০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
ফরিদপুরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন মুম্বাই বিমানবন্দরে ১২ কোটি রুপির মাদকসহ সাবেক ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগী গ্রেপ্তার সকলকে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে -পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আগ্রহের কেন্দ্রে ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাচন বিশ্বকাপে প্রথম খেলায় চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে কোরিয়ার জয় প্রতারক সন্দেহে খাসি ব্যবসায়ীকে বাড়িতে ডেকে মহিলাদের নির্যাতন, টাকা লুটের অভিযোগ লাল কার্ডের রেকর্ডেও উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের ধারায় মেক্সিকো দাঙ্গা আর মামলার ঝক্কি এড়িয়ে শান্তি ফিরবে কি অশান্ত সালথায়? নীরব ঘাতক ‘ফ্যাটি লিভার’: সচেতনতাই সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি স্কুলের সামনে বিটুমিন পোড়ানোর ধোঁয়ায় অসুস্থ্য কোমলমতি শিক্ষার্থীরা
তাঁর কাব্যের স্বীকৃতিস্বরুপ তাঁকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো এখন সময়ের দাবি

‘কাব্যে কুরআন’ রচয়িতা কবি আব্দুল বারীর মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 210

অসাধারণ কাব্য প্রতিভার অধিকারী কবি আব্দুল বারী পবিত্র কোরআন শরীফের কাব্যরুপ দিয়ে বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে গেছেন। তিনি একজন স্বভাব কবি। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

‘কাব্যে কুরআন’ ও ‘কাব্যে হাদিস শরীফ’ এর রচয়িতা কবি মু. আব্দুল বারীর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অসাধারণ কাব্য প্রতিভার অধিকারী কবি আব্দুল বারী একজন স্বভাব কবি ছিলেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনের অধিকারী ও প্রচার বিমুখ কবি ছিলেন তিনি।

আরবী ভাষা থেকে পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা কাব্য অনুবাদে তিনি প্রতি লাইনে ১৪ শব্দের সনেটবদ্ধ কাব্যরুপ ব্যবহার করেছেন। যা তাঁর সৃষ্টিশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অবদান বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে বাংলা সাহিত্যকে মহিমান্বিত করেছে।

তিনি পবিত্র কোরআনের দশ পারার অনুবাদ সম্পন্ন করে যান। অসংখ্য হাদিসেরও কাব্যরুপ দিয়ে গেছেন তিনি। কতিপয় সমাজহিতৈষী ব্যক্তির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর ‘‘কাব্যে কোরআন পাক’’ ও ‘‘কাব্যে হাদিস শরীফ’’ গ্রন্থ দুটির মূদ্রিত সংস্করণ বের হয়েছিলো।

যদিও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই মূল্যবান গ্র’ন্থ দু’টির মূদ্রিত সংস্করণ আজ সচরাচর পাওয়া যায়না। তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ তারুণ্যের মনন গঠনের জন্য বিশেষ পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য হওয়ার দাবি রাখে।

গুণি এই কবিকে স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সালে ফরিদপুর বইমেলা ও ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ তাঁকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করে। ১৯৯৬ সালে জসীম পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

কবি আব্দুল বারী ১৯৩২ সালের ২ ফেব্রুয়ারী মাগুড়া জেলার বর্তমান ইসলামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী হারেজউদ্দীন মিয়া একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং নিজ গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন। মায়ের নাম মোসাম্মাৎ ফাতেমা খাতুন।

১৯৫২ সালে মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও মধুখালী পাইলট হাইস্কুলে শিক্ষকতার পর ১৯৬২ সালে ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বোর্ডের বাংলা সাহিত্যের প্রধান পরীক্ষক ছিলেন।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ তাঁকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো এবং তাঁর রচিত গ্রন্থ পুনঃমুদ্রিত করে ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

কবি আব্দুল বারীর ২৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবাররের পক্ষ থেকে পূর্ব খাবাসপুর লঞ্চঘাট জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

তাঁর কাব্যের স্বীকৃতিস্বরুপ তাঁকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো এখন সময়ের দাবি

‘কাব্যে কুরআন’ রচয়িতা কবি আব্দুল বারীর মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট সময় : ১১:১৭:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

‘কাব্যে কুরআন’ ও ‘কাব্যে হাদিস শরীফ’ এর রচয়িতা কবি মু. আব্দুল বারীর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

অসাধারণ কাব্য প্রতিভার অধিকারী কবি আব্দুল বারী একজন স্বভাব কবি ছিলেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবনের অধিকারী ও প্রচার বিমুখ কবি ছিলেন তিনি।

আরবী ভাষা থেকে পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা কাব্য অনুবাদে তিনি প্রতি লাইনে ১৪ শব্দের সনেটবদ্ধ কাব্যরুপ ব্যবহার করেছেন। যা তাঁর সৃষ্টিশীলতার অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অবদান বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে বাংলা সাহিত্যকে মহিমান্বিত করেছে।

তিনি পবিত্র কোরআনের দশ পারার অনুবাদ সম্পন্ন করে যান। অসংখ্য হাদিসেরও কাব্যরুপ দিয়ে গেছেন তিনি। কতিপয় সমাজহিতৈষী ব্যক্তির আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর ‘‘কাব্যে কোরআন পাক’’ ও ‘‘কাব্যে হাদিস শরীফ’’ গ্রন্থ দুটির মূদ্রিত সংস্করণ বের হয়েছিলো।

যদিও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে এই মূল্যবান গ্র’ন্থ দু’টির মূদ্রিত সংস্করণ আজ সচরাচর পাওয়া যায়না। তাঁর এই কাব্যগ্রন্থ তারুণ্যের মনন গঠনের জন্য বিশেষ পথপ্রদর্শক হিসেবে গণ্য হওয়ার দাবি রাখে।

গুণি এই কবিকে স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৫ সালে ফরিদপুর বইমেলা ও ১৯৯৬ সালে ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদ তাঁকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করে। ১৯৯৬ সালে জসীম পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিষদ স্বর্ণপদক লাভ করেন।

কবি আব্দুল বারী ১৯৩২ সালের ২ ফেব্রুয়ারী মাগুড়া জেলার বর্তমান ইসলামপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৌলভী হারেজউদ্দীন মিয়া একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন এবং নিজ গ্রামের মসজিদে ইমামতি করতেন। মায়ের নাম মোসাম্মাৎ ফাতেমা খাতুন।

১৯৫২ সালে মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও মধুখালী পাইলট হাইস্কুলে শিক্ষকতার পর ১৯৬২ সালে ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ঢাকা বোর্ডের বাংলা সাহিত্যের প্রধান পরীক্ষক ছিলেন।

মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। তাঁর কর্মের স্বীকৃতিস্বরুপ তাঁকে মরনোত্তর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানানো এবং তাঁর রচিত গ্রন্থ পুনঃমুদ্রিত করে ছড়িয়ে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

কবি আব্দুল বারীর ২৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবাররের পক্ষ থেকে পূর্ব খাবাসপুর লঞ্চঘাট জামে মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।