আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর যমজ সন্তান জন্ম নিত। তাদের একজন হতো মেয়ে আরেকজন ছেলে
মানব জাতির বিস্তার ও নূহের প্লাবন
- আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / 67
আদম (আ.) ছিলেন পৃথিবীতে প্রেরিত প্রথম মানব ও প্রথম নবী। তাঁকে আল্লাহ্ সমস্ত জিনিসের জ্ঞান এবং পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধিত্ব পরিচালনার মর্যাদা দিয়েছিলেন।
যার ফলে মানুষ পূর্ণ জ্ঞান ও চেতনাসম্পন্ন সভ্য মানুষ হিসেবেই পৃথিবীতে প্রথম থেকে যাত্রা শুরু করেছে।
আদম (আ.) এর পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছিল স্ত্রী হাওয়া (আ.)-কে। যাদেরকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয় শয়তানের প্রলোভনে নিষিদ্ধ ফল খেয়ে বেআবরু হয়ে যাওয়ার পরে।
জান্নাতের জীবন থেকে পৃথিবীতে অবতরণের পর পৃথিবীর বুকে তাঁদের প্রথম বসতির সঠিক স্থান নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
ধারণা করা হয় তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে মিলিত হন এবং সেখান থেকেই মানব জাতির বৃদ্ধি শুরু হয়। আর তাঁদের সন্তানদের মাধ্যমে মানব জাতির বিস্তার।
ঐতিহাসিক বর্ণনামতে, আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-এর যমজ সন্তান জন্ম নিত। তাদের একজন হতো মেয়ে আরেকজন ছেলে। এদের মধ্যে হাবিল, কাবিল ও শীস নামে তিন পুত্র এবং লিওযা বা গাযা এবং আকলিমা নামে দুই মেয়ের নাম পাওয়া যায়।
হাবিল পশুপালন আর কাবিল কৃষিকাজ করতো। এ থেকে বোঝা যায় যে, মানব সমাজের শুরুতেই মৌলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল, যা স্থায়ী বসতি স্থাপনের জন্য অপরিহার্য।
আদম (আ.) থেকে শুরু হওয়া মানব জাতির উত্তরসূরীদের মধ্যে হাবিল তাঁর ভাইয়ের হাতে নিহত হলে কাবিল এবং তাঁর আরেক সন্তান শীস (আ.)-এর মাধ্যমে বংশধারা এগিয়ে চলার তথ্য পাওয়া যায়।
এর মধ্যে শীস (আ.)-এর বংশের লোকেরা ছিলেন ধার্মিক ধারার। ধীরে ধীরে তাঁরা এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
বাইবেলের বিবরণ অনুযায়ী, কাবিলের বংশধরেরা পৃথিবীতে প্রথম নগর প্রতিষ্ঠা করে। নূহ (আ.)-এর সময়ের পূর্বে তাদের মাধ্যমেই মানুষের তাঁবুতে বসবাস শুরু বলে জানা যায়। এসময় তারা পশুপালনের পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে শিখে।
বাইবেলের আদিপুস্তকের বর্ণনায় সেসময় তামা ও লোহার সরঞ্জাম গড়ার মতো বিভিন্ন কাজের সূচনা হয়। যদিও কোরআনে জানানো হয়, সর্বপ্রথম দাউদ (আ.) কে লোহা ও তামা গলানোর প্রক্রিয়ার জ্ঞান দান করা হয়।
তবে তারা একত্ববাদী জীবনধারা থেকে শিরকের দিকে ঝুঁকে পড়ে মূর্তিপূজাসহ নানা পাপকাজ জড়িয়ে পড়ে।
বর্ণনা অনুযায়ী, আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল দশ শতাব্দী। এই সময়কালে মানুষ দীর্ঘ জীবন লাভ করত, ফলে প্রজন্ম বৃদ্ধি এবং বসতি স্থাপন দ্রুত হয়েছিল।
এসময়ে মানব বসতি মূলত একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। তারা এক আল্লাহর ইবাদত করতো এবং এই সময়কালটি ছিল ধর্মীয় দিক থেকে শান্তিপূর্ণ।
এরপর সময়ের সাথে সাথে, মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বসতিগুলো আরও বড় হতে থাকে এবং সমাজ থেকে ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকতা দুর্বল হতে শুরু করে।
শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ তাদের পূর্ববর্তী পাঁচজন সৎ ও নেককার ব্যক্তির প্রতি অতিরিক্ত সম্মান দেখাতে শুরু করে।
এদের মৃত্যুর পর শয়তান মানুষকে প্ররোচিত করে তাদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মূর্তি তৈরি করতে।
এই মূর্তিগুলো হলো: ওয়াদ, সুওয়া’, ইয়াগূছ, ইয়া’ঊক্ব ও নাসর।
শুরুতে এই মূর্তিগুলো ছিল কেবল স্মরণচিহ্ন।
কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম যখন এই সৎ ব্যক্তিদের ইতিহাস ভুলে যায়,
তখন তারা সরাসরি এই মূর্তিদের উপাসনা শুরু করে দেয় এবং শিরক মানব সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বসতিগুলো তখন পাপে নিমজ্জিত হয়।
একত্ববাদী আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে মানুষ প্রথমে ছোট বসতি, তারপর বড় জনপদে বসবাস শুরু করে এবং পাপাচারে লিপ্ত হয়।
তখন আল্লাহ্ নূহ (আ.)-কে পাঠান।
নূহ (আ.)-কে যে জাতির কাছে পাঠানো হয়েছিল, তাদের প্রধান বসতি ছিল ইরাকের মসুল (Mosul) এবং তার আশেপাশে।
এটি ছিল সেই সময়ের একটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা, যেখানে পাপ ও কুফরি চরম আকার ধারণ করেছিল।
নূহ (আ.)-এর দীর্ঘ ৯৫০ বছরের দাওয়াত সত্ত্বেও তাঁর জাতির বেশিরভাগ মানুষ ঈমান আনেনি। ফলস্বরূপ, আল্লাহর নির্দেশে মহা প্লাবন আসে।
এই বন্যায় নূহ (আ.)-এর কিস্তিতে আশ্রয় নেওয়া সামান্য কিছু মুমিন ব্যক্তি ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত মানব বসতি বিলীন হয়ে যায়।
নূহ (আ.)-এর নৌকা ইরাকের জুদি পর্বতে নোঙর করার পর,
নূহ (আ.)-এর তিন ছেলে—সাম, হাম এবং ইয়াফেস—তাদের থেকেই আরব, হাবশা (আফ্রিকান নিগ্রো) এবং রোম (ইউরোপীয় শ্বেতাঙ্গ) তথা আরব, আফ্রিকান ও ইউরোপীয়সহ পৃথিবীর সমস্ত জাতি ও গোত্রের উদ্ভব ঘটে।
সংকলনে হারুন আনসারী













