ট্রাম্পের সংশয়ের মাঝেই বার্তা দিয়ে উপস্থিতি জানান দিলেন মোজতবা খামেনি
- আপডেট সময় : ০৭:২৫:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 43
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কয়েক দিন পরই এক লিখিত বার্তার মাধ্যমে সরব হলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, একটি লিখিত বার্তার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থনের জন্য ইরাকের জনগণকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সিস্তানি ও ইরাকি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা
ইরানের সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ-র তথ্যমতে, মোজতবা খামেনি তার বার্তায় ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং সাধারণ জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের বিপক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান এবং আমাদের দেশের প্রতি অকুতোভয় সমর্থনের জন্য আমরা ইরাকি ভাইদের কাছে ঋণী।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তায় ইরাক-ভিত্তিক শিয়া ইসলামের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। টেলিভিশনে পঠিত এই বিবৃতিতে চলমান যুদ্ধে বিজয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করা হয়।
মোজতবা খামেনি ব্যক্তিগতভাবে জনসম্মুখে উপস্থিত না হওয়ায় তার অবস্থান ও স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সাম্প্রতিক এক বিমান হামলায় তিনি কিছুটা আহত হয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি সেরে উঠছেন।
যদিও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিয়মিতভাবে তার ছবি প্রকাশ করছে, তবে সেগুলো সাম্প্রতিক সময়ের কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তিনি তার অফিসিয়াল টেলিগ্রাম এবং ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের কোনো এক ‘শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির’ সঙ্গে ওয়াশিংটন আলোচনা চালাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, সেই ব্যক্তিটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নন। এমনকি মোজতবা খামেনি বেঁচে আছেন কি না, তা নিয়েও ট্রাম্প সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
ট্রাম্পের সেই চাঞ্চল্যকর দাবির কয়েক দিনের মাথায় মোজতবার এই লিখিত বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
এদিকে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মাটিতে থাকা একটি মার্কিন ই-৩ সেন্ট্রি আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে। ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই বিমানটির ক্ষতি এই ধরনের বিমানের জন্য প্রথম জ্ঞাত যুদ্ধকালীন দুর্ঘটনা।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে সিনেট রিপাবলিকানরা এর আগে একাধিক যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।













