০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফরিদপুরে শিকারি সাংবাদিকতার তদন্ত দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন স্মারকলিপি

“খুনিদের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম হয় না’’

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 41

সদরপুর উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজী সিরাজুল ইসলাম (৬২)। হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে মাববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি- অগ্নিপ্রহর

“খুনিদের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম হয় না। আপনারা আমার বাবাকে এনে দিন।‘’ রোববার (৭ জুন) সকালে সদরপুর থানার সামনে মানববন্ধনে এসে এভাবেই বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চাইলো ৮ বছরের ছোট্ট শিশু সন্তান কাজী তৌফিক।

গত ২৯ মে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে নিজের ভাতিজাদের হাতে নিহত হন কাজী সিরাজুল ইসলাম (৬২)।  হত্যাকান্ডের পর থানায় মামলা দায়েরের পর গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী, কন্যা ও শিশু সন্তান সহ তার ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এরপর আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

এসময় নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, জমি ও গাছকাটা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর এক সপ্তাহ পার হলেও এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের কিশোরী মেয়ে কাজী প্রভা বলেন, আমার বাবাকে আমরা কোথায় পাবো। সারাক্ষণ বাবাকে খুঁজতে থাকি আমরা। আমাদের খুনিদের ভয়ে রাতে ঘুম হয় না। কখন আবার আমাদের উপর হামলা করে। আমরা সরকারের কাছে অতি দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

নিহতের ভাই কাজী মাসুদ রানা জানান, আমার ভাইকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমরা আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীরা যেন দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি পায় এটাই আমাদের দাবি। আমি নিজেও এই খুনিদের দ্বারা হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছি সেদিন। কোনমতে আমি বেঁচে থাকলেও এখনো ভয়ে থাকি কখন আবার তারা এসে হামলা করে।

তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা গেছে, কাজী সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকিরি করতেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তার ভাতিজাদের সাথে বিবাদ হয়। এসময় হামলায় নিহত হন তিনি। আর গুরুতর আহত হন তার ভাই মো. কাজী মাসুদ রানা (৩৬)। তিনি সদরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় পরেরদিন নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদি হয়ে সদরপুর থানায়  হত্যার সাথে জড়িত কাজী তুষার ও কাজী সুমনসহ অন্যদের নামে হত্যা মামলা করেন।

শেয়ার করুন

“খুনিদের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম হয় না’’

আপডেট সময় : ০৬:৫০:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

“খুনিদের ভয়ে রাতে আমাদের ঘুম হয় না। আপনারা আমার বাবাকে এনে দিন।‘’ রোববার (৭ জুন) সকালে সদরপুর থানার সামনে মানববন্ধনে এসে এভাবেই বাবার হত্যাকান্ডের বিচার চাইলো ৮ বছরের ছোট্ট শিশু সন্তান কাজী তৌফিক।

গত ২৯ মে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর গ্রামের কাজীডাঙ্গী এলাকায় জমিজমা বিরোধের জের ধরে নিজের ভাতিজাদের হাতে নিহত হন কাজী সিরাজুল ইসলাম (৬২)।  হত্যাকান্ডের পর থানায় মামলা দায়েরের পর গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ অবস্থায় সিরাজুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী, কন্যা ও শিশু সন্তান সহ তার ভাই, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এরপর আসামীদের গ্রেপ্তার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।

এসময় নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, জমি ও গাছকাটা নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর এক সপ্তাহ পার হলেও এ মামলায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তিনি আসামীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের কিশোরী মেয়ে কাজী প্রভা বলেন, আমার বাবাকে আমরা কোথায় পাবো। সারাক্ষণ বাবাকে খুঁজতে থাকি আমরা। আমাদের খুনিদের ভয়ে রাতে ঘুম হয় না। কখন আবার আমাদের উপর হামলা করে। আমরা সরকারের কাছে অতি দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

নিহতের ভাই কাজী মাসুদ রানা জানান, আমার ভাইকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমরা আইনের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীরা যেন দ্রুত গ্রেপ্তার হয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি পায় এটাই আমাদের দাবি। আমি নিজেও এই খুনিদের দ্বারা হামলার শিকার হয়ে আহত হয়েছি সেদিন। কোনমতে আমি বেঁচে থাকলেও এখনো ভয়ে থাকি কখন আবার তারা এসে হামলা করে।

তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জানা গেছে, কাজী সিরাজুল ইসলাম মানিকগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকিরি করতেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। এরপর পৈত্রিক সম্পত্তিতে একটি গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে তার ভাতিজাদের সাথে বিবাদ হয়। এসময় হামলায় নিহত হন তিনি। আর গুরুতর আহত হন তার ভাই মো. কাজী মাসুদ রানা (৩৬)। তিনি সদরপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় পরেরদিন নিহতের স্ত্রী সালমা আক্তার বাদি হয়ে সদরপুর থানায়  হত্যার সাথে জড়িত কাজী তুষার ও কাজী সুমনসহ অন্যদের নামে হত্যা মামলা করেন।