রহস্যময় তিন কিউব : নেপথ্যে রাজেন্দ্র কলেজের ৭৫ বছর
আবরাব নাদিম ইতু
আপডেট সময় :
১২:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
/ 2133
Oplus_19005440
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি “স্মারক ভাস্কর্য”। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটির মূল ভাবধারা বা ‘কনসেপ্ট নোট’ সাধারণ শিক্ষার্থী ও দর্শকদের কাছে অজানাই থেকে গেছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণতা আর অবহেলার কবলে পড়ে রয়েছে সেটি। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রাক্তনদের মাঝে এই স্মারকটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জোরালো দাবি রয়েছে।
জানা গেছে,স্মারকটি মূলত তিনটি কিউব, একটি কলম এবং বইয়ের সমন্বয়ে গঠিত। স্থাপনাটির স্কাল্পটর ছিলেন এজাজ এ কবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অধ্যয়নরত অবস্থাতেই তিনি এ কাজটি করেছিলেন। এজাজ-এ কবির জানান “ভাস্কর্যের তিনটি কিউব দিয়ে কলেজের ৭৫ বছরের যাত্রাকে বোঝানো হয়েছে। প্রতিটি কিউব ২৫ বছরকে বোঝানো হয়েছে। যেহেতু এটি একটি বিদ্যাপীঠ, তাই বই ও কলম ওপর কিউবগুলো স্থাপনের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম ও ইতিহাসের ভিত্তি হলো শিক্ষা”
তবে এ নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে শিল্পী, সেটি প্রকাশ করতে গিয়ে এজাজ- এ কবির বলেন “স্থাপনাটির পাশে এতো বছর পরও কোনো কনসেপ্ট নোট না থাকায় অনেকেই এর অন্তর্নিহিত অর্থ বুঝতে পারেন না। এছাড়া তৎকালীন সময়ের কিছু কাজ এখনো অবশিষ্ট রয়ে গেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলে সেই অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করে এটিকে একটি নান্দনিক রূপ দেওয়া সম্ভব।”
এ বিষয়ে কলেজের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সাইয়্যেদুল আবরার শিফাক বলেন “কলেজ কর্তৃপক্ষের উচিত এই স্থাপনাটি প্রকৃত ইতিহাস শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরা “
স্থানীয় ছাত্রনেতৃবৃন্দের কণ্ঠেও ঝরেছে একই সুর। সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ খান বলেন, “এই স্থাপনাটি ঠিক কী কারণে নির্মিত হয়েছিল, সেটি আজও অনেকেরই অজানা। এটি যে উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে, তা ফুটিয়ে তোলার জন্য দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক ভিপি এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহমেদ তাবরীজ বলেন “আমরা যখন এই কলেজে ছাত্র ছিলাম তখন এটি তৈরি করা হয়েছিল।স্মারকটি ফুটিয়ে তোলার বিষয়ে আমার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে”। তিনি স্মারকটির মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের গুরুত্বারোপ করেন।
স্থাপনাটির সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ রূপদান প্রসঙ্গে প্রফেসর এস. এম আব্দুল হালিম বলেন, “এই উদ্যোগটি অবশ্যই গ্রহণ করা যেতে পারে। শিক্ষক এবং বর্তমান শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই স্থাপনাটিকে যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখার চেষ্টা করা হবে”