০৫:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হলেন ডা. নাদিম ছিলেন না নায়াব ইউসুফ, মিটিং কাভার করতে পারলেন না সাংবাদিকেরা “হাজী শরিয়তুল্লাহদের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৪৭ পাওয়ার কারণেই আমরা ৭১ পেয়েছি” একসাথে ৩ মেলার সমালোচনা : জবাবে যা বললেন নারী উদ্যোক্তা লুবাবা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার
গত বছরের ৮ জুলাই তিনি সাজা মওকুফের আবেদন করেন।

১৩ বছর পর আত্মসমর্পণ করলেন আবুল কালাম আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 256

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিশনের কাছে আত্মসমর্পণের আবেদন করেন তিনি।

গত ৮ জুলাই এই মামলায় সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এসময় তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদনের ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় ১৮৯৮ সালের ৫ ধারা ৪০১ (১) এর ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করেন।

গত ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কারা-২) শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে সাজা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আদেশে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

সরকারি এই আদেশের ফলে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে সু্প্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সময় থেকে ১৩ বছর তিনি পলাতক।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। একটি অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের এই রায়ই ছিল যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত প্রথম মামলার রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন। গত বছর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাজা স্থগিতের আবেদন করার আগে তিনি দেশে ফিরেন।

জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত  মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আমেরিকা চলে যান। সেখানে তিনি ছেলের কাছে থাকতেন। গতি বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাজা মওকুফের আবেদন করার আগে তিনি দেশে ফিরেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড়খারদিয়া গ্রামে।

ট্যাগ

শেয়ার করুন

গত বছরের ৮ জুলাই তিনি সাজা মওকুফের আবেদন করেন।

১৩ বছর পর আত্মসমর্পণ করলেন আবুল কালাম আজাদ

আপডেট সময় : ০১:৪০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিশনের কাছে আত্মসমর্পণের আবেদন করেন তিনি।

গত ৮ জুলাই এই মামলায় সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এসময় তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আবেদনের ওপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়ে পাঠান। আইন মন্ত্রণালয় ১৮৯৮ সালের ৫ ধারা ৪০১ (১) এর ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশ এক বছরের জন্য স্থগিত করেন।

গত ২২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (কারা-২) শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে সাজা স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আদেশে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত দণ্ডাদেশ আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক আপিল দায়েরের শর্তে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

সরকারি এই আদেশের ফলে মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে সু্প্রিম কোর্টে আপিল করার আগে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন বলে আদেশে বলা হয়।

মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল-২ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সময় থেকে ১৩ বছর তিনি পলাতক।

আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হলেও মৃত্যুদণ্ডের সাজা হওয়ার কারণে আলাদা করে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়নি। একটি অভিযোগ প্রমাণের অভাবে খারিজ করা হয়।

আবুল কালাম আজাদের এই রায়ই ছিল যুদ্ধাপরাধ সম্পর্কিত প্রথম মামলার রায়। তবে রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি দেশত্যাগ করেন। গত বছর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাজা স্থগিতের আবেদন করার আগে তিনি দেশে ফিরেন।

জানা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত  মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আমেরিকা চলে যান। সেখানে তিনি ছেলের কাছে থাকতেন। গতি বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাজা মওকুফের আবেদন করার আগে তিনি দেশে ফিরেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড়খারদিয়া গ্রামে।