০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

সিঅ্যান্ডবি ঘাটে জাহাজের সুকানির রহস্যময় মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / 29

ফরিদপুরে বাকিয়ার রহমান সুমন (৪০) নামে জাহাজের এক সুকানির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি- পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। করেছে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ২৬ ঘন্টায়ও অভিযোগ না নেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

নিহত বাকিয়ার রহমান সুমন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের পুরাতন ধানাইড় গ্রামের মৃত ইমারউদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ‘আলতাফ শেখ’ নামের একটি জাহাজে সুকানি হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাটে ‘আলতাফ শেখ’ নামের ওই জাহাজ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারের পর বাকিয়ারকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে বিষয়টি ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা পুলিশকে জানায় এবং পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর লাশ মর্গে প্রেরণ করে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাজটির আব্বাস নামে এক স্টাফ তাদের ফোন করে জানায়- সুমন গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তারা হাসপাতালে পৌছেন এবং কোতয়ালী থানা পুলিশকে খবরটি জানান। পরে ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে লাশ নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

নিহতের মামা ওসিয়ার শেখ বলেন, গতকাল আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, আমার ভাগনে গলায় রশি নিয়ে মারা গেছে। আমি হাসপাতালে এসে দেখি সুমনের গলায় কোনো দাগ নেই, তবে মাথায় আঘাত রয়েছে, সেখান দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় রশি নেওয়ার কোনো চিহ্নও পাইনি। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওয়তায় আনার জোর দাবি জানাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত এক নার্স জানান, জরুরী বিভাগে তাকে নেওয়া হয়নি, সরাসরি মর্গে নেয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁদের খাতায়ও তার নাম রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে জানান তিনি।
নিহতের বোন আয়েশা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জাহাজটির মালিক মো. শুভ শেখ বলেন, গত বুধবার আমাকে ফোন দিয়ে জানায় জাহাজে ঝামেলা করতেছে, লোড দেয়া যাবেনা। এরপর থেকে সে ঘাটে না ভিড়িয়ে জাহাজ নিয়ে শুধু ঘুরতে থাকে। পরে আমি আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে জানায়- সুমন কি যেন খেয়ে মাতলামি করছে, জাহাজ ঘাটে নিচ্ছে না। এরপর আবারও তাকে ফোন দিলে আমাকে বলে, এক স্টাফ সিগারেটের সাথে কি যেন খাইয়েছে। এরপর দুপুরে জানতে পারি, জাহাজের ইঞ্জিনরুমের মধ্যে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছে সে। তাঁর গলায় কাপড় পেচানো ছিল এবং মাথা ফাটা ছিল। স্টাফরা আমাকে জানিয়েছে, ইঞ্জিনরুমে গলায় ফাঁস নিতে গিয়ে ১০ ফিট ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় তার। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন
(সদর সার্কেল) বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার এসেছিল অভিযোগ দিতে। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের আগেই কাউকে হয়রানি করাটা ঠিক হবেনা। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

সিঅ্যান্ডবি ঘাটে জাহাজের সুকানির রহস্যময় মৃত্যু: পরিবারের দাবি হত্যাকাণ্ড

আপডেট সময় : ০১:৩০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ফরিদপুরে বাকিয়ার রহমান সুমন (৪০) নামে জাহাজের এক সুকানির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি- পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। করেছে বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিতে গেলে ২৬ ঘন্টায়ও অভিযোগ না নেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

নিহত বাকিয়ার রহমান সুমন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের পুরাতন ধানাইড় গ্রামের মৃত ইমারউদ্দিন মোল্যার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ‘আলতাফ শেখ’ নামের একটি জাহাজে সুকানি হিসেবে কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাটে ‘আলতাফ শেখ’ নামের ওই জাহাজ থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধারের পর বাকিয়ারকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা এসে বিষয়টি ফরিদপুরের কোতয়ালী থানা পুলিশকে জানায় এবং পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর লাশ মর্গে প্রেরণ করে।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাহাজটির আব্বাস নামে এক স্টাফ তাদের ফোন করে জানায়- সুমন গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে দুপুর পৌনে দুইটার দিকে তারা হাসপাতালে পৌছেন এবং কোতয়ালী থানা পুলিশকে খবরটি জানান। পরে ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে লাশ নিয়ে তারা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

নিহতের মামা ওসিয়ার শেখ বলেন, গতকাল আমাকে ফোন করে জানানো হয় যে, আমার ভাগনে গলায় রশি নিয়ে মারা গেছে। আমি হাসপাতালে এসে দেখি সুমনের গলায় কোনো দাগ নেই, তবে মাথায় আঘাত রয়েছে, সেখান দিয়ে রক্ত বেরুচ্ছে। দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গলায় রশি নেওয়ার কোনো চিহ্নও পাইনি। আমরা এর সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওয়তায় আনার জোর দাবি জানাই।
বিষয়টি নিয়ে জানতে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বরত এক নার্স জানান, জরুরী বিভাগে তাকে নেওয়া হয়নি, সরাসরি মর্গে নেয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁদের খাতায়ও তার নাম রেজিস্ট্রি করা হয়নি বলে জানান তিনি।
নিহতের বোন আয়েশা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু এখন আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
জাহাজটির মালিক মো. শুভ শেখ বলেন, গত বুধবার আমাকে ফোন দিয়ে জানায় জাহাজে ঝামেলা করতেছে, লোড দেয়া যাবেনা। এরপর থেকে সে ঘাটে না ভিড়িয়ে জাহাজ নিয়ে শুধু ঘুরতে থাকে। পরে আমি আরেকজনের সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে জানায়- সুমন কি যেন খেয়ে মাতলামি করছে, জাহাজ ঘাটে নিচ্ছে না। এরপর আবারও তাকে ফোন দিলে আমাকে বলে, এক স্টাফ সিগারেটের সাথে কি যেন খাইয়েছে। এরপর দুপুরে জানতে পারি, জাহাজের ইঞ্জিনরুমের মধ্যে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে রয়েছে সে। তাঁর গলায় কাপড় পেচানো ছিল এবং মাথা ফাটা ছিল। স্টাফরা আমাকে জানিয়েছে, ইঞ্জিনরুমে গলায় ফাঁস নিতে গিয়ে ১০ ফিট ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় তার। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন
(সদর সার্কেল) বলেন, বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবার এসেছিল অভিযোগ দিতে। কিন্তু বিষয়টি তদন্তের আগেই কাউকে হয়রানি করাটা ঠিক হবেনা। তাই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’