০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রস্তুতিমূলক ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা

টেকসই ও আধুনিক ফরিদপুর গড়তে দরকার মাস্টারপ্ল্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 14

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে, ফরিদপুর পৌরসভা এবং 'রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট' (RUTDP)-এর যৌথ উদ্যোগে গত রোববার ফরিদপুর বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রস্তুতিমূলক ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি- অগ্নিপ্রহর

একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও দুর্যোগ-সহনশীল জনপদ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা এবং উন্নত নাগরিক সেবার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা জরুরি, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

ফরিদপুর পৌর ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে, ফরিদপুর পৌরসভা এবং ‘রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (RUTDP)-এর যৌথ উদ্যোগে গত রোববার এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—পৌর এলাকার টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিশ্চিতকরণ।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ হাই জকি। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আল আমিন ও ডিজাইন ইন্জিনিয়ারসানিম আরেফিন।

আরইউটিডিপি, এলজিইডি, ঢাকার নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন এলজিইডি ঢাকার সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন, জুনিয়র ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলী মো. রিফাত হাসান, এসএমই মো. হারুণ উর রশিদ, আর্কিটেক্ট সুমাইয়া এবং এএমই শিখা বিশ্বাস।

কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (টিএলসিসি) নারী ও পুরুষ সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রকৌশলী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেন।

অংশগ্রহণকারীরা ফরিদপুর পৌরসভার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সড়ক অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, উন্নত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কর্মশালায় প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ফরিদপুর পৌরসভার জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ফরিদপুরকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক এবং টেকসই মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে প্রস্তুতিমূলক ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা

টেকসই ও আধুনিক ফরিদপুর গড়তে দরকার মাস্টারপ্ল্যান

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও দুর্যোগ-সহনশীল জনপদ গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা এবং উন্নত নাগরিক সেবার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা জরুরি, যা ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

ফরিদপুর পৌর ভবনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে, ফরিদপুর পৌরসভা এবং ‘রেজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (RUTDP)-এর যৌথ উদ্যোগে গত রোববার এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিল—পৌর এলাকার টেকসই উন্নয়ন, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিশ্চিতকরণ।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মোহাম্মদ হাই জকি। প্রকল্পের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুল আলম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ আল আমিন ও ডিজাইন ইন্জিনিয়ারসানিম আরেফিন।

আরইউটিডিপি, এলজিইডি, ঢাকার নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় আরও গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন এলজিইডি ঢাকার সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন, জুনিয়র ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলী মো. রিফাত হাসান, এসএমই মো. হারুণ উর রশিদ, আর্কিটেক্ট সুমাইয়া এবং এএমই শিখা বিশ্বাস।

কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, টাউন লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটির (টিএলসিসি) নারী ও পুরুষ সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রকৌশলী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান অভিমত ব্যক্ত করেন।

অংশগ্রহণকারীরা ফরিদপুর পৌরসভার উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: সড়ক অবকাঠামোর আধুনিকায়ন, উন্নত ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কর্মশালায় প্রাপ্ত সব মতামত ও সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ফরিদপুর পৌরসভার জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পৌর এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে ফরিদপুরকে একটি বাসযোগ্য, আধুনিক এবং টেকসই মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।