০৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা

ফরিদপুরে সাংবাদিকের মানববন্ধন নিয়ে নেটিজেনদের নানা প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 168

বাসস ও দেশ টিভির ফরিদপুর প্রতিনিধি আনিচুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রেসক্লাবের কমিটির নেতৃবৃন্দ বা মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের দেখা যায়নি। বিপরীতে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে নেটিজেনদের নজরে আসার পর তাদের অনেকেরই প্রশ্ন করতে দেখা গেছে- সাংবাদিকের উপর হামলা প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এরা কারা?
ভুক্তভোগী বাসস ও দেশ টিভির ফরিদপুর প্রতিনিধি আনিচুর রহমান এর আগে জানান, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করার জের ধরে তিনি হামলার শিকার হন।
তিনি দাবি করেন, অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী তিনি ওই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কোন অফিস থেকে এই অ্যাসাইনমেন্ট তাকে দেওয়া হয়েছিল তা তিনি পরিস্কার করেননি। আর ওই হামলার আগে এ সংক্রান্ত কোন সংবাদও কোন গণমাধ্যমে প্রকাশের খবর জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, আনিচুর রহমানের উপর হামলার ওই ঘটনার পরেরদিন তিনি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অবাক করার বিষয় হলো- থানায় অভিযোগ করার পরেও সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার খবরও কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি ফেসবুকে ওই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত। ফলে গোটা বিষয়টি একটি বড় প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
রহস্য আরো বেড়েছে- হামলার ঘটনায় দায়ী মো: সাব্বির নামে ওই যুবকের পাল্টা একটি সংবাদ সম্মেলনে বিষ্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।
আনিচুরকে কিলগুষি মেরে আহত করার বিষয়টি স্বীকার করে সাব্বির দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করতে যেয়ে ২০২৪ সালের শেষের দিকে আমার বন্ধু তানভীর আনান নির্জনের মাধ্যমে পরিচয় হয় তার মামা আনিচুরের সাথে। তারপর তাদের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয়ে দুই দফায় একটি সরকারি অফিস থেকে সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। তিনি বলেন, সেই টাকা নেওয়ার ঘটনায় তারা আমার নাম জড়িয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার পরে আমাকে ক্রমাগত বিভিন্ন মহল থেকে দোষারোপ করা হয় ও সামাজিক হেনেস্তারও শিকার হতে হয় । এরপর সেই ঘটনার জন্য অপমানে আমি ফরিদপুর ছেড়ে চলে যাই। কিন্তু পরবর্তীতে আমি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলে আনিচুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। সাব্বির জানান, প্রথমে তিনি আমার সাথে দেখা করতে চাননি। পরবর্তীতে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে ডায়াবেটিক হাসপাতালে যেতে বলেন। তার কথামতো সেখানে গেলে ওই সরকারি সার্ভেয়ারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চাই। তখন তিনি আমাকে বিভিন্নজনের ভয় দেখাতে থাকেন। শহরের বিভিন্ন লোকের নাম বলে তাদের ভয় দেখান। এই ঘটনার জের ধরে একপর্যায়ে তার সাথে আমার হাতাহাতি হয়। কিন্তু এ ঘটনার পর এলজিইডি কাজে সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার হামলার যে দাবি করেছেন আনিচুর, তার সাথে এই ঘটনার কোন সম্পৃক্ততা নেই। থানার অভিযোগে যাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, তাকে আমি চিনিই না। বিষয়টি প্রকৃত তদন্ত করে আসল সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

ফরিদপুরে সাংবাদিকের মানববন্ধন নিয়ে নেটিজেনদের নানা প্রশ্ন

আপডেট সময় : ১১:৩১:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বাসস ও দেশ টিভির ফরিদপুর প্রতিনিধি আনিচুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনে বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রেসক্লাবের কমিটির নেতৃবৃন্দ বা মূলধারার গণমাধ্যম কর্মীদের দেখা যায়নি। বিপরীতে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে নেটিজেনদের নজরে আসার পর তাদের অনেকেরই প্রশ্ন করতে দেখা গেছে- সাংবাদিকের উপর হামলা প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে এরা কারা?
ভুক্তভোগী বাসস ও দেশ টিভির ফরিদপুর প্রতিনিধি আনিচুর রহমান এর আগে জানান, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করার জের ধরে তিনি হামলার শিকার হন।
তিনি দাবি করেন, অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী তিনি ওই সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। তবে ঠিক কোন অফিস থেকে এই অ্যাসাইনমেন্ট তাকে দেওয়া হয়েছিল তা তিনি পরিস্কার করেননি। আর ওই হামলার আগে এ সংক্রান্ত কোন সংবাদও কোন গণমাধ্যমে প্রকাশের খবর জানা যায়নি। ফলে বিষয়টি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, আনিচুর রহমানের উপর হামলার ওই ঘটনার পরেরদিন তিনি কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। তবে অবাক করার বিষয় হলো- থানায় অভিযোগ করার পরেও সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার খবরও কোন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি ফেসবুকে ওই হামলার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত। ফলে গোটা বিষয়টি একটি বড় প্রশ্নের উদ্রেক করেছে।
রহস্য আরো বেড়েছে- হামলার ঘটনায় দায়ী মো: সাব্বির নামে ওই যুবকের পাল্টা একটি সংবাদ সম্মেলনে বিষ্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন।
আনিচুরকে কিলগুষি মেরে আহত করার বিষয়টি স্বীকার করে সাব্বির দাবি করেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করতে যেয়ে ২০২৪ সালের শেষের দিকে আমার বন্ধু তানভীর আনান নির্জনের মাধ্যমে পরিচয় হয় তার মামা আনিচুরের সাথে। তারপর তাদের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিক পরিচয়ে দুই দফায় একটি সরকারি অফিস থেকে সাড়ে ৩১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। তিনি বলেন, সেই টাকা নেওয়ার ঘটনায় তারা আমার নাম জড়িয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার পরে আমাকে ক্রমাগত বিভিন্ন মহল থেকে দোষারোপ করা হয় ও সামাজিক হেনেস্তারও শিকার হতে হয় । এরপর সেই ঘটনার জন্য অপমানে আমি ফরিদপুর ছেড়ে চলে যাই। কিন্তু পরবর্তীতে আমি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসলে আনিচুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। সাব্বির জানান, প্রথমে তিনি আমার সাথে দেখা করতে চাননি। পরবর্তীতে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে ডায়াবেটিক হাসপাতালে যেতে বলেন। তার কথামতো সেখানে গেলে ওই সরকারি সার্ভেয়ারের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকার চাঁদাবাজির বিষয়টি নিয়ে তার কাছে জানতে চাই। তখন তিনি আমাকে বিভিন্নজনের ভয় দেখাতে থাকেন। শহরের বিভিন্ন লোকের নাম বলে তাদের ভয় দেখান। এই ঘটনার জের ধরে একপর্যায়ে তার সাথে আমার হাতাহাতি হয়। কিন্তু এ ঘটনার পর এলজিইডি কাজে সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার হামলার যে দাবি করেছেন আনিচুর, তার সাথে এই ঘটনার কোন সম্পৃক্ততা নেই। থানার অভিযোগে যাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে, তাকে আমি চিনিই না। বিষয়টি প্রকৃত তদন্ত করে আসল সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।