০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

এআইবিপ্লব: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের জন্য আশীর্বাদ না কি হুমকি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 63

বিশ্বজুড়েএখন একাই রাজত্ব করছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু করেমিডজার্নি—এআইয়ের একের পর একবিস্ময়কর উদ্ভাবন কর্মসংস্থানের প্রথাগত ধারণা বদলে দিচ্ছে। এইবদলের ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও।দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখসক্রিয় ফ্রিল্যান্সার এবং কয়েক কোটিতরুণ এখন এক দোটানায়—এআই কি তাদেরকাজ কেড়ে নেবে, নাকিখুলে দেবে সম্ভাবনার নতুনদুয়ার?

চ্যালেঞ্জেরমুখে প্রথাগত কাজ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরমতে, এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেডাটা এন্ট্রি, সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইন, বেসিক কন্টেন্ট রাইটিং এবং ট্রান্সলেশনের মতোকাজগুলো। এখন একটি সাধারণলোগো বা নিবন্ধ এআইদিয়ে কয়েক সেকেন্ডেই তৈরিকরা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেএই ধরনের ছোট ছোট কাজেরচাহিদা কমছে, যা অনেক বাংলাদেশিফ্রিল্যান্সারের আয়ের প্রধান উৎসছিল।

দক্ষতাপরিবর্তনের সময় এখনই তবেমুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রতিবেদনবলছে, যারা এআই-কেভয় না পেয়ে একে ‘সহকারী’ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে, তারাইআগামী দিনে রাজত্ব করবে।

ফ্রিল্যান্সার মো: ও ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিষ্ট রইছ উদ্দিনবলেন, “আগে একটা ওয়েবসাইট কোডিং করতে আমার তিন দিন লাগত, এখন এআইয়ের সাহায্যে তা এক দিনেই সম্ভব। আমাদের কাজ হারাবে না, বরং কাজের ধরন বদলে যাবে। আমাদের এখন এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাডভান্সড স্কিলের দিকে নজর দিতে হবে।”

তরুণদেরজন্য নতুন সম্ভাবনা ভবিষ্যতেরকর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তিনির্ভর। এআইচিপ ডিজাইন, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সিকিউরিটিরমতো খাতে দক্ষ কর্মীরবিশাল চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেরতরুণরা যদি প্রচলিত শিক্ষারপাশাপাশি এই ফিউচারিস্টিক স্কিলগুলোআয়ত্ত করতে পারে, তবেবৈশ্বিক বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আইসিটি শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন জানান, “ভয়ের কিছু নেই। এক সময় কম্পিউটার আসায় মানুষ ভেবেছিল বেকারত্ব বাড়বে, কিন্তু আদতে কর্মসংস্থান কয়েকগুণ বেড়েছে। এআই-এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। তবে যারা নিজেকে পরিবর্তন করবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে।”

আগামী দশকের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরেরাখতে হলে এখন থেকেইসরকারি ও বেসরকারি পর্যায়েকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া প্রয়োজনবলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

শেয়ার করুন

এআইবিপ্লব: বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের জন্য আশীর্বাদ না কি হুমকি?

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়েএখন একাই রাজত্ব করছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। চ্যাটজিপিটি থেকে শুরু করেমিডজার্নি—এআইয়ের একের পর একবিস্ময়কর উদ্ভাবন কর্মসংস্থানের প্রথাগত ধারণা বদলে দিচ্ছে। এইবদলের ঢেউ লেগেছে বাংলাদেশেও।দেশের প্রায় সাড়ে ছয় লাখসক্রিয় ফ্রিল্যান্সার এবং কয়েক কোটিতরুণ এখন এক দোটানায়—এআই কি তাদেরকাজ কেড়ে নেবে, নাকিখুলে দেবে সম্ভাবনার নতুনদুয়ার?

চ্যালেঞ্জেরমুখে প্রথাগত কাজ তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরমতে, এআইয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেডাটা এন্ট্রি, সাধারণ গ্রাফিক ডিজাইন, বেসিক কন্টেন্ট রাইটিং এবং ট্রান্সলেশনের মতোকাজগুলো। এখন একটি সাধারণলোগো বা নিবন্ধ এআইদিয়ে কয়েক সেকেন্ডেই তৈরিকরা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেএই ধরনের ছোট ছোট কাজেরচাহিদা কমছে, যা অনেক বাংলাদেশিফ্রিল্যান্সারের আয়ের প্রধান উৎসছিল।

দক্ষতাপরিবর্তনের সময় এখনই তবেমুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। প্রতিবেদনবলছে, যারা এআই-কেভয় না পেয়ে একে ‘সহকারী’ হিসেবে ব্যবহার করতে শিখবে, তারাইআগামী দিনে রাজত্ব করবে।

ফ্রিল্যান্সার মো: ও ডিজিটাল মার্কেটিং স্পেশালিষ্ট রইছ উদ্দিনবলেন, “আগে একটা ওয়েবসাইট কোডিং করতে আমার তিন দিন লাগত, এখন এআইয়ের সাহায্যে তা এক দিনেই সম্ভব। আমাদের কাজ হারাবে না, বরং কাজের ধরন বদলে যাবে। আমাদের এখন এআই প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাডভান্সড স্কিলের দিকে নজর দিতে হবে।”

তরুণদেরজন্য নতুন সম্ভাবনা ভবিষ্যতেরকর্মসংস্থান হবে প্রযুক্তিনির্ভর। এআইচিপ ডিজাইন, রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং এবং সাইবার সিকিউরিটিরমতো খাতে দক্ষ কর্মীরবিশাল চাহিদা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশেরতরুণরা যদি প্রচলিত শিক্ষারপাশাপাশি এই ফিউচারিস্টিক স্কিলগুলোআয়ত্ত করতে পারে, তবেবৈশ্বিক বাজারে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

আইসিটি শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন জানান, “ভয়ের কিছু নেই। এক সময় কম্পিউটার আসায় মানুষ ভেবেছিল বেকারত্ব বাড়বে, কিন্তু আদতে কর্মসংস্থান কয়েকগুণ বেড়েছে। এআই-এর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে। তবে যারা নিজেকে পরিবর্তন করবে না, তারা পিছিয়ে পড়বে।”

আগামী দশকের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরেরাখতে হলে এখন থেকেইসরকারি ও বেসরকারি পর্যায়েকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া প্রয়োজনবলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।