শুক্রবার রাতে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি।
ফরিদপুরের প্রতি আমরা বেইনসাফি করবো না – ডা. শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ১০:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 18
ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। -অগ্নিপ্রহর।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই দেশটাকে আমরা ভালবাসি। এই দেশের মানুষদেরকে আমরা ভালবাসি। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে কেউ বলতে পারবেন না, আমরা কেউ অন্য ধর্মের কারো উপরে আঘাত করেছি। সাবধান, আমাদের ওই ভাইবোনদের জীবন-সম্পদ-ইজ্জত নিয়ে যারা অতীতে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করেছেন, তাদেরকে বলি- ওই যুগ শেষ। নতুন বাংলাদেশে আর তা চলতে দেওয়া যাবেনা। অতীতের যেই খুন-গুম-হত্যা-ধর্ষণের বস্তাপঁচা রাজনীতি তারা চালু করেছিলো, ১২ তারিখে ইনশাআল্লাহ তার কবর রচনা হবে।
শুক্রবার রাতে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান একথা বলেন। এসময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর বলেন, ৫ আগস্টের পর আমার মুখ থেকেই বলেছিলাম- আমাদের উপর যারা অতীতে জুলুম করেছে, দল হিসেবে আমরা কারো উপরে প্রতিশোধ নিবো না। ফরিদপুরে আমাদের নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরও হয়েছে। আমরা তাদের দিকে গোলাপের পাপড়িও ছুঁড়ে মারিনি। আবার একথাও বলেছিলাম, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি যদি আইনি প্রতিকার চায়, তাদের সাহায্য করবো। কিন্তু একজন নিরীহ ব্যক্তিকেও হয়রানি করা যাবেনা। আমরা জাতির কাছে দেওয়া আমাদের কথা রেখেছি। তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা এই দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি। কারা হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্টে গিয়েছে, সেইটা এদেশের মানুষই ভালো জানে।
তিনি বলেন, আমরা এই দেশকে আপন করে ফুলের বাগানের মতো সাজাতে চাই। আমরা জাতির যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিতে চাইনা, তাদের হাতে সম্মানজনক কাজ তুলে দিতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গোটা বাংলাদেশকে শিল্পে পরিণত করা। পুরনো ধাঁচের কাজকর্ম থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে আসা।
এসময় তিনি একইমাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তাকে নিয়ে বিএনপির প্রধানের সমালোচনার জবাব দিতে যেয়ে বলেন, মানুষ হিসেবে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রত্যাশী। যারাই আমার চরিত্রের উপর আঘাত এনেছেন, আমাদের গুপ্ত বলেছেন, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। আল্লাহও যেনো তাদের ক্ষমা করে দেন।
এসময় ফরিদপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমীর বলেন, ফরিদপুরের মতো এমন অনেক জেলা ইতিমধ্যে বিভাগ হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন হয়েছে, মেট্রোপলিটান হয়েছে, কিন্তু ফরিদপুর বিভাগ হয় নাই। আগামী দিনে যদি ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পাই, আমরা ফরিদপুর নামেই বিভাগ করবো ইনশাআল্লাহ্। ফরিদপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও গঠিত হবে। তিনি নদীর জীবন ফিরিয়ে আনারও প্রতিশ্রুতি দেন। একইসাথে ফরিদপুরের পাটশিল্প সহ কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, আজকে জন্ম নেওয়া শিশুর টাকা, রাস্তার পাশে বসে যেই ভাইটি কাজ করে, তারও টাকা মেরে, তারা বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ আমাদের সাহায্য দিলে যেভাবে বলছি, সেভাবেই সেই টাকা ফিরিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ্। এই টাকা কোন নেতানেত্রীর পকেটে ঢুকবে না, এই টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় তহবিলে। যেই জেলা যতো বেশি বঞ্চিত হয়েছে, আগে সেইখান থেকে উন্নয়ন শুরু হবে। কোন মামু-খালুর টেলিফোন পরোয়া করবো না। কোথায় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি, কোথাও নেতানেত্রীর বাড়ি সেটি বিবেচনা করবো না। আমাদের বিবেচ্য বিষয় হবে ইনসাফের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সাজানো। কথা দিয়ে যাচ্ছি, ফরিদপুরের প্রতি আমরা বেইনসাফি করবো না।
এ জনসভায় কেন্দ্রীয় আমীর ফরিদপুর-২ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা আকরাম আলী, ফরিদপুর-৩ আসনে অধ্যাপক আব্দুত তাওয়াব, ফরিদপুর-৪ আসনে মাওলানা সরোয়ার হোসেন, রাজবাড়ি-১ আসনে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, রাজবাড়ী-২ আসনে শাপলাকলির প্রার্থী জামিল হিজাযী, মাদারিপুর-৩ আসনে রফিকুল ইসলামকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে তিনি বোয়ালমারীর জনসভায় ফরিদপুর-১ আসনে দাড়িপাল্লার প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লাকে সকলের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় আমীর বলেন, রিকশা হোক আর পাল্লা হোক, চারটি আসনে আমরা সমানতালে লড়ে যাবো ইনশাআল্লাহ্। এরপর “লিল্লাহি তাকবীর”, “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
জনসভা উপলক্ষে সন্ধ্যার পর থেকে মিছিল সহকারে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা জনসভায় যোগ দেন। ফরিদপুর জেলা জামায়াতের আমীর মো: বদরুদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীগণ বক্তব্য দেন। এর আগে বিকেলে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান।









