অস্ত্রের লাইসেন্স নবায়নে অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি
- আপডেট সময় : ১২:২০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 39
বৈধ বন্দুক বা রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং পিস্তল বা রিভলবারের জন্য ১ লাখ টাকা অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর চিঠি দিয়ে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের পক্ষে ক্রিড়া সংগঠক ইশতিয়াক আহমেদ।
এই অগ্রিম কর প্রত্যাহারের জন্য কতিপয় যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে বলেন, আরোপিত এই করের বিধান সাধারণ ও সৎ নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চুরি, ডাকাতি ও রাহাজানি রোধ এবং জান-মালের নিরাপত্তার স্বার্থে যোগ্য ও আইনানুগত নাগরিকদের বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী অনেকে অত্যন্ত সীমিত আয়ের মধ্য দিয়েও এই পারিবারিক অস্ত্রগুলো কেবল স্মারক ও নিরাপত্তার স্বার্থে রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোনো গ্রাম বা পাড়ায় দু-একটি বৈধ অস্ত্র থাকার কারণে অপরাধীরা সহজে অপরাধ করার সাহস পায় না। ফলে এটি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দীর্ঘদিন ধরে পরোক্ষভাবে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি বলেন, দেশের সকল বৈধ অস্ত্রধারী নাগরিক করদাতার পাশাপাশি আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার বা অপপ্রয়োগের কারণে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে—এমন উদাহরণ আমাদের দেশে বিরল।
এছাড়া একটি বৈধ অস্ত্র কোনো বাণিজ্যিক বা অর্থ উপার্জনকারী মাধ্যম নয়, বরং এটি কেবলই আত্মরক্ষার উপায়। কোনো অনুপার্জিত বা অনুৎপাদনশীল বিষয়ের ওপর এত বিপুল পরিমাণ অগ্রিম আয়কর ধার্য করা কোনোভাবেই সমচীন নয়।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের শুটারগণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময়ে দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে এনেছেন। বিশেষ বিবেচনায় শুটারদের অস্ত্র লাইসেন্স দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অগ্রিম আয়কর বলবৎ থাকলে দেশের সম্ভাবনাময় শুটিং ক্রীড়াটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়বে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইতোমধ্যেই অস্ত্র লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কিন্তু সাধারণ নাগরিক বা ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এই বিশাল করের বোঝা চরম বৈষম্য তৈরি করবে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে যখন শতভাগ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তখন বৈধ অস্ত্রধারীদের ওপর এই করের বোঝা চাপিয়ে দিলে অনেকেই অস্ত্র সমর্পণ করতে বাধ্য হবেন। এতে করে অপরাধীদের দাপট বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
অস্ত্র আইনের নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ অস্ত্র মূলত সরকারেরই সম্পত্তি। সরকার যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে যখন ইচ্ছা এই অস্ত্র ও লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে তুলে নিতে পারেন।
বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে বৈধ অস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া গেলেও, বাংলাদেশে বৈধ অস্ত্রধারীদের দ্বারা এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপরাধের নজির নেই বললেই চলে।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমনিতেই উচ্চ হারে নিয়মিত আয়কর প্রদান সাপেক্ষেই নাগরিকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রথা বিদ্যমান রয়েছে। এর ওপর নতুন করে এই অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর সাধারণ মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো দাঁড়াবে।
এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। জান ও মালের নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির কারণেই দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত এই অতিরিক্ত করের কারণে মানুষ অস্ত্র ত্যাগ করলে, মাঠ পর্যায়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের আধিপত্য বৃদ্ধি পাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটবে। দেশের সাধারণ আইনানুগত নাগরিক ও ক্রীড়াবিদদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এবং দেশের গৌরবময় শুটিং ক্রীড়াঙ্গনকে বাঁচিয়ে রাখতে উক্ত প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রথা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কামনা করা হয়েছে।









