Bangladesh ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মেয়েদের ওই ঘরে আগেই কিভাবে ঢুকেছিল রহিত শিকদার?

সদরপুরের ভাষাণচরে স্কুলছাত্রী মেয়েদের সাথে কি হয়েছিলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 2051

১ম ছবিতে বাইরে হামলাকারীরা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশের চেষ্টাকালে মেয়েটির ঘরে তার ছোট বোন ও ভাইয়ের সাথে অবস্থান করছিলো রহিত। মাঝের ছবিতে রহিত ও মেয়েটিকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর নির্যাতনের এবং সবশেষে রহিত সহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হেলাল মৃধা ও রনি বেপারী। প্রথম দুটি ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া। -অগ্নিপ্রহর

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশ শনিবার বিকেল পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিশোরীটিকে ঘরের জানালা ভেঙে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবর প্রকাশের পর তোলপাড় চলছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে আসলেই কি ঘটেছিলো তা নিয়েও নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

এরইমধ্যে সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে ঘটনাস্থল থেকে ওই সময়ে ধারণ করা কিছু ভিডিও ফুটেজ। যা পুরো ঘটনার নেপথ্যের রহস্যকেও সামনে তুলে এনেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীটিকে অসুস্থ্য অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, খবর পেয়ে শনিবার (১ আগস্ট)  দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়িতে যেয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়েটির দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সকলে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। ওই বাড়িতে তখন কিশোরী, তার আরেক বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল যুবক ওই বাড়িতে এসে প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। তবে ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে দুরে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে রাত ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়।

এদিকে, এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর সোসাল মিডিয়ায় ঘটনার সময়ের কিছু ফুটেজ প্রকাশ পায়। যেখানে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

ওই ভিডিও ফুটেজে ভুক্তভোগী মেয়ে, তার বোন ও ছোট ভাই ছাড়াও তাদের ঘরের মধ্যে রহিত শিকদার নামে গ্রেপ্তার ওই যুবকটিকে দেখা যায়। বাইরে তখন উন্মত্ত একদল যুবকের চিল্লাচিল্লি। তারা তাদের দরজা খুলতে বলছে এবং দরজা খুলতে না পেরে পাশের জানালার দিক থেকে ঢিল ছুড়ে মারছিলো।

ঘরের মধ্যে তখন রহিতকে তখন মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘‘দরজা খুলে দেন, খুলে দেন।’’ তবে মেয়েরা দরজা না খুলে মোবাইলে কাউকে ফোন করে। এরপর একপর্যায়ে ঘরের দরজা খুলে রইস ও ভুক্তভোগী মেয়েটিকে নিয়ে একদল যুবককে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। 

তখন রইস দাবি করে, মেয়েটি তার পুফাতো বোন। কিন্তু আগত যুবকদের দল তার কথা উড়িয়ে দিয়ে মেয়েটিকে ও তাকে ধরে টানতে টানতে একটি স্থানে নিয়ে যায়।

ভিডিওতে একপর্যায়ে মেয়েটিকে অচেতন হয়ে যেতে দেখা যায়। তখন কেউ একজন তাকে চোখ খুলতে শাসায় এবং মুখে চড় মারে।

স্থানীয়দের সাথে এবিষয়ে কথা বলে জানা যায়, ওই মেয়েদের ঘরে রইত অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ওই যুবকেরা গভীর রাতে বাড়িটিতে হানা দেয় এবং রইত ও মেয়েটিকে হাতেনাতে ধরে তাদের উপর নির্যাতন চালায়। 

তবে এতো লোকের ভিড়ে মেয়েটিকে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সত্যতা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ঘটনার পরে সদরপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

জানতে চাইলে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে  উপস্থিত জনতা রহিত শিকদার ও হেলাল মৃধাকে একটি মোটরসাইকেল সহ পুলিশে সোপর্দ করে। তিনি বলেন, মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরেরদিন শুক্রবার মেয়েটির মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  এ মামলায় ঘটনাস্থল থেকে হেলাল মৃধা ও রহিত শিকদার ছাড়াও পরে রনি বেপারী নামে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তবে রনির বেপারীর দাবি, তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না। সকালে উঠে তিনি জানতে পারেন এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি নির্দোষ সেই সাহসে সকালে সেখানে গিয়েছি। এরপর আমাকে অ্যারেস্ট করছে। রনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাকে শুধাশুধি অ্যারেস্ট করছে। এইটা কি আউলফাউল মামলা? গাঁজা ইয়াবার মামলা? ধর্ষনের মামলা! আমি যদি ফাইস্যা যাই তয় আমার কি হবে? 

ফরিদপুর-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ হয়েছে। এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নাই। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এই অপরাধের দৃস্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করবো।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, এবিষয় আমরা অবগত রয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করবো। যেটি সত্যি ঘটনা সেটিই বের করে আনবো তদন্তের মাধ্যমে।

মেয়েদের ওই ঘরে আগেই কিভাবে ঢুকেছিল রহিত শিকদার?

সদরপুরের ভাষাণচরে স্কুলছাত্রী মেয়েদের সাথে কি হয়েছিলো?

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের পর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় পুলিশ শনিবার বিকেল পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিশোরীটিকে ঘরের জানালা ভেঙে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের খবর প্রকাশের পর তোলপাড় চলছে। তবে ঘটনার নেপথ্যে আসলেই কি ঘটেছিলো তা নিয়েও নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে।

এরইমধ্যে সোসাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে ঘটনাস্থল থেকে ওই সময়ে ধারণ করা কিছু ভিডিও ফুটেজ। যা পুরো ঘটনার নেপথ্যের রহস্যকেও সামনে তুলে এনেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীটিকে অসুস্থ্য অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, খবর পেয়ে শনিবার (১ আগস্ট)  দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম ভুক্তভোগী মেয়েটির বাড়িতে যেয়ে পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন। জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

জানা গেছে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মেয়েটির দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির সকলে ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। ওই বাড়িতে তখন কিশোরী, তার আরেক বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল যুবক ওই বাড়িতে এসে প্রথমে দরজা খুলতে চাপ দেয়। তবে ভেতর থেকে দরজা না খোলায় জানালা ভেঙে কিশোরীকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে দুরে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে তিন যুবক পালাক্রমে ধর্ষণ করে রাত ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে যায়।

এদিকে, এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে তোলপাড় শুরু হয়। এরপর সোসাল মিডিয়ায় ঘটনার সময়ের কিছু ফুটেজ প্রকাশ পায়। যেখানে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

ওই ভিডিও ফুটেজে ভুক্তভোগী মেয়ে, তার বোন ও ছোট ভাই ছাড়াও তাদের ঘরের মধ্যে রহিত শিকদার নামে গ্রেপ্তার ওই যুবকটিকে দেখা যায়। বাইরে তখন উন্মত্ত একদল যুবকের চিল্লাচিল্লি। তারা তাদের দরজা খুলতে বলছে এবং দরজা খুলতে না পেরে পাশের জানালার দিক থেকে ঢিল ছুড়ে মারছিলো।

ঘরের মধ্যে তখন রহিতকে তখন মেয়েটিকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘‘দরজা খুলে দেন, খুলে দেন।’’ তবে মেয়েরা দরজা না খুলে মোবাইলে কাউকে ফোন করে। এরপর একপর্যায়ে ঘরের দরজা খুলে রইস ও ভুক্তভোগী মেয়েটিকে নিয়ে একদল যুবককে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়। 

তখন রইস দাবি করে, মেয়েটি তার পুফাতো বোন। কিন্তু আগত যুবকদের দল তার কথা উড়িয়ে দিয়ে মেয়েটিকে ও তাকে ধরে টানতে টানতে একটি স্থানে নিয়ে যায়।

ভিডিওতে একপর্যায়ে মেয়েটিকে অচেতন হয়ে যেতে দেখা যায়। তখন কেউ একজন তাকে চোখ খুলতে শাসায় এবং মুখে চড় মারে।

স্থানীয়দের সাথে এবিষয়ে কথা বলে জানা যায়, ওই মেয়েদের ঘরে রইত অবস্থান করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ওই যুবকেরা গভীর রাতে বাড়িটিতে হানা দেয় এবং রইত ও মেয়েটিকে হাতেনাতে ধরে তাদের উপর নির্যাতন চালায়। 

তবে এতো লোকের ভিড়ে মেয়েটিকে ঘরের বাইরে নিয়ে এসে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সত্যতা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। এ ঘটনার পরে সদরপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

জানতে চাইলে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে  উপস্থিত জনতা রহিত শিকদার ও হেলাল মৃধাকে একটি মোটরসাইকেল সহ পুলিশে সোপর্দ করে। তিনি বলেন, মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পরেরদিন শুক্রবার মেয়েটির মা বাদী হয়ে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।  এ মামলায় ঘটনাস্থল থেকে হেলাল মৃধা ও রহিত শিকদার ছাড়াও পরে রনি বেপারী নামে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

তবে রনির বেপারীর দাবি, তিনি ঘটনার সময় ছিলেন না। সকালে উঠে তিনি জানতে পারেন এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমি নির্দোষ সেই সাহসে সকালে সেখানে গিয়েছি। এরপর আমাকে অ্যারেস্ট করছে। রনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমাকে শুধাশুধি অ্যারেস্ট করছে। এইটা কি আউলফাউল মামলা? গাঁজা ইয়াবার মামলা? ধর্ষনের মামলা! আমি যদি ফাইস্যা যাই তয় আমার কি হবে? 

ফরিদপুর-৪ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, এটি একটি ভয়ংকর অপরাধ হয়েছে। এই অপরাধের কোনো ক্ষমা নাই। ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা এই অপরাধের দৃস্টান্তমুলক শাস্তি নিশ্চিত করবো।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম বলেন, এবিষয় আমরা অবগত রয়েছি। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করবো। যেটি সত্যি ঘটনা সেটিই বের করে আনবো তদন্তের মাধ্যমে।