০৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ভাঙ্গায় নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু : প্রতিষ্ঠান সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 146

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছেন সেখানে থাকা অন্য রোগীরা। পরে যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয়।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষুব্ধরা ভাংচুর চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রের বোর্ডারদের অন্যত্র হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলার ‘আলোর দিশা’ নামক নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বর নামে ৪০ বছরের এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজ্জাক কিছুটা পাগলাটে ছিলো। গত মঙ্গলবার রাজ্জাক সেখানে ভর্তি হয়। এরপর শনিবার সকালে রাজ্জাক অসুস্থ বলে তাদের জানানো হয়। খবর পেয়ে এসে দেখি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, রাজ্জাক মাতুব্বরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর উপজেলার পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামে অবস্থিত ওই নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা কেন্দ্রের ভেতর জানালা-দরজাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে এবং বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উদ্ধার হওয়া রোগীদের অভিযোগ, ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চলত। খাবার চাইলে মারধর। এই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার সকালে রোগীরা কেন্দ্রের ভেতর ভাঙচুর শুরু করেন। প্রায় ৬ ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।

এদিকে, ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ৩০ জন রোগীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২০ জনকে ফরিদপুরের অন্য একটি রিহ্যাব সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ শিরীন আক্তার। তিনি বলেন, ঘটনার পর ভাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়ামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান দিপু জানান, ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন

ভাঙ্গায় নিরাময় কেন্দ্রে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু : প্রতিষ্ঠান সিলগালা

আপডেট সময় : ১২:২১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠার পর বিক্ষুব্ধরা ভাংচুর চালিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ওই কেন্দ্রের বোর্ডারদের অন্যত্র হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার সকালে ভাঙ্গা উপজেলার ‘আলোর দিশা’ নামক নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বর নামে ৪০ বছরের এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজ্জাক কিছুটা পাগলাটে ছিলো। গত মঙ্গলবার রাজ্জাক সেখানে ভর্তি হয়। এরপর শনিবার সকালে রাজ্জাক অসুস্থ বলে তাদের জানানো হয়। খবর পেয়ে এসে দেখি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার শরীরে বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, রাজ্জাক মাতুব্বরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর উপজেলার পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামে অবস্থিত ওই নিরাময় কেন্দ্রে রাজ্জাক মাতুব্বরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তারা কেন্দ্রের ভেতর জানালা-দরজাসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে এবং বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ হস্তক্ষেপে প্রায় ৫-৬ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উদ্ধার হওয়া রোগীদের অভিযোগ, ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চলত। খাবার চাইলে মারধর। এই ক্ষোভ থেকেই শুক্রবার সকালে রোগীরা কেন্দ্রের ভেতর ভাঙচুর শুরু করেন। প্রায় ৬ ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই উত্তেজনা নিরসনে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করে।

এদিকে, ওই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি ৩০ জন রোগীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২০ জনকে ফরিদপুরের অন্য একটি রিহ্যাব সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ শিরীন আক্তার। তিনি বলেন, ঘটনার পর ভাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদরুল আলম সিয়ামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজোয়ান দিপু জানান, ঘটনার পর থেকেই কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।