০৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::

যেভাবে পথচারী কিশোরী পেয়ে যায় বিশ্বসেরা সাংবাদিক পুরস্কার

অগ্নিপ্রহর ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 13

সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে আর পিলে চমকানো নানান খবর করেও অনেকের ভাগ্যে যখন স্বীকৃতি জুটেনা, তখন পথচারী কিশোরী ডারনেলা ফ্রেজার জীবনে একটিবার সাহসিকতার প্রমাণ রেখেই পেয়ে যান সাংবাদিকতায় সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পুলিৎজার। ২০২১ সালের পুলিৎজার পুরস্কারের বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্রয়েড হত্যার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় তুলে দেন তিনি।
২০২১ সালের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্রয়েডকে হাঁটু দিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্রয়েড। এ ঘটনার প্রথম সংবাদ প্রকাশ করায় দ্য মিনিয়াপোলিস স্টার ট্রিবিউনকে ব্রেকিং নিউজ ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
১৯১৭ সাল থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।
১৯১১ সালে মৃত্যুর সময় পুলিৎজার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ রেখে গিয়েছিলেন। তার অর্থের কিছু অংশ দিয়ে ১৯১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্কুল গঠিত হয়েছিল। এই অর্থের মাধ্যমে ১৯১৭ সালের ৪ জুন প্রথম পুলিৎজার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে ২১টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর পুরস্কার ঘোষণা করে।
মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্রয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার ওপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। এ সময় পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী করেন ডারনেলা ফ্রেজিয়ার। তার ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কারণে অবশেষে ফ্রয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন আদালত। পুলিৎসার কমিটি বলেছে, ডারনেলা ফ্রেজিয়ার অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেদিন ভিডিওটি করেছেন বলেই পুলিশের ওই বর্বরতা নিয়ে বিশ্ববাসী সোচ্চার হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিচার হয়।
ফ্রেজিয়ার সেদিন তার ৯ বছরের এক চাচাতো বোনকে নিয়ে ‘কাপ ফুডস’ নামে এক দোকানে যাচ্ছিলেন। দোকানটা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে তার বাসার বেশ কাছেই। পথে তিনি দেখতে পান পুলিশ কিভাবে ফ্রয়েডের গলা চেপে ধরেছে। তিনি দাঁড়িয়ে যান। ফোন বের করেন এবং রেকর্ড বোতামে চাপ দেন। পুরো ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড তিনি ভিডিওতে ছবি তোলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ অফিসাররা ও ফ্লয়েড সেখানে ছিলেন। পুলিশ অফিসাররা হেঁটে স্থান
এই ভিডিওটি ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর ভাইরাল হয়ে যায়, যা বিশ্বব্যাপী “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” (Black Lives Matter) আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে।
২০২১ সালে পুলিৎজার বোর্ড তাঁকে সাংবাদিকতার বাইরে “স্পেশাল সাইটেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস” (Special Citations and Awards) ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে。সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ফ্রেজিয়ার পরবর্তীতে ডেরেক শভিনের বিচারের আদালতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন, যার ফলে মূল অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হয়।

 

শেয়ার করুন

যেভাবে পথচারী কিশোরী পেয়ে যায় বিশ্বসেরা সাংবাদিক পুরস্কার

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করে আর পিলে চমকানো নানান খবর করেও অনেকের ভাগ্যে যখন স্বীকৃতি জুটেনা, তখন পথচারী কিশোরী ডারনেলা ফ্রেজার জীবনে একটিবার সাহসিকতার প্রমাণ রেখেই পেয়ে যান সাংবাদিকতায় সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পুলিৎজার। ২০২১ সালের পুলিৎজার পুরস্কারের বিশেষ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্রয়েড হত্যার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড় তুলে দেন তিনি।
২০২১ সালের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্রয়েডকে হাঁটু দিয়ে তার ঘাড় চেপে ধরেন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাউভিন। এতে কিছুক্ষণের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্রয়েড। এ ঘটনার প্রথম সংবাদ প্রকাশ করায় দ্য মিনিয়াপোলিস স্টার ট্রিবিউনকে ব্রেকিং নিউজ ক্যাটাগরিতে পুলিৎজার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
১৯১৭ সাল থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।
১৯১১ সালে মৃত্যুর সময় পুলিৎজার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে প্রচুর পরিমাণ অর্থ রেখে গিয়েছিলেন। তার অর্থের কিছু অংশ দিয়ে ১৯১২ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতার স্কুল গঠিত হয়েছিল। এই অর্থের মাধ্যমে ১৯১৭ সালের ৪ জুন প্রথম পুলিৎজার পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বর্তমানে ২১টি ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত, নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর পুরস্কার ঘোষণা করে।
মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্রয়েডকে গ্রেফতারের সময় তার গলার ওপর ৯ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে হাঁটু গেড়ে বসে ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার। এ সময় পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দী করেন ডারনেলা ফ্রেজিয়ার। তার ওই ভাইরাল হওয়া ভিডিওর কারণে অবশেষে ফ্রয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক শভিনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেছে মার্কিন আদালত। পুলিৎসার কমিটি বলেছে, ডারনেলা ফ্রেজিয়ার অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেদিন ভিডিওটি করেছেন বলেই পুলিশের ওই বর্বরতা নিয়ে বিশ্ববাসী সোচ্চার হয় এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিচার হয়।
ফ্রেজিয়ার সেদিন তার ৯ বছরের এক চাচাতো বোনকে নিয়ে ‘কাপ ফুডস’ নামে এক দোকানে যাচ্ছিলেন। দোকানটা মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে তার বাসার বেশ কাছেই। পথে তিনি দেখতে পান পুলিশ কিভাবে ফ্রয়েডের গলা চেপে ধরেছে। তিনি দাঁড়িয়ে যান। ফোন বের করেন এবং রেকর্ড বোতামে চাপ দেন। পুরো ১০ মিনিট ৯ সেকেন্ড তিনি ভিডিওতে ছবি তোলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত পুলিশ অফিসাররা ও ফ্লয়েড সেখানে ছিলেন। পুলিশ অফিসাররা হেঁটে স্থান
এই ভিডিওটি ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর ভাইরাল হয়ে যায়, যা বিশ্বব্যাপী “ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার” (Black Lives Matter) আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করে।
২০২১ সালে পুলিৎজার বোর্ড তাঁকে সাংবাদিকতার বাইরে “স্পেশাল সাইটেশন অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস” (Special Citations and Awards) ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে。সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
ফ্রেজিয়ার পরবর্তীতে ডেরেক শভিনের বিচারের আদালতে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন, যার ফলে মূল অপরাধী দোষী সাব্যস্ত হয়।