০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
``ইন্টারনেটে যা দেখছেন তার সবটুকুই সত্যি নয়''

সাইবার সুরক্ষায় কেনো গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা জরুরি

আলী আকবর
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 92

সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল স্বাক্ষরতা (Digital Media Literacy) বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এটি কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা নয়, বরং অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিশ্লেষণ এবং দায়িত্বশীলভাবে তা প্রচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

বর্তমানে এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা চেহারা হুবহু নকল করে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। বড় বড় সংবাদমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। এজন্য অনলাইনে কোনো সংবাদ দেখার পর সেটি বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা জরুরি।

“ইন্টারনেটে যা দেখছেন তার সবটুকুই সত্যি নয়-সংশয় প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন করা ডিজিটাল স্বাক্ষরতার প্রথম ধাপ।”

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা আমাদের শেখায় যে, খবর বা কনটেন্টটি কি মিডিয়া পেজ থেকে এসেছে? এটি কি কোনো স্বীকৃত মূলধারার গণমাধ্যম? অনেক সময় পুরনো সংবাদকে নতুনভাবে প্রচার করে গুজব ছড়ানো হয়। এজন্য একই সংবাদ অন্য বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না তা দেখা দরকার। অনেক সময় চটকদার শিরোনাম দিয়ে পাঠকদের বিভ্রান্ত করা হয়।

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা সম্পন্ন একজন সংবাদটি কোন ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল ব্যক্তি সংবাদের শিরোনাম দেখে উত্তেজিত না হয়ে এর ভেতরের বিষয়বস্তু এবং তথ্যের প্রমাণ খোঁজেন।

ফেসবুক বা ইউটিউব আমাদের পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখায়। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল’। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা আমাদের সচেতন করে যে, আমরা যা দেখছি তা পুরো সত্যের একটি অংশ মাত্র হতে পারে। এটি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং তথ্যের একপাক্ষিকতা বুঝতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ পড়ার সময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন: ইমেইল, পাসওয়ার্ড বা লোকেশন) কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে হয়, তা ডিজিটাল স্বাক্ষরতার একটি বড় অংশ। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে সেটি নিরাপদ কি না তা বুঝতে পারা একটি জরুরি দক্ষতা।

আমরা যা শেয়ার করি, তার প্রভাব সমাজে পড়ে। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই হলো ডিজিটাল নাগরিকত্বের পরিচয়। অনলাইনে কোনো খবর দেখলে প্রথমেই দেখুন সেটি কোন ওয়েবসাইট থেকে আসছে। শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হোন। যদি কোনো তথ্য আপনার মনে সামান্যতম সন্দেহ তৈরি করে, তবে সেটি শেয়ার করবেন না।

যদি কোনো তথ্য আপনার মনে সামান্যতম সন্দেহ তৈরি করে, তবে সেটি শেয়ার করবেন না। ডোমেইন চেক করুন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিশ্চিত হোন। কোনো ছবি দেখে সন্দেহ হলে সেটি গুগল বা ইয়ানডেক্স দিয়ে সার্চ করে দেখুন।
বাংলাদেশের ভুয়া খবরগুলো সাধারণত নামকরা টিভির নাম ব্যবহার করে। এজন্য চ্যানেললোগো এবং ফন্ট পর্যবেক্ষণ করুন। ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়া রোধ করে রাজনীতি, স্বাস্থ্য বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে; গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে এটি জরুরি।

শেয়ার করুন

``ইন্টারনেটে যা দেখছেন তার সবটুকুই সত্যি নয়''

সাইবার সুরক্ষায় কেনো গণমাধ্যম স্বাক্ষরতা জরুরি

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংবাদমাধ্যমের ডিজিটাল স্বাক্ষরতা (Digital Media Literacy) বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। এটি কেবল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা নয়, বরং অনলাইনে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই, বিশ্লেষণ এবং দায়িত্বশীলভাবে তা প্রচার করার ক্ষমতাকে বোঝায়।

বর্তমানে এআই ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠস্বর বা চেহারা হুবহু নকল করে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। বড় বড় সংবাদমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। এজন্য অনলাইনে কোনো সংবাদ দেখার পর সেটি বিশ্বাস করার আগে যাচাই করা জরুরি।

“ইন্টারনেটে যা দেখছেন তার সবটুকুই সত্যি নয়-সংশয় প্রকাশ করা এবং প্রশ্ন করা ডিজিটাল স্বাক্ষরতার প্রথম ধাপ।”

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা আমাদের শেখায় যে, খবর বা কনটেন্টটি কি মিডিয়া পেজ থেকে এসেছে? এটি কি কোনো স্বীকৃত মূলধারার গণমাধ্যম? অনেক সময় পুরনো সংবাদকে নতুনভাবে প্রচার করে গুজব ছড়ানো হয়। এজন্য একই সংবাদ অন্য বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে কি না তা দেখা দরকার। অনেক সময় চটকদার শিরোনাম দিয়ে পাঠকদের বিভ্রান্ত করা হয়।

ডিজিটাল স্বাক্ষরতা সম্পন্ন একজন সংবাদটি কোন ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল ব্যক্তি সংবাদের শিরোনাম দেখে উত্তেজিত না হয়ে এর ভেতরের বিষয়বস্তু এবং তথ্যের প্রমাণ খোঁজেন।

ফেসবুক বা ইউটিউব আমাদের পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখায়। একে বলা হয় ফিল্টার বাবল’। ডিজিটাল স্বাক্ষরতা আমাদের সচেতন করে যে, আমরা যা দেখছি তা পুরো সত্যের একটি অংশ মাত্র হতে পারে। এটি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং তথ্যের একপাক্ষিকতা বুঝতে সাহায্য করে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ পড়ার সময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য (যেমন: ইমেইল, পাসওয়ার্ড বা লোকেশন) কীভাবে সুরক্ষিত রাখতে হয়, তা ডিজিটাল স্বাক্ষরতার একটি বড় অংশ। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে সেটি নিরাপদ কি না তা বুঝতে পারা একটি জরুরি দক্ষতা।

আমরা যা শেয়ার করি, তার প্রভাব সমাজে পড়ে। কোনো তথ্য নিশ্চিত না হয়ে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকাই হলো ডিজিটাল নাগরিকত্বের পরিচয়। অনলাইনে কোনো খবর দেখলে প্রথমেই দেখুন সেটি কোন ওয়েবসাইট থেকে আসছে। শেয়ার করার আগে নিশ্চিত হোন। যদি কোনো তথ্য আপনার মনে সামান্যতম সন্দেহ তৈরি করে, তবে সেটি শেয়ার করবেন না।

যদি কোনো তথ্য আপনার মনে সামান্যতম সন্দেহ তৈরি করে, তবে সেটি শেয়ার করবেন না। ডোমেইন চেক করুন। ওয়েবসাইটের ঠিকানা নিশ্চিত হোন। কোনো ছবি দেখে সন্দেহ হলে সেটি গুগল বা ইয়ানডেক্স দিয়ে সার্চ করে দেখুন।
বাংলাদেশের ভুয়া খবরগুলো সাধারণত নামকরা টিভির নাম ব্যবহার করে। এজন্য চ্যানেললোগো এবং ফন্ট পর্যবেক্ষণ করুন। ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে পড়া রোধ করে রাজনীতি, স্বাস্থ্য বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে; গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে এটি জরুরি।