০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
১০ বছর আগে সৈয়দপুর থেকে ফরিদপুরে আসে সরফরাজ বিহারির পরিবার

ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 149

Oplus_16908288

ফরিদপুর শহরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে জুয়েল মোল্যা (৪০) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ি সড়কের বিহারি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল ওই এলাকার মনিরউদ্দিন আনসারীর মেজ ছেলে।

হামলা ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন জুয়েলের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ভাই সোহেল মোল্যা ও মা রোকেয়া বেগম। আহত সোহেল মোল্যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত সরফরাজ বিহারি (৫০) ও তাঁর স্ত্রী মনি বেগমকে (৪৫) আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জুয়েলদের বাড়ির সামনে রশিতে কাপড় শুকাতে দেওয়া নিয়ে মনি বেগমের সঙ্গে জুয়েলের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর মনি বেগম বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করলে তাঁর স্বামী সরফরাজ এবং দুই ছেলে শাহরিয়ার (২৩) ও সিফাত (২০) লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে জুয়েলদের বাড়িতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা জুয়েলকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। চিৎকার শুনে মা ও ভাই এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েল ও সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, সরফরাজ বিহারির মূল বাড়ি সৈয়দপুরে। ১০ বছর আগে তিনি ফরিদপুরে এসে ভাঙারি ব্যবসা শুরু করেন। তিনি স্থানীয় আবুল কালাম আজাদের টিনশেড ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ ছিল।

নিহতের বোন তিন্নি বেগম অভিযোগ করেন, সরফরাজ তাদের জমি কিনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তারা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সরফরাজ ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করেন এবং তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় উশৃঙ্খলতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগেও থানায় একাধিক অভিযোগ ছিল। জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

শেয়ার করুন

১০ বছর আগে সৈয়দপুর থেকে ফরিদপুরে আসে সরফরাজ বিহারির পরিবার

ফরিদপুরে বিহারি কলোনিতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা, আহত মা ও ভাই

আপডেট সময় : ০৩:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর শহরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে জুয়েল মোল্যা (৪০) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে শহরের গোয়ালচামট মোল্যাবাড়ি সড়কের বিহারি কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জুয়েল ওই এলাকার মনিরউদ্দিন আনসারীর মেজ ছেলে।

হামলা ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন জুয়েলের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী ভাই সোহেল মোল্যা ও মা রোকেয়া বেগম। আহত সোহেল মোল্যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্ত সরফরাজ বিহারি (৫০) ও তাঁর স্ত্রী মনি বেগমকে (৪৫) আটক করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জুয়েলদের বাড়ির সামনে রশিতে কাপড় শুকাতে দেওয়া নিয়ে মনি বেগমের সঙ্গে জুয়েলের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর মনি বেগম বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ করলে তাঁর স্বামী সরফরাজ এবং দুই ছেলে শাহরিয়ার (২৩) ও সিফাত (২০) লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে জুয়েলদের বাড়িতে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা জুয়েলকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। চিৎকার শুনে মা ও ভাই এগিয়ে এলে তাদেরও কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা জুয়েল ও সোহেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, সরফরাজ বিহারির মূল বাড়ি সৈয়দপুরে। ১০ বছর আগে তিনি ফরিদপুরে এসে ভাঙারি ব্যবসা শুরু করেন। তিনি স্থানীয় আবুল কালাম আজাদের টিনশেড ঘরে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ ছিল।

নিহতের বোন তিন্নি বেগম অভিযোগ করেন, সরফরাজ তাদের জমি কিনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু জমি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তারা আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল। সেই ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সরফরাজ ওই এলাকায় ভাঙারি ব্যবসা করেন এবং তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে এলাকায় উশৃঙ্খলতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুপার জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আগেও থানায় একাধিক অভিযোগ ছিল। জড়িত দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।