ফরিদপুরে মিলছে না জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের টিকা: কর্তৃপক্ষ বলছে সরবরাহ নেই
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / 155
শীতে বেড়েছে কুকুর-বিড়াল সহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত ভুক্তভোগী রোগীর সংখ্যা। জলাতঙ্ক রোগের সমূহ আশঙ্কায় ভ্যাকসিন নিতে তারা ভিড় বাড়ছে সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু ঢাকা থেকে সরবরাহ না থাকায় তাদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, টাকা দিয়ে ওষুধের দোকান থেকে কিনতে গেলে সেখানেও পাচ্ছেন না এই র্যাবিস ভ্যাকসিনের টিকা। জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বিষয়টি নিয়ে তারা বারবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সুফল মিলছে না।
গত কয়েকদিন ফরিদপুর জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সেখানে শিশু সহ বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ নানা ধরনের প্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভ্যাকসিন নিতে আসছেন। জেনারেল হাসপাতালের তিনতলা ভবনের নিচতলার বামপাশের ছোট্ট একটি কক্ষের বাইরে লেখা রয়েছে, ‘এখানে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়’। এই লেখা দেখেই আক্রান্তরা সেদিকে ছুটছেন। ©
টিকাদান কেন্দ্রে নিযুক্ত সংশ্লিষ্ট টিকা কর্মী জানালেন, গত কয়েকদিনযাবত হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা র্যাবিসের সরবরাহ না থাকায় তারা আগতদের টিকা দিতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে সামনে অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানাধীন ওষুধের ফার্মেসীগুলোতে নিজের ৬ বছর বয়সী মেয়ের জন্য র্যাবিস ভ্যাকসিন খুজছিলেন শহরের হাবেলী গোপালপুর মহল্লার বাসিন্দা আশা আক্তার (৩০)। এসময় তিনি এই প্রতিবেদককে জানালেন, সকাল ১১টার দিকে তাঁর মেয়েকে বাড়ির সামনে থেকে একটি বিড়াল আঁচড় দেয়। এরপর তিনি মেয়েকে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে ভ্যাকসিন পাননি। এরপর শহরের বিভিন্ন ফার্মেসীতে খোঁজ করেও না পেয়ে এখন ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তবে মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না। এ অবস্থায় বিকেলে তিনি ঢাকায় যেয়ে উত্তরার একটি প্রাইভেট ফার্মেসী থেকে ৫শ’ টাকা দিয়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন কিনে এনে মেয়েকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাণি কামড়জনিত রোগীদের ঝুঁকিমুক্ত রাখতে হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে র্যাবিস ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দিতে হয়। আক্রান্তের ক্ষতের পরিমাণ অনুযায়ী চার থেকে পাঁচটি ডোজ নিতে হয়।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মাহ্মুদুল হাসান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক অগ্নিপ্রহরকে জানান, গত চার-পাঁচদিনযাবত র্যাবিস টিকার ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে। এবিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানালেও এখনো ভ্যাকসিনের বরাদ্দ পাননি। আশা করছি, দ্রুতই এা সমস্যার সমাধান হবে। সিভিল সার্জন জানান, ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুইশো’র মতো রোগী আসেন র্যাবিস ভ্যাকসিনের টিকা নেওয়ার জন্য।
ফরিদপুরের তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক কর্মী শরীফ খান র্যাবিস ভ্যাকসিনের চরম সংকটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।










