দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, কলম্বো হয়ে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / 6
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনার পর আর নিরাপত্তা ছাড়পত্র পেলেও তিনি দিল্লিতে প্রবেশ করেননি। বরং রাতেই তিনি কলম্বো বিমানবন্দর হয়ে ঢাকা ফেরার উদ্দেশ্যে দিল্লি বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।
সোমবার থেকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) সিনিয়র কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা রোববার সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে কূটনৈতিক পত্র দিয়ে আগাম অবহিত করার পরেও রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে উচ্চ মহলের নির্দেশে অনুমতি দেওয়া হলেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ না করে কলম্বো হয়ে ঢাকার পথে রওনা দেন।
জানা গেছে, দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ওই বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে উপদেষ্টার অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবার দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে রহস্যজনক কারণে ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়টি স্পষ্ট করেনি। এমন পরিস্থিতিতে জাহেদ উর রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রাতেই তিনি দিল্লি থেকে কলম্বোর উদ্দেশে রওনা করেছেন। সোমবার দুপুরের আগেই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮-এর এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, একটি সরকারি বৈঠকে অংশ নিতে প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে ভারতে পৌঁছানোর পর নিয়মিত ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় জাহেদ উর রহমানের নাম নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি নজরদারি তালিকায় (ওয়াচলিস্ট) শনাক্ত হয়। এর পরপরই তাকে অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়।
জাহেদ উর রহমানের নাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট একটি কালোতালিকা (ব্ল্যাকলিস্ট) থেকে আগেই অপসারণ করা হয়েছিল। তবে সেই তথ্য অভিবাসন বিভাগের ওয়াচলিস্টে যথাসময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় তার নাম সেখানে থেকে যায়। ফলে দিল্লি বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি হয় এবং তাকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হয়।
এদিকে, এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব।
রোববার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার প্রতি ভারতের এই আচরণকে ‘অসৌজন্যমূলক, অমর্যাদাকর এবং উদ্দেশ্যমূলক হেনস্তা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করা ড. জাহেদ উর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভারত-সমর্থিত আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানেও তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল।
এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ সহকারী আরও দাবি করেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের এমন হয়রানি দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সমস্যার অংশ এবং তিনি নিজেও অতীতে এর শিকার হয়েছেন। এই আন্তর্জাতিক প্রোটোকল লঙ্ঘনের জন্য ভারতের আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।















