পূর্বাচল প্রকল্পের অন্য তিনটি দুর্নীতি মামলায় তাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়
পূর্বাচল প্লট বরাদ্দ দুর্নীতি মামলায় শেখ হাসিনার আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড
- আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 69
ঢাকার একটি বিশেষ আদালত সোমবার সরকারি আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির দুটি পৃথক মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুটি মামলায় অতিরিক্ত ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে অবৈধভাবে জমি বরাদ্দ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
একই রায়ে শেখ হাসিনার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, ভাগ্নী আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী এবং ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিককেও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই বর্তমানে পলাতক থাকায় তাদের অনুপস্থিতিতেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
গত বছরের নভেম্বরে পূর্বাচল প্রকল্পের অন্য তিনটি দুর্নীতি মামলায় তাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান জানান, পূর্বাচল প্রকল্পে অবৈধভাবে দুটি প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
মামলায় আদালত শেখ হাসিনাকে ৫ বছর করে মোট ১০ বছর কারাদণ্ড এবং ববি ও রূপন্তী প্রত্যেককে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর টিউলিপ সিদ্দিককে প্রভাব খাটানোর দায়ে প্রতি মামলায় ২ বছর করে মোট ৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার পর্যবেক্ষণে আদালত জানায়, টিউলিপ সিদ্দিক তার খালা শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে তার ভাই ও বোনের জন্য অবৈধভাবে জমি নিশ্চিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকারের সাথে পারিবারিক সম্পর্কের জেরে বিতর্কের মুখে গত বছর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের মন্ত্রিসভার ‘দুর্নীতি দমন মন্ত্রী’র পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন টিউলিপ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলার রায় আসছে।
গত বছরের নভেম্বরে পূর্বাচল প্রকল্পের অন্য তিনটি দুর্নীতি মামলায় তাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া গত বছরের গণবিক্ষোভ দমনে সহিংস ভূমিকার জন্য ঢাকার একটি আদালত তাকে ইতিপূর্বেই মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
দুদকের আইনজীবী বলেন, “আইনের উর্ধ্বে কেউ নন—এই রায় তারই প্রতিফলন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করার বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।”










