০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
ফের জমা পড়লো ২৩টি দেশীয় অস্ত্র

দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / 104

“অস্ত্রের বদলে ফুল’— শান্তির পথে এক অনন্য অঙ্গীকার। আজকের দিনটি মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।”

গতকাল বুধবার রাতে ফেসবুক পোস্টে এমনই একটি শান্তির বারতা ছড়িয়ে দিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন- ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাতের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধে জড়াবেন না—এই দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের ব্যবহৃত, ঢাল, সরকি, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার প্রতীক ফুল।’

নিত্যদিন দাঙ্গা-ফ্যাসাদে লিপ্ত জনপদ হিসেবে ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমকক্ষ হয়ে ওঠা ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আবারো শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে ঘাম ঝাড়াচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাগণ। এর অংশ হিসেবে মাঝারদিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় অধিবাসীদের দেশীয় অস্ত্র সমর্পন করে শান্তির পথে ফিরে আসতে সকলকে অনুরোধ জানান তারা।
এরপর বুধবার বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দাঙ্গা-সহিংসতায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৬ গ্রামবাসী ১২টি ঢাল ও ১১টি সড়কি-টেটা জমা দেন।

যদিও এখনো এর বাইরে আরো বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র অনেকের সংগ্রহে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। ফলে যারা দেশীয় অস্ত্র সমর্পণ করলেন না, তারা কি এই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় শামিল হচ্ছেন না? এই প্রশ্নের পাশাপাশি কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে, দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়ে আবার কেউ কি মামলা মোকদ্দমা হতে নিজেকে কিছুটা আসান দিতে কৌশল বেছে নিলেন?

সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে, খুবই অসহনীয় পন্থায় উগ্রতার পথ অবলম্বন করা যেনো সালথায় একটা শ্রেণির কাছে নিজের বড়ত্ব জাহিরের উপায়! সেইখানে প্রশাসনের এই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু স্বার্থবাজ কতিপয় ব্যক্তি, বিশেষ করে যেই শ্রেণির প্রতিনিধিরা তাদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে একেবারে তৃণমূলের জনগণকে গোয়াড়ের মতো ব্যবহার করতে তাদের অধীনস্ত করে রেখেছেন, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা স্কুল-কলেজের পাঠ বঞ্চিত যেই জনগোষ্ঠীর সম্বল শুধুই যুদ্ধ করে টিকে থাকার সাহস, ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ মামলা-মোকদ্দমার ফাঁদে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে তুলেছেন।

এই হতাশায় নিমজ্জিত জনগোষ্ঠী ঠিক কি কারণে, কোন ভরসায় তাদের টিকে থাকার জন্য একমাত্র অবলম্বন এই হাতের অস্ত্র জমা দিয়ে সুবোধ নাগরিক হয়ে উঠবেন, তার কোন এন্তেজাম অবশ্য লক্ষ্য করা যায়নি। তাই এবারেও কি তারা এই মহতি প্রচেষ্টায় জড়িতদের চোখ ফাঁকি দিতে সবকিছুই শুধু আনুষ্ঠানিকতা বলে ভেবে নিলেন কিনা, সে সন্দেহও রয়ে গেছে।

এর আগে একাধিকবার এই জনপদে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেওয়া হলেও কার্যত বাস্তবে দাঙ্গা-ফ্যাসাদের বিষয়ে জনগণের মাঝে সেই সচেতনতা তৈরির পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা ধারাবাহিকতা পায়নি, কিংবা সেখানে এমন কোন দায়িত্বশীল শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব পরিলক্ষিত  হয়নি বলে ঘটনা পরম্পরায় দেখা যাচ্ছে।

এ অবস্থাতে সেখানে এই দেশীয় অস্ত্র সমর্পণ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত। এর সুফল যেনো আগামীর দিনগুলোতে প্রভাব রাখতে পারে, সেটিই সকলের প্রত্যাশা।

জানা গেছে, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া, খলিশাপট্টি, মুরাটিয়া, নওপাড়া, কাগদী ও বাতাগ্রামে হাজারো দেশীয় অস্ত্র মজুদ রয়েছে। বুধবার তার মধ্যে জমা পড়েছে ২৩ টি। যারা এসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা জানানো হয় ফুল দিয়ে।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, সালথা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বাবলুর রহমান খান বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন। তাদের অনুসরণ করে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শান্তির আহ্বানের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, দাঙ্গাফ্যাসাদ না করে আলোকিত সালথা গড়ার লক্ষ্যে যারা দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই। প্রশাসনের এ উদ্যোগও সময়োচিত। তবে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, ৬টি গ্রাম থেকে মাত্র ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা পড়েছে। যেখানে সংঘর্ষ হলে শত শত দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে সন্দেহ থেকে যায় যে- তারা কি স্বেচ্ছায় শান্তির জন্য এসব অস্ত্র জমা দিচ্ছেন? নাকি মামলা মোকদ্দমার চাপ থেকে নিজেদের আড়াল করার কোন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে। তিনি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শফিকুল বলেন, যারা অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, তাদেরও কর্তব্য রয়েছে অন্যদেরও শান্তির প্রতি অনুগামী করে তোলার জন্য। সাংবাদিকদের ভুমিকা রয়েছে গভীরের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রকৃতদের প্রতিনিধিত্বশীল করে তোলার জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন বলেন, অস্ত্র সমর্পণ করা শুধু কিছু অস্ত্র জমা দেওয়া নয়; এটি প্রতিহিংসা ত্যাগ করে সহমর্মিতা গ্রহণের এক সাহসী সিদ্ধান্ত। তাদের জন্য এটি একটি নতুন শুরুর প্রতীক, যেখানে বিরোধের পরিবর্তে থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সংঘাতের পরিবর্তে সৌহার্দ্য এবং বিভেদের পরিবর্তে থাকবে ঐক্য।
তিনি এই মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনাদের এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনের পথ সুগম করবে। তিনি সকলকে সংঘাতের পথ পরিহার করে সম্প্রীতির বন্ধনে শামিল হওয়ার উদাত্ত অনুরোধ জানান।

শেয়ার করুন

ফের জমা পড়লো ২৩টি দেশীয় অস্ত্র

দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়?

আপডেট সময় : ১১:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

“অস্ত্রের বদলে ফুল’— শান্তির পথে এক অনন্য অঙ্গীকার। আজকের দিনটি মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।”

গতকাল বুধবার রাতে ফেসবুক পোস্টে এমনই একটি শান্তির বারতা ছড়িয়ে দিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন- ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি ও সংঘাতের অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে ভবিষ্যতে আর কোনো বিরোধে জড়াবেন না—এই দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে এলাকার মানুষ স্বেচ্ছায় তাদের ব্যবহৃত, ঢাল, সরকি, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন এবং গ্রহণ করেছেন শান্তি, সম্প্রীতি ও ভালোবাসার প্রতীক ফুল।’

নিত্যদিন দাঙ্গা-ফ্যাসাদে লিপ্ত জনপদ হিসেবে ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমকক্ষ হয়ে ওঠা ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আবারো শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে ঘাম ঝাড়াচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাগণ। এর অংশ হিসেবে মাঝারদিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় অধিবাসীদের দেশীয় অস্ত্র সমর্পন করে শান্তির পথে ফিরে আসতে সকলকে অনুরোধ জানান তারা।
এরপর বুধবার বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে দাঙ্গা-সহিংসতায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করে মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৬ গ্রামবাসী ১২টি ঢাল ও ১১টি সড়কি-টেটা জমা দেন।

যদিও এখনো এর বাইরে আরো বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র অনেকের সংগ্রহে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। ফলে যারা দেশীয় অস্ত্র সমর্পণ করলেন না, তারা কি এই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় শামিল হচ্ছেন না? এই প্রশ্নের পাশাপাশি কিছুটা সন্দেহ রয়ে গেছে, দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়ে আবার কেউ কি মামলা মোকদ্দমা হতে নিজেকে কিছুটা আসান দিতে কৌশল বেছে নিলেন?

সামান্য তুচ্ছ বিষয় নিয়ে, খুবই অসহনীয় পন্থায় উগ্রতার পথ অবলম্বন করা যেনো সালথায় একটা শ্রেণির কাছে নিজের বড়ত্ব জাহিরের উপায়! সেইখানে প্রশাসনের এই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু স্বার্থবাজ কতিপয় ব্যক্তি, বিশেষ করে যেই শ্রেণির প্রতিনিধিরা তাদের নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে একেবারে তৃণমূলের জনগণকে গোয়াড়ের মতো ব্যবহার করতে তাদের অধীনস্ত করে রেখেছেন, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা স্কুল-কলেজের পাঠ বঞ্চিত যেই জনগোষ্ঠীর সম্বল শুধুই যুদ্ধ করে টিকে থাকার সাহস, ইতোমধ্যে তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ মামলা-মোকদ্দমার ফাঁদে পড়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে তুলেছেন।

এই হতাশায় নিমজ্জিত জনগোষ্ঠী ঠিক কি কারণে, কোন ভরসায় তাদের টিকে থাকার জন্য একমাত্র অবলম্বন এই হাতের অস্ত্র জমা দিয়ে সুবোধ নাগরিক হয়ে উঠবেন, তার কোন এন্তেজাম অবশ্য লক্ষ্য করা যায়নি। তাই এবারেও কি তারা এই মহতি প্রচেষ্টায় জড়িতদের চোখ ফাঁকি দিতে সবকিছুই শুধু আনুষ্ঠানিকতা বলে ভেবে নিলেন কিনা, সে সন্দেহও রয়ে গেছে।

এর আগে একাধিকবার এই জনপদে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হাতে নেওয়া হলেও কার্যত বাস্তবে দাঙ্গা-ফ্যাসাদের বিষয়ে জনগণের মাঝে সেই সচেতনতা তৈরির পর্যাপ্ত প্রচেষ্টা ধারাবাহিকতা পায়নি, কিংবা সেখানে এমন কোন দায়িত্বশীল শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব পরিলক্ষিত  হয়নি বলে ঘটনা পরম্পরায় দেখা যাচ্ছে।

এ অবস্থাতে সেখানে এই দেশীয় অস্ত্র সমর্পণ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার দৃষ্টান্ত। এর সুফল যেনো আগামীর দিনগুলোতে প্রভাব রাখতে পারে, সেটিই সকলের প্রত্যাশা।

জানা গেছে, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া, খলিশাপট্টি, মুরাটিয়া, নওপাড়া, কাগদী ও বাতাগ্রামে হাজারো দেশীয় অস্ত্র মজুদ রয়েছে। বুধবার তার মধ্যে জমা পড়েছে ২৩ টি। যারা এসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদের শুভেচ্ছা জানানো হয় ফুল দিয়ে।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, সালথা থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বাবলুর রহমান খান বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন। তাদের অনুসরণ করে অন্যরাও এগিয়ে আসবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ বিষয়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শান্তির আহ্বানের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম বলেন, দাঙ্গাফ্যাসাদ না করে আলোকিত সালথা গড়ার লক্ষ্যে যারা দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তাদেরকে শুভেচ্ছা জানাই। প্রশাসনের এ উদ্যোগও সময়োচিত। তবে এটিও লক্ষ্যণীয় যে, ৬টি গ্রাম থেকে মাত্র ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা পড়েছে। যেখানে সংঘর্ষ হলে শত শত দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। এতে সন্দেহ থেকে যায় যে- তারা কি স্বেচ্ছায় শান্তির জন্য এসব অস্ত্র জমা দিচ্ছেন? নাকি মামলা মোকদ্দমার চাপ থেকে নিজেদের আড়াল করার কোন কৌশল লুকিয়ে রয়েছে। তিনি এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আরো এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। শফিকুল বলেন, যারা অস্ত্র সমর্পণ করেছেন, তাদেরও কর্তব্য রয়েছে অন্যদেরও শান্তির প্রতি অনুগামী করে তোলার জন্য। সাংবাদিকদের ভুমিকা রয়েছে গভীরের সমস্যা চিহ্নিত করে প্রকৃতদের প্রতিনিধিত্বশীল করে তোলার জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবিরউদ্দিন বলেন, অস্ত্র সমর্পণ করা শুধু কিছু অস্ত্র জমা দেওয়া নয়; এটি প্রতিহিংসা ত্যাগ করে সহমর্মিতা গ্রহণের এক সাহসী সিদ্ধান্ত। তাদের জন্য এটি একটি নতুন শুরুর প্রতীক, যেখানে বিরোধের পরিবর্তে থাকবে ভ্রাতৃত্ব, সংঘাতের পরিবর্তে সৌহার্দ্য এবং বিভেদের পরিবর্তে থাকবে ঐক্য।
তিনি এই মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনাদের এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ গঠনের পথ সুগম করবে। তিনি সকলকে সংঘাতের পথ পরিহার করে সম্প্রীতির বন্ধনে শামিল হওয়ার উদাত্ত অনুরোধ জানান।