বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন
নীরবেই চলে গেলো জানশরীফ মিঠুর ২য় শাহাদাতবার্ষিকী
- আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / 99
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে তৎকালীন সরকারি বাহিনীর সশস্ত্র হামলা শুরুর দিকে ১৯ জুলাই শুক্রবার দুপুরে ঢাকার উত্তরার বনশ্রীতে গুলিতে নিহত হন জেলা বিএনপির সাবেক কমিটির সম্পাদক ও শহরের গোয়ালচামটের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা শরীফ সামসুল আলম মন্টুর ছেলে জান শরীফ মিঠু (৪৬)। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া মিঠু ওই দিন দুপুরে বনশ্রী জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে চার থেকে পাঁচজনের সাথে ফিরছিলেন। পথে হেলিকপ্টার থেকে ছোড়া একটি গুলি তার বুকের কাছ দিয়ে শরীর ভেদ করে পিঠের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। এ সময় দ্রুততম সময়ে তাকে বনশ্রী ক্লিনিকে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে আন্দোলনে হতাহতদের ব্যাপক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হওয়ায় ওই অবস্থায় মিঠুর গুলিবিদ্ধ হওয়া ও মৃত্যুর তথ্য হাসপাতালে নথিভুক্ত না করে, কোনোভাবে অ্যাম্বুলেন্সে তার লাশ ফরিদপুরে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। সেখানে হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসার সাহায্যার্থে উপস্থিত কুষ্টিয়ার এক সাবেক ছাত্রশিবির নেতার মাধ্যমে আইনি জটিলতা এড়িয়ে মিঠুর লাশ তখন হাসপাতাল থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে ফরিদপুরে নেয়া হয়। এরপর ওই রাতেই তাকে বাড়ির প্রাঙ্গণে দাফন করা হয় নিভৃতে।
এরই মাঝে কেটে গেছে দুই বছর। চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদ জান শরীফ মিঠুর ২য় শাহাদাতবার্ষিকীর দিনটি এবছর নীরবেই কেটে গেলো। ফ্যাসিস্টাবিরোধী আন্দোলনের এই অকুতোভয় বীর সেদিন আন্দোলনের অংশ হিসেবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেরিয়েছিলেন ঘরের বাইরে। বনশ্রী মসজিদে নামাজ পড়ে ফিরতে দেরি হওয়ায় একমাত্র মেয়ে জারা তাকে ফোন করলে সে জানিয়েছিল, তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরবেন, একসঙ্গে খাবার খাবেন। কিন্তু তার সেই ফিরে আসা আর হয়নি। মেয়ের সঙ্গে কথা বলার পর মুহূর্তেই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। পরে স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর হাসপাতালে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। মিঠুকে তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে দাফন করা হয়।
২০০৬ সালে নওগাঁর রোহেদুন সেজবা ইভার সাথে বিয়ে হয় মিঠুর। একমাত্র মেয়ে জারাই যেন ছিল তার বাবার পৃথিবী। মেয়েকে ঘিরেই ছিল তার সব স্বপ্ন। বাবার মৃত্যুতে অসহায় মেয়ে মাহাবী শরীফ জারা। এছাড়া একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে এখনও চোখের পানি ফেলেন মিঠুর বৃদ্ধা মা। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে ছয় বছরের মেয়ে জারাকে নিয়ে নওগাঁয় নিজ বাড়িতে আছেন ইভা।
সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০১৫ সালে ঢাকার বনশ্রীতে বুটিকের একটি দোকান দেন মিঠু। তার স্ত্রী একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। তিনিও চাকরি ছেড়ে দোকানটির দেখাশোনা শুরু করেন। দুজনের আয়ে ভালোই চলছিল তাদের সংসার।
জান শরীফ মৃত্যুর পর ওই বছরের ৯ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৪৮ জনের নামোল্লেখ করে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা করেন মিঠুর স্ত্রী রোহেদুন সেজবা ইভা। ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে নিহত হওয়ার ৯ মাস পর জান শরীফ মিঠুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে উত্তোলন করা হয়।






















