Bangladesh ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লীতে ককরোচ পার্টির অবস্থান থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • / 75

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোর একাধিক শীর্ষ সংসদ সদস্যকে আটক করেছে।

কেন্দ্র সরকারের শিক্ষানীতি, বিতর্কিত পরীক্ষা পদ্ধতি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচিতে মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎই অবস্থান কর্মসূচিতে এসে বসেন কংগ্রেস নেতারা।

ঘণ্টাব্যাপী এই অবস্থান ও বিক্ষোভের পর বিকেল সাড়ে ৬টা নাগাদ লোকসভা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে জোরপূর্বক চাগিয়ে তুলে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম প্রশাসনিক গরমিলের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লি রাজপথে সরব শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি আন্দোলনরত সেই শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

অবস্থান কর্মসূচিতে নামার আগে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। সেখান থেকেই সরাসরি তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে রওনা হন এবং মূল ফটকের কাছে রাস্তায় বসে পড়েন।

অবস্থান চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের তীব্র দাবি জানান। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সুখজিন্দর সিং গণমাধ্যমকে বলেন, “সংসদ সদস্যদের যদি দেশের রাজধানীতে এই পরিণতি হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিদিন কী অত্যাচার চলছে—তা অনুমান করা কঠিন নয়।” 

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং এবং স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন সেখানে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। ড. জীতেন্দ্র সিং জানান, সরকার সংসদে পরীক্ষা সংক্রান্ত ইস্যুতে আলোচনায় রাজি ছিল। কিন্তু রাহুল গান্ধী নতুন শর্ত হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করায় আলোচনা থমকে যায়।

অন্যদিকে, বিকেলের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেললে আটক এড়াতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতারা একে অপরের হাত ‘জিপ-টাই’ দিয়ে বেঁধে রাস্তায় বসে থাকেন। পরে দিল্লি পুলিশ জোর খাটিয়ে চাদর তুলে রাহুল গান্ধীকে চাগিয়ে নিয়ে বাসে তোলে। ধস্তাধস্তির সময় রাহুলের মুখে সামান্য আঘাত লাগে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বাসে তোলার সময় তিনি পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “ওরা ভীরু, সত্যকে ভয় পায়!”

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কানহাইয়া কুমার, সুখজিন্দর সিং এবং এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষ বিরোধীদের পুলিশ আটক করে মডেল টাউন থানায় নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হওয়া এই নতুন ঝড়ের আঁচ কেন্দ্র সরকারকে বেশ বড়সড় চাপে ফেলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

শেয়ার করুন

দিল্লীতে ককরোচ পার্টির অবস্থান থেকে আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আপডেট সময় : ০৯:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন থেকে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবসহ প্রধান বিরোধী দলগুলোর একাধিক শীর্ষ সংসদ সদস্যকে আটক করেছে।

কেন্দ্র সরকারের শিক্ষানীতি, বিতর্কিত পরীক্ষা পদ্ধতি এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচিতে মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎই অবস্থান কর্মসূচিতে এসে বসেন কংগ্রেস নেতারা।

ঘণ্টাব্যাপী এই অবস্থান ও বিক্ষোভের পর বিকেল সাড়ে ৬টা নাগাদ লোকসভা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে জোরপূর্বক চাগিয়ে তুলে আটক করে দিল্লি পুলিশ।

সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম প্রশাসনিক গরমিলের প্রতিবাদে গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লি রাজপথে সরব শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি আন্দোলনরত সেই শিক্ষার্থীদের ওপর দিল্লি পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।

অবস্থান কর্মসূচিতে নামার আগে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাম মনোহর লোহিয়া (RML) হাসপাতালে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন। সেখান থেকেই সরাসরি তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে রওনা হন এবং মূল ফটকের কাছে রাস্তায় বসে পড়েন।

অবস্থান চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগের তীব্র দাবি জানান। কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সুখজিন্দর সিং গণমাধ্যমকে বলেন, “সংসদ সদস্যদের যদি দেশের রাজধানীতে এই পরিণতি হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর প্রতিদিন কী অত্যাচার চলছে—তা অনুমান করা কঠিন নয়।” 

পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ড. জীতেন্দ্র সিং এবং স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন সেখানে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। ড. জীতেন্দ্র সিং জানান, সরকার সংসদে পরীক্ষা সংক্রান্ত ইস্যুতে আলোচনায় রাজি ছিল। কিন্তু রাহুল গান্ধী নতুন শর্ত হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করায় আলোচনা থমকে যায়।

অন্যদিকে, বিকেলের দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেললে আটক এড়াতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ অন্য নেতারা একে অপরের হাত ‘জিপ-টাই’ দিয়ে বেঁধে রাস্তায় বসে থাকেন। পরে দিল্লি পুলিশ জোর খাটিয়ে চাদর তুলে রাহুল গান্ধীকে চাগিয়ে নিয়ে বাসে তোলে। ধস্তাধস্তির সময় রাহুলের মুখে সামান্য আঘাত লাগে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে বাসে তোলার সময় তিনি পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, “ওরা ভীরু, সত্যকে ভয় পায়!”

রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, কানহাইয়া কুমার, সুখজিন্দর সিং এবং এসপি প্রধান অখিলেশ যাদবসহ শীর্ষ বিরোধীদের পুলিশ আটক করে মডেল টাউন থানায় নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হওয়া এই নতুন ঝড়ের আঁচ কেন্দ্র সরকারকে বেশ বড়সড় চাপে ফেলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।