Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে জনগণ আবর্জনা পরিস্কার করছেন

বর্জ্যে অবরুদ্ধ ফরিদপুর শহর

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 89

একদিকে স্তূপীকৃত ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধের আলটিমেটাম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘটে গেছেন ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। এতে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো যেন একেকটি বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে। এদিকে, উদ্ভুত অবস্থায় এসব এলাকায় বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে জনগণকে স্তুপ হয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে দেখা যায়।

ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার বিকেলে। ফরিদপুর পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে চকবাজার এলাকায় উচ্ছেদ চালাতে যায় দল। এতে ক্ষুব্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হইচই শুরু করে এবং উচ্ছেদকাজে বাধা দেয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে সবুজ প্রামাণিক নামে পৌরসভার এক ট্রাকচালককে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এই মারধরের ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাতে জরুরী বৈঠক ডাকেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিতুমীর বাজার ও চকবাজার সংলগ্ন এলাকার ময়লা পরিবহন বন্ধ রাখার একতরফা সিদ্ধান্ত নেন তারা। ফলে বুধবার ভোর থেকে আর নামেনি পৌরসভার ময়লার ট্রাক। বন্ধ রয়েছে রুটিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

প্রতিদিন ভোরে যে এলাকাগুলো থেকে গড়ে দুই দফায় অন্তত ৬ টন বর্জ্য অপসারণ করা হতো, সেখানে এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র থানার মোড়, চকবাজার সড়ক, ফলপট্টি, ময়রাপট্টি, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোড় এবং আলীমুজ্জামান সেতু সংলগ্ন এলাকাগুলো ময়লায় ছেয়ে গেছে। তীব্র রোদে ময়লা পচে ছড়িয়ে পড়ছে অসহ্য দুর্গন্ধ, যার ফলে ব্যবসায়ী, কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আক্রান্ত ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক নিজেই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে হচ্ছে জনগণকে জিম্মি করা। মামলায় আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে জনগণ আবর্জনা পরিস্কার করছেন

বর্জ্যে অবরুদ্ধ ফরিদপুর শহর

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

একদিকে স্তূপীকৃত ময়লার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারী ও ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ বন্ধের আলটিমেটাম। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ওপর হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘটে গেছেন ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। এতে শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো যেন একেকটি বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছে। এদিকে, উদ্ভুত অবস্থায় এসব এলাকায় বিভিন্নস্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে জনগণকে স্তুপ হয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করতে দেখা যায়।

ঘটনার শুরু গত মঙ্গলবার বিকেলে। ফরিদপুর পৌরসভার অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযানের দ্বিতীয় দিনে চকবাজার এলাকায় উচ্ছেদ চালাতে যায় দল। এতে ক্ষুব্ধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে হইচই শুরু করে এবং উচ্ছেদকাজে বাধা দেয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে সবুজ প্রামাণিক নামে পৌরসভার এক ট্রাকচালককে মারধরের ঘটনা ঘটে।

এই মারধরের ঘটনার পরপরই মঙ্গলবার রাতে জরুরী বৈঠক ডাকেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত তিতুমীর বাজার ও চকবাজার সংলগ্ন এলাকার ময়লা পরিবহন বন্ধ রাখার একতরফা সিদ্ধান্ত নেন তারা। ফলে বুধবার ভোর থেকে আর নামেনি পৌরসভার ময়লার ট্রাক। বন্ধ রয়েছে রুটিন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

প্রতিদিন ভোরে যে এলাকাগুলো থেকে গড়ে দুই দফায় অন্তত ৬ টন বর্জ্য অপসারণ করা হতো, সেখানে এখন শুধুই ময়লার ভাগাড়। শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র থানার মোড়, চকবাজার সড়ক, ফলপট্টি, ময়রাপট্টি, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোড় এবং আলীমুজ্জামান সেতু সংলগ্ন এলাকাগুলো ময়লায় ছেয়ে গেছে। তীব্র রোদে ময়লা পচে ছড়িয়ে পড়ছে অসহ্য দুর্গন্ধ, যার ফলে ব্যবসায়ী, কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

আক্রান্ত ট্রাকচালক সবুজ প্রামাণিক নিজেই বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ থেকে ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চকবাজার বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন বলেন, সেবা বন্ধ করে দেওয়া মানে হচ্ছে জনগণকে জিম্মি করা। মামলায় আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান এভাবে কাজ বন্ধ করে দেওয়া মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।

মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে, আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।