ফেসবুকে ‘গে গ্রুপ’: ছাত্রাবাসে মিলিত হতে এসে আটক ৫ সমকামী
- আপডেট সময় : ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / 143
শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারীতে সমকামীতার অভিযোগে আটক ৩ যুবককে পুলিমের নিকট সোপর্দ করা হয়। ছবি_ অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুর শহরের একটি ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে ৫ যুবককে আটক করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। পরে তাদের মধ্যে ৩ জনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত দুই ছাত্রকে পুলিশ আসার আগেই মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে তাদের পরিবার।
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারী এলাকার একটি ছাত্রাবাসে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিহাদ হোসেন (২৮), নিউমার্কেটের দর্জি বাবু খান (৩৮) ও গোয়ালচামটের শ্রী অঙ্গনের বাসিন্দা কৃষ্ণ মন্ডল (৩০) ।
এছাড়া ছাত্রাবাসের বোর্ডার হাসান রাজ ও আরিয়ান নামে মূল অভিযুক্ত অপর দুই ছাত্রকে এলাকাবাসী প্রথমে আটক করলেও পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেসের বোর্ডার ফাহিম বিশ্বাস ও নাহিদ জানান, গত ১০ দিন আগে রাজেন্দ্র কলেজের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হাসান রাজ চানমারীতে তাদের মেসের বোর্ডার হয়ে ওঠেন। মেসে ওঠার পর থেকেই তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হচ্ছিল। একপর্যায়ে হাসান রাজ মেসের অন্য এক ছাত্রকেও সমকামিতার কুপ্রস্তাব দেন। এতে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায়।
গত শুক্রবার রাতে একপর্যায়ে হাসান রাজকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে সমকামিতার কথা স্বীকার করে। তার ও পাশের আরেক মেসের বাসিন্দা আরিয়ানের মোবাইল চেক করে ফেসবুকে ভুয়া আইডি দিয়ে চালানো একাধিক ‘গে গ্রুপের’ (সমকামী অনলাইন গ্রুপ) সন্ধান মেলে।
এরপর মেসের ছাত্ররা কৌশলে হাসান ও আরিয়ানকে দিয়ে ওই গ্রুপের অন্য তিন সদস্যদের মেসে আসার অনুরোধ জানায়। শনিবার দুপুরে জিহাদ, বাবু ও কৃষ্ণ মন্ডল তাদের সাথে মিলিত হতে ওই মেসে এলে এলাকাবাসী তাদের হাতেনাতে আটক করে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।
আটক বাবু খান জানান, তার স্ত্রীসহ ২ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সাথে জড়িত। ফরিদপুরের একটি এইডস ও এসটিডি (যৌনবাহিত রোগ) নিয়ে কাজ করা এনজিওতে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে এই সমকামী চক্রের ছেলেদের সাথে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
রাজেন্দ্র কলেজের ছাত্র জিহাদ জানান, ফেসবুকে হাসান রাজের সাথে তার পরিচয়। গত এক বছর ধরে তিনি এই লাইনে আছেন। তবে হাসান রাজের সাথে আজই প্রথম সরাসরি দেখা করতে এসে ফেঁসে গেছেন। তিনি অনুতপ্ত হয়ে বলেন, “আসলে এই কাজে জড়ানো আমার উচিত হয় নাই।”
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাবু খান, জিহাদ হোসেন ও কৃষ্ণ মন্ডলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তাদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।













