০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুমির ও সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 42

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী যেসব দুর্গম নদীপথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। গত মার্চ মাসে বিএসএফের এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এই ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে স্থায়ী বেড়া নির্মাণ করা যাচ্ছে না। দিল্লির মতে, এই পথগুলো দিয়ে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ভারতের জনতাত্ত্বিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি মূলত ভারতীয় বাঙালি মুসলিমদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি ‘বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি’। তাদের অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে এবং এটি আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তের এসব নদীতে সাধারণত কুমির বা বিষধর সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নেই, ফলে তারা সেখানে টিকবে না। বন্যা বা পানির স্রোতে এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। এটি ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কুমির বা সাপ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা অসম্ভব। এই পদক্ষেপ প্রযুক্তিগতভাবে অচল এবং মানবিক দিক থেকে চরম নিষ্ঠুর।

পরিকল্পনাটি বর্তমানে বিএসএফের মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর বিবেচনাধীন রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৩২৩২.১৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। ৮৬৪ কিলোমিটারে এখনও বেড়া দেওয়া বাকি। এর মধ্যে আবার ১৭৪ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কুমির ও সাপ মোতায়েনের পরিকল্পনা

আপডেট সময় : ১১:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী যেসব দুর্গম নদীপথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ার এক বিতর্কিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ)। গত মার্চ মাসে বিএসএফের এক অভ্যন্তরীণ চিঠিতে এই ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের নদীপথ ও জলাভূমি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় সেখানে স্থায়ী বেড়া নির্মাণ করা যাচ্ছে না। দিল্লির মতে, এই পথগুলো দিয়ে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ ভারতের জনতাত্ত্বিক কাঠামোর জন্য হুমকি।

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এটি মূলত ভারতীয় বাঙালি মুসলিমদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি ‘বিচারবহির্ভূত পদ্ধতি’। তাদের অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে এবং এটি আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সীমান্তের এসব নদীতে সাধারণত কুমির বা বিষধর সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নেই, ফলে তারা সেখানে টিকবে না। বন্যা বা পানির স্রোতে এসব প্রাণী লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়লে দুই দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। এটি ওই অঞ্চলের প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুসংস্থানের ব্যাপক ক্ষতি করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কুমির বা সাপ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা অসম্ভব। এই পদক্ষেপ প্রযুক্তিগতভাবে অচল এবং মানবিক দিক থেকে চরম নিষ্ঠুর।

পরিকল্পনাটি বর্তমানে বিএসএফের মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর বিবেচনাধীন রয়েছে, যা ইতোমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের সচেতন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সীমান্ত রয়েছে ৪০৯৬.৭ কিলোমিটার। তার মধ্যে ৩২৩২.১৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে। ৮৬৪ কিলোমিটারে এখনও বেড়া দেওয়া বাকি। এর মধ্যে আবার ১৭৪ কিলোমিটারে বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়।