০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
আজ ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিলো স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 105

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও নারকীয় অধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশক পর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দিবসটি এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। এটি আমাদের সবার উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর থেকে এই দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পুনঃতদন্তের জন্য কমিশন গঠন: এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করবে সরকার। সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল।”

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানার দরবার হলে ‘বিডিআর সপ্তাহ’ চলাকালীন কিছু বিপথগামী সদস্য তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। দুইদিনব্যাপী তাদের নারকীয় কান্ডবে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান।

নিহতদের মরদেহ ম্যানহোল, ড্রেন এবং গণকবরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও চালানো হয়েছিল অমানবিক নির্যাতন। এটি ছিল বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে কোনো একক ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শহীদদের স্বজনরা আজও প্রকৃত নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার দাবি করে আসছেন। বর্তমান সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণায় সেই বিচারের প্রত্যাশা নতুন করে ডানা মেলছে।

শেয়ার করুন

আজ ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিলো স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা

আপডেট সময় : ১১:০৯:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ড’ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক ও নারকীয় অধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশক পর ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দিবসটি এবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। এটি আমাদের সবার উপলব্ধিতে থাকা জরুরি। হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।”

প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের পর থেকে এই দিনটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পুনঃতদন্তের জন্য কমিশন গঠন: এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিশন গঠন করবে সরকার। সচিবালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুনরায় কমিশন গঠন করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হবে এবং কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা হবে। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও ছিল।”

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে পিলখানার দরবার হলে ‘বিডিআর সপ্তাহ’ চলাকালীন কিছু বিপথগামী সদস্য তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ সেনা কর্মকর্তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। দুইদিনব্যাপী তাদের নারকীয় কান্ডবে ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন প্রাণ হারান।

নিহতদের মরদেহ ম্যানহোল, ড্রেন এবং গণকবরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপরও চালানো হয়েছিল অমানবিক নির্যাতন। এটি ছিল বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাসে কোনো একক ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা।

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও শহীদদের স্বজনরা আজও প্রকৃত নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার দাবি করে আসছেন। বর্তমান সরকারের তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণায় সেই বিচারের প্রত্যাশা নতুন করে ডানা মেলছে।