০৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
তিনমাস ধরে চলাচল বন্ধ অতিব্যস্ত আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজে

বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর

আবরাব নাদিম ইতু
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 116

তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের অতি ব্যস্ত আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজ। প্রতিদিন ২০-২৫ হাজার মানুষের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। কাজ শেষ হতে বিলম্ব হওয়ায় আসন্ন ঈদে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ শীঘ্রই ব্রিজটি উন্মুক্ত করার আশ্বাস দিলেও স্থানীয়দের দাবি—সংস্কার নয়, চাই স্থায়ী ও প্রশস্ত সেতু।

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজ মেরামতের কাজ তিন মাস পার হলেও শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শহরের হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যেন ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুমার নদের ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি জেলা সদরের দুই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র—সরকারি তিতুমীর বাজার ও হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারকে সংযুক্ত করেছে। অনেকের কাছে এখন এটি লোহার ব্রিজ নামেও পরিচিত। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। বর্তমানে ব্রিজটি বন্ধ থাকায় শহরবাসীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে তৈরি করা নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপারে ভোগান্তি বাড়ছে। দুই বাজারের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এই আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজের উপর দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হতো। তবে ৮৮’র বন্যায় ব্রিজটি ধ্বসে যাওয়ার পরে সেখানে বেইলী ব্রিজ  র্মাণ করা হয়। গত ৩৭ বছর ধরে এটি সেই অস্থায়ী ব্রিজ-ই রয়ে গেছে। সেতুর অস্থায়ী কাঠামো মাঝেমধ্যে মেরামতের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদি কোন সমাধান হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করে এখনো যানবাহন চলাচল করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি এটি। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয় এই পথে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজমল শেখের মতে, এবার অন্তত ব্রীজটি আরো প্রশস্ত করা দরকার ছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘একেতো ব্রিজটি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে, তারপর আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক চাপা। যাতায়াতের পথে একে অপরের গা ঘেঁষে চলতে হয়। এতো বছরেও আমাদের দুর্ভোগ আর কমলই না।”

ইউনুস মিয়া নামে পঞ্চাশোর্ধ এক পথচারী বলেন, ‘‘এই ব্রিজটি দিয়ে অন্তত ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করতে পারলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে যেতো। কিন্তু কিইবা আর করার আছে! বাজার করতে এসে হাতে ব্যাগের বোঝা নিয়েই কষ্ট করে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হচ্ছে!’’

এবিষয়ে ফরিদপুর চকবাজার বণিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন বলেন, “কি কারণে মেরামত কাজ এতোদিন আটকে আছে তা বোধগম্য নয়। ঈদের আগে এটি চালু না হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমাদের দাবি ছিল একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু, কিন্তু এখন মেরামত করতেই দীর্ঘ সময় নেওয়া হচ্ছে।”

ঠিকাদারের প্রতিনিধি সুলতান জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।

এ বিষয়ে জানতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের বক্তব্য জানতে যেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তার অফিসে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বারবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সওজ ফরিদপুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ব্রিজটি প্রশস্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তবে চলমান সংস্কারে ব্রিজের প্রস্থ কমছে না, আগের মতোই থাকছে। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে স্থানটি পরিদর্শন করে গেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৫ সালে নির্মিত মূল সেতুটি ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধসে গেলে পরবর্তীতে সেখানে অস্থায়ী এই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তিন যুগ পরেও সেতুটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা না হওয়ায় সেটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

তিনমাস ধরে চলাচল বন্ধ অতিব্যস্ত আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজে

বেইলি ব্রিজ মেরামতে বিলম্ব: ঈদের আগেই চালুর দাবি ফরিদপুরবাসীর

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজ মেরামতের কাজ তিন মাস পার হলেও শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন শহরের হাজার হাজার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যেন ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া কুমার নদের ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি জেলা সদরের দুই প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র—সরকারি তিতুমীর বাজার ও হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারকে সংযুক্ত করেছে। অনেকের কাছে এখন এটি লোহার ব্রিজ নামেও পরিচিত। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। বর্তমানে ব্রিজটি বন্ধ থাকায় শহরবাসীকে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে তৈরি করা নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পারাপারে ভোগান্তি বাড়ছে। দুই বাজারের ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, একসময় এই আলীমুজ্জামান বেইলি ব্রিজের উপর দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হতো। তবে ৮৮’র বন্যায় ব্রিজটি ধ্বসে যাওয়ার পরে সেখানে বেইলী ব্রিজ  র্মাণ করা হয়। গত ৩৭ বছর ধরে এটি সেই অস্থায়ী ব্রিজ-ই রয়ে গেছে। সেতুর অস্থায়ী কাঠামো মাঝেমধ্যে মেরামতের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা হলেও তাতে দীর্ঘমেয়াদি কোন সমাধান হচ্ছে না। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করে এখনো যানবাহন চলাচল করার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি এটি। এতে বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হয় এই পথে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আজমল শেখের মতে, এবার অন্তত ব্রীজটি আরো প্রশস্ত করা দরকার ছিল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘‘একেতো ব্রিজটি জোড়াতালি দিয়ে করা হচ্ছে, তারপর আবার প্রয়োজনের তুলনায় অনেক চাপা। যাতায়াতের পথে একে অপরের গা ঘেঁষে চলতে হয়। এতো বছরেও আমাদের দুর্ভোগ আর কমলই না।”

ইউনুস মিয়া নামে পঞ্চাশোর্ধ এক পথচারী বলেন, ‘‘এই ব্রিজটি দিয়ে অন্তত ছোটখাটো যানবাহন চলাচল করতে পারলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই কমে যেতো। কিন্তু কিইবা আর করার আছে! বাজার করতে এসে হাতে ব্যাগের বোঝা নিয়েই কষ্ট করে এপার-ওপার যাতায়াত করতে হচ্ছে!’’

এবিষয়ে ফরিদপুর চকবাজার বণিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন বলেন, “কি কারণে মেরামত কাজ এতোদিন আটকে আছে তা বোধগম্য নয়। ঈদের আগে এটি চালু না হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। আমাদের দাবি ছিল একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু, কিন্তু এখন মেরামত করতেই দীর্ঘ সময় নেওয়া হচ্ছে।”

ঠিকাদারের প্রতিনিধি সুলতান জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।

এ বিষয়ে জানতে সড়ক ও জনপদ বিভাগ ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের বক্তব্য জানতে যেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তার অফিসে যেয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। বারবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সওজ ফরিদপুরের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, ব্রিজটি প্রশস্ত করার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তবে চলমান সংস্কারে ব্রিজের প্রস্থ কমছে না, আগের মতোই থাকছে। ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যে স্থানটি পরিদর্শন করে গেছেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৫ সালে নির্মিত মূল সেতুটি ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধসে গেলে পরবর্তীতে সেখানে অস্থায়ী এই বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু তিন যুগ পরেও সেতুটি স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা না হওয়ায় সেটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।