা রাস্তাজ’ (We have sixteen hundred thousand of কাঁচা রাস্তাজ)। তিনি আরও বলেন, ‘দ্য রাস্তাস আর ইন আ ভেরি ভেরি ব্যাড সিচুয়েশন। দিস ইজ ডিউ টু দ্য দুর্নীতিস দ্যাট উই হ্যাভ সিন ইন… ফ্রম দ্য প্রিভিয়াস রেজিম। দে হ্যাভ লুটেড, লিটারালি লুটেড দ্য কান্ট্রি।’ ইংরেজি বাক্য বলার মাঝে ‘কাঁচা রাস্তাজ’, ‘রাস্তাস’ এবং ‘দুর্নীতিস’ শব্দগুলোর ব্যবহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। একটি গোলাপি রঙের শাড়ি পড়ে জীবা আমীনা সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন। তবে এটি শাড়ি নাকি অন্য কোন পোষাক তা নিয়েও অনেকের জানতে চান।
জীবা আমিনা খান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসন–১২ এর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। এর আগে তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমির হোসেন আমুর কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের এপ্রিলে তিনি বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হন।
অবশ্য গত ২০ এপ্রিল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর থেকেই নানা বিতর্ক সামনে আসে। তার বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব, সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৩৫ লাখ টাকা খেলাপি, ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন এবং প্রকৃত আয় গোপনের লিখিত অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগকারী নিজে প্রার্থী না হওয়ায় আপিলটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তার বিরুদ্ধে তৎকালীন স্বামী মুকাররম হোসাইনের অ্যাপার্টমেন্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং গৃহকর্মীদের জিম্মি করার অভিযোগে মামলা হয়েছিল।
ঝালকাঠি সদর উপজেলায় জন্ম নেওয়া জীবা আমিনা খানের পিতা আখতার উদ্দিন আহমদ ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা এবং ১৯৭১ সালের মালেক মন্ত্রিসভার সদস্য।
ব্যক্তিগত জীবনে জীবা আমিনা খান ১৯৮৩ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে নিয়াজ বিন করিমকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সাবেক সভাপতি মুকাররম হোসাইন খানকে বিয়ে করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বর্তমানে বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘চিলড্রেন প্যারাডাইস’-এর সাথে যুক্ত ছিলেন।















