০৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সেই নেতারা এখন কে কোথায় নদীর নাম মালঞ্চ পেয়েছে সরকারি স্বীকৃতি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ‘ডিজিটাল ইভটিজিং’ ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে তোলপাড় আমার মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহসুফী ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ভাঙ্গায় পিকআপ-পরিবহন মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩০ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে তেলবাহী তিনটি সুপার ট্যাংকার ইরানে-যুক্তরাষ্ট্র শাস্তি আলোচনা সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হলো পিংকের দখল নিয়ে ডিভোর্সী দম্পতির দ্বন্দ্ব, মাথা ফাটলো কর্মচারীর ইসরায়েলের বোমা হামলায় লেবাননে নিহত দিপালির পরিবার শোকে বাকরুদ্ধ চাঁদের পরিবেশ রেকি করে পৃথিবীতে ফিরলেন ৪ নভোচারী

অস্ট্রিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / 42

অস্ট্রিয়া ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হলো।

এই সিদ্ধান্তটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন দলীয় জোট সরকারের দীর্ঘ আলোচনার পর নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কখন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘোষণার সময় উপ-চ্যান্সেলর আন্দ্রেয়াস বাবলার বলেন, সরকার আর চুপ করে থাকতে পারে না, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের “আসক্ত” করে তুলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অসুস্থ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব এবং এই বিষয়টি মদ বা তামাকের মতোই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

তার ভাষায়, “ডিজিটাল জগতেও স্পষ্ট নিয়ম থাকতে হবে।” ভবিষ্যতে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের আসক্তিমূলক অ্যালগরিদম থেকে সুরক্ষিত রাখা হবে।

অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ। ফ্রান্স ও স্পেন ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জুরি বোর্ড রায় দিয়েছে যে, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো দাবি করে যে ১৩ বছরের কম বয়সীদের তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবে বাস্তবে এই নিয়ম কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে প্রথম দেশ হিসেবে নজির স্থাপন করেছে। একইভাবে ফ্রান্স এর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জানুয়ারিতে ১৫ বছরের নিচে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন অস্ট্রিয়াকে এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।ডেনমার্ক, গ্রীস,স্পেন   এবং আয়ারল্যান্ড ও একই ধরনের উদ্যোগ বিবেচনা করছে।

অস্ট্রিয়ার শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারক্যহ্  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের “ক্ষতিকর” দিক তুলে ধরে বলেন, মানুষকে এটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে শেখানো জরুরি।

ডিজিটাল বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার প্র্যোল জানান, জুন মাসের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত খসড়া আইন উপস্থাপন করা হবে। এতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে বিরোধী দল ফ্রিডম পার্টির সাধারণ সম্পাদক ক্রিশ্চিয়ান হাফেনএকার এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে একে তরুণদের মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার স্বাধীনতার ওপর “সরাসরি আঘাত” বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক থমাস হোফার মনে করেন, এই প্রস্তাবটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, বিশেষ করে অভিভাবকদের কাছে। তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে সরকার অন্তত কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে—এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে।”এই প্রস্তাবের পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার সরকার মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনার পরিকল্পনাও করেছে, যেখানে গণতন্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পাঠ বাড়ানো এবং ল্যাটিন ভাষার ক্লাস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

অস্ট্রিয়া শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রিয়া ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে দেশটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হলো।

এই সিদ্ধান্তটি রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন দলীয় জোট সরকারের দীর্ঘ আলোচনার পর নেওয়া হয়েছে। তবে কীভাবে এবং কখন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘোষণার সময় উপ-চ্যান্সেলর আন্দ্রেয়াস বাবলার বলেন, সরকার আর চুপ করে থাকতে পারে না, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের “আসক্ত” করে তুলছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের অসুস্থ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব এবং এই বিষয়টি মদ বা তামাকের মতোই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

তার ভাষায়, “ডিজিটাল জগতেও স্পষ্ট নিয়ম থাকতে হবে।” ভবিষ্যতে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের আসক্তিমূলক অ্যালগরিদম থেকে সুরক্ষিত রাখা হবে।

অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ। ফ্রান্স ও স্পেন ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় জুরি বোর্ড রায় দিয়েছে যে, কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ইচ্ছাকৃতভাবে এমন অ্যালগরিদম তৈরি করেছে, যা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে।

যদিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো দাবি করে যে ১৩ বছরের কম বয়সীদের তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ নিষিদ্ধ, তবে বাস্তবে এই নিয়ম কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করে প্রথম দেশ হিসেবে নজির স্থাপন করেছে। একইভাবে ফ্রান্স এর পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জানুয়ারিতে ১৫ বছরের নিচে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন অস্ট্রিয়াকে এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।ডেনমার্ক, গ্রীস,স্পেন   এবং আয়ারল্যান্ড ও একই ধরনের উদ্যোগ বিবেচনা করছে।

অস্ট্রিয়ার শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারক্যহ্  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের “ক্ষতিকর” দিক তুলে ধরে বলেন, মানুষকে এটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে শেখানো জরুরি।

ডিজিটাল বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার প্র্যোল জানান, জুন মাসের মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত খসড়া আইন উপস্থাপন করা হবে। এতে ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাইয়ের জন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তবে বিরোধী দল ফ্রিডম পার্টির সাধারণ সম্পাদক ক্রিশ্চিয়ান হাফেনএকার এই পরিকল্পনার সমালোচনা করে একে তরুণদের মতপ্রকাশ ও তথ্য জানার স্বাধীনতার ওপর “সরাসরি আঘাত” বলে উল্লেখ করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক থমাস হোফার মনে করেন, এই প্রস্তাবটি সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, বিশেষ করে অভিভাবকদের কাছে। তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে সরকার অন্তত কিছু বিষয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে—এই বার্তাই দিতে চাচ্ছে।”এই প্রস্তাবের পাশাপাশি অস্ট্রিয়ার সরকার মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনার পরিকল্পনাও করেছে, যেখানে গণতন্ত্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পাঠ বাড়ানো এবং ল্যাটিন ভাষার ক্লাস কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।