Bangladesh ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকায় মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা করে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • / 55

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে আটকে রেখে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জুলহাস সরদার (৫০)-কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জুলহাস সরদার মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সত্যবর্তী গ্রামের মৃত মজিদ সরদারের ছেলে। জুলহাস সরদার ও তার সহযোগীরা ইতালি পাঠানোর লোভ দেখিয়ে পাসপোর্ট ও টাকা হাতিয়ে নিতেন। পরে তাদের লিবিয়ায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করতেন। মুক্তিপণ না দিলে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হতো।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিপিসি-৩, র‌্যাব-৮ এবং রাজৈর থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র‌্যাব-১০ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলারই অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যুবকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষকে ইতালিতে উচ্চবেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের জিম্মি করে মাফিয়া চক্রের কাছে সমর্পণ করা হতো।

ভুক্তভোগীদের জিম্মি রেখে চালানো হতো অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই ভিডিও চিত্র ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত জুলহাস সরদার সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাতের মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। সিআইডি জানিয়েছে, আরও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শেয়ার করুন

ঢাকায় মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ইতালি পাঠানোর নামে প্রতারণা করে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন

আপডেট সময় : ১০:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়া চক্রের কাছে আটকে রেখে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবপাচার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জুলহাস সরদার (৫০)-কে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত জুলহাস সরদার মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার সত্যবর্তী গ্রামের মৃত মজিদ সরদারের ছেলে। জুলহাস সরদার ও তার সহযোগীরা ইতালি পাঠানোর লোভ দেখিয়ে পাসপোর্ট ও টাকা হাতিয়ে নিতেন। পরে তাদের লিবিয়ায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করতেন। মুক্তিপণ না দিলে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হতো।

মাদারীপুর জেলা পুলিশের গণমাধ্যম শাখা থেকে জানানো হয়, পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সিপিসি-৩, র‌্যাব-৮ এবং রাজৈর থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে র‌্যাব-১০ যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের মামলায় আসামিকে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলারই অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন যুবকসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য মানুষকে ইতালিতে উচ্চবেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের জিম্মি করে মাফিয়া চক্রের কাছে সমর্পণ করা হতো।

ভুক্তভোগীদের জিম্মি রেখে চালানো হতো অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতনের সেই ভিডিও চিত্র ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে ভুক্তভোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত জুলহাস সরদার সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের বাংলাদেশ অংশের অন্যতম মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মানবপাচার ও অর্থ আত্মসাতের মোট ১৬টি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মাদারীপুর জেলা পুলিশ। সিআইডি জানিয়েছে, আরও সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।