১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি
ইনকিলাব মঞ্চের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ফরিদপুরে
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 29
জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাতে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস থেকে। এছাড়া ঢাকায় আন্দোলনরতদের সঙ্গে একাত্মতা জানাতে সন্ধ্যায় ছাত্রদের একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে যায়। এ ঘটনায় এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ।
রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থাকা বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ অনেকে আহত হন। সংবাদ সংগ্রহ করতে যেয়ে আহত ও পুলিশের হামলার হয়েছেন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে হাদী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার বিকেলে তাৎক্ষণিকভাবে শহরের রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে প্রতিবাদ মিছিল বের করে জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মিছিলে জেলা সদস্যসচিব আনিসুর রহমান সজল, ইনামুল হোসেন চৌধুরী ও মুখপাত্র জেবা তাহসিনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য দেন। সন্ধ্যায় ফরিদপুর জেলা নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব সাকিব খান সাইফ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব সোহেল রানা, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হুদা এবং জুলাই যোদ্ধা হিমেল রাফসান খানের নেতৃত্বে একটি দল ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। রাতে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাস থেকে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কলেজের শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বায়তুলআমান রেলস্টেশন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ফরিদপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ ৫ আগস্ট পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের ধীরগতি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের গড়িমসি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ও মামলার আসামিরা প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামিদের তথ্য দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। পুলিশ অভিযানে গিয়ে কাউকে না পাওয়ার অজুহাত দিচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় বা বয়স্ক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে সংখ্যা বাড়াচ্ছে। কিন্তু যারা সরাসরি গুলি চালিয়েছে, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু নীতিহীন আইনজীবী এই অপরাধীদের জামিনের জন্য তদবির করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মাকাল ফলের’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “উপরে পরিবর্তন দেখা গেলেও রাষ্ট্রের ভেতরের জঞ্জাল এখনো দূর হয়নি। উপদেষ্টারা পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাদের হাতে অপরাধী দমনের মতো পর্যাপ্ত আইনি শক্তি নেই। একটি নির্বাচিত সরকার আসলে তবেই এই অপরাধীদের সঠিক বিচার সম্ভব হবে।” ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবিলা করার ইঙ্গিত দিয়ে কাজী রিয়াজ বলেন, যারা স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে এখনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।









