নিপা ভাইরাস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ: সীমান্তে সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / 44
দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাস। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০০৭ সালের পর প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর এশিয়াজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। থাইল্যান্ড ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো বিমানবন্দরগুলোতে বিশেষ স্ক্রিনিং এবং নজরদারি শুরু করেছে। বাংলাদেশেও শীতকালীন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
ভাইরাসটি কী এবং কীভাবে ছড়ায়? নিপা একটি ‘জুনোটিক’ ভাইরাস, যা মূলত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক হলো ‘উড়ন্ত শিয়াল’ বা ফলখেকো বাদুড়। মূলত বাদুড় বা শূকরের সরাসরি সংস্পর্শে এলে কিংবা তাদের শরীর থেকে নির্গত লালা বা রেচন পদার্থ দ্বারা দূষিত খাবার খেলে মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।
বাংলাদেশে এই ভাইরাসের সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে কাঁচা খেজুরের রসকে চিহ্নিত করা হয়েছে। গাছে থাকা অবস্থায় বাদুড় যখন খেজুরের রস পান করার চেষ্টা করে, তখন তাদের লালা বা মলমূত্র রসের সাথে মিশে যায়। সেই কাঁচা রস পান করলেই মানুষ আক্রান্ত হয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এটি মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে।
সংক্রমণের লক্ষণসমূহ: নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে- তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা, পেশীর ব্যথা ও কাশি, শ্বাসকষ্ট। সংক্রমণ গুরুতর হলে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) শুরু হয়, যা রোগীকে অচেতন বা মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিপা ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ভয়ংকর—প্রায় ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ। যারা বেঁচে যান, তাদের অনেককে সারাজীবন খিঁচুনি বা স্নায়বিক জটিলতায় ভুগতে হতে পারে।
নেই কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নিপা ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট ওষুধ আবিষ্কৃত হয়নি। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (CDC) এর মতে, আক্রান্ত রোগীদের শুধুমাত্র লক্ষণভিত্তিক ‘সাপোর্টিভ কেয়ার’ বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ দেওয়া সম্ভব। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহকে জরুরি গবেষণার জন্য ‘অগ্রাধিকারমূলক রোগজীবাণু’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
প্রতিরোধের উপায়: সচেতনতাই প্রধান অস্ত্র: নেব্রাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লরেন সাউয়ারের মতে, যেহেতু কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই প্রতিরোধই একমাত্র পথ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন: ১. কাঁচা খেজুরের রস বর্জন: কোনোভাবেই কাঁচা খেজুরের রস পান করা যাবে না। রস খাওয়ার আগে অবশ্যই ভালো করে ফুটিয়ে নিতে হবে। ২. পাখির খাওয়া ফল: বাদুড় বা অন্য পাখির খাওয়া আংশিক ফল বা নিচে পড়ে থাকা ফল খাওয়া যাবে না। ৩. হাত ধোয়া: পশুপাখির সংস্পর্শে আসার পর সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে। ৪. সতর্কতা: আক্রান্ত রোগীর সেবা করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শীত মৌসুমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও খামারগুলোতে কঠোর প্রোটোকল মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
















