Bangladesh ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ ::
বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের নতুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন আমাদের পথিকৃৎ সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সুযোগ বাড়াতে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতা অসহায় পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ির চাবি হস্তান্তর “মায়ের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে, সে মৃত্যুই পরম শ্রেয়” বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে ঐতিহাসিক ৪টি সিদ্ধান্ত এলো খাজা বড় চাচাজানের দিশারী বক্তব্য ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি ছবি ছড়িয়ে মানহানী : থানায় জিডি কনসার্টের উচ্চ শব্দে শিশুদের কষ্টের কথা জেনে ক্ষমা চাইলেন বিএনপি নেতা স্বপন সাংবাদিক আমির খসরু আর নেই শহর ফরিদপুর ও গণিকালয়ের ডেরা: কার কান্না কত ভারী?
দাদাদাদির কবরের ফুল চুরির জবাব

পুরো গ্রাম ফুলে সাজালেন সদরপুরের শামীম

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • / 152

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ। ছবি- অগ্নিপ্রহর

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে, উল্টো পুরো গ্রামকে ফুলে সাজানোর এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন এক যুবক। চোরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরির প্রবণতা বন্ধ করতে ৫০০টি বাড়ির সামনে ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলি—এই তিনটি ফুলগাছ রোপণ করেছিলেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হতে থাকে এবং একটি গাছে ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, ফুটন্ত গাছসহ তিনটি ফুলগাছই কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে।

প্রিয়জনদের স্মৃতির স্মারক এই গাছগুলো হারিয়ে কষ্ট পেলেও চোরের প্রতি কোনো ক্ষোভ দেখাননি শামীম। তাঁর মতে, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে। আর এই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—একটি বা দুটি নয়, পুরো এলাকাজুড়েই ফুলগাছের সুবাস ছড়িয়ে দেবেন।

এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়ে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে রোপণ করা হয়েছে চুরি হয়ে যাওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ—হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলি।

দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে শামীমকে এই গাছগুলো রোপণ করতে দেখা গেছে। শুধু গাছ লাগিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং স্থানীয়দের অনুরোধ করেছেন গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করার জন্য।

তরুণের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দারুণ খুশি এলাকাবাসী। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব সত্যিই বিরল। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি কীভাবে পুরো গ্রামের সম্পদে পরিণত হতে পারে, শামীম তার উদাহরণ তৈরি করেছেন। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

উদ্যোক্তা হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে সে হয়তো ফুল ভালোবাসে কিন্তু কেনার সামর্থ্য নেই। তাই তাকে খুঁজে বের করার বা শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। আমার রোপণ করা গাছ হয়তো এখন সেই চোরের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে। সে যদি পুরো গ্রামের এই রূপ দেখে অনুতপ্ত হয়, তবেই আমার চেষ্টা সার্থক।”

তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে অনুতপ্ত করা নয়; আমি চাই আমাদের গ্রামটি ফুলে-ফলে ভরে উঠুক। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং মানুষের মাঝে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে।”

নেতিবাচক ঘটনার এমন ইতিবাচক ও নান্দনিক সমাধানের এই উদাহরণ এখন পুরো সদরপুর উপজেলায় প্রশংসায় ভাসছে।

দাদাদাদির কবরের ফুল চুরির জবাব

পুরো গ্রাম ফুলে সাজালেন সদরপুরের শামীম

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

দাদি ও বাবার কবরের পাশে শখ করে রোপণ করা তিনটি ফুলগাছ চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথ না বেছে, উল্টো পুরো গ্রামকে ফুলে সাজানোর এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন এক যুবক। চোরকে সুন্দরভাবে শিক্ষা দিতে এবং এলাকায় ফুলগাছ চুরির প্রবণতা বন্ধ করতে ৫০০টি বাড়ির সামনে ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেছেন তিনি। ব্যতিক্রমী এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের যুবক হাওলাদার শামীম আহমেদ।

জানা যায়, কয়েক মাস আগে নিজের দাদি ও বাবার কবরের পাশে হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলি—এই তিনটি ফুলগাছ রোপণ করেছিলেন শামীম। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছগুলো বড় হতে থাকে এবং একটি গাছে ফুলও ফোটে। কিন্তু ফুল ফোটার পরদিন সকালে কবরস্থানে গিয়ে তিনি দেখেন, ফুটন্ত গাছসহ তিনটি ফুলগাছই কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে।

প্রিয়জনদের স্মৃতির স্মারক এই গাছগুলো হারিয়ে কষ্ট পেলেও চোরের প্রতি কোনো ক্ষোভ দেখাননি শামীম। তাঁর মতে, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে, সে নিশ্চয়ই ফুল ভালোবাসে। আর এই ভাবনা থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন—একটি বা দুটি নয়, পুরো এলাকাজুড়েই ফুলগাছের সুবাস ছড়িয়ে দেবেন।

এরপর তিনি নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়ে পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের দুই পাশের ৫০০টি বাড়ির সামনে তিনটি করে মোট ১ হাজার ৫০০টি ফুলগাছ রোপণ করেন। প্রতিটি বাড়ির সামনে রোপণ করা হয়েছে চুরি হয়ে যাওয়া সেই তিন প্রজাতির গাছ—হাসনাহেনা, কামিনী ও শিউলি।

দিনভর বাড়ি বাড়ি ঘুরে শামীমকে এই গাছগুলো রোপণ করতে দেখা গেছে। শুধু গাছ লাগিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, বরং স্থানীয়দের অনুরোধ করেছেন গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করার জন্য।

তরুণের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে দারুণ খুশি এলাকাবাসী। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “ফুলগাছ চুরির ঘটনার এমন ইতিবাচক জবাব সত্যিই বিরল। একজন মানুষের ব্যক্তিগত ক্ষতি কীভাবে পুরো গ্রামের সম্পদে পরিণত হতে পারে, শামীম তার উদাহরণ তৈরি করেছেন। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”

উদ্যোক্তা হাওলাদার শামীম আহমেদ বলেন, “আমি মনে করেছি, যে ব্যক্তি গাছগুলো চুরি করেছে সে হয়তো ফুল ভালোবাসে কিন্তু কেনার সামর্থ্য নেই। তাই তাকে খুঁজে বের করার বা শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করিনি। বরং এমন ব্যবস্থা করেছি যাতে পুরো গ্রামেই ফুলগাছ থাকে। আমার রোপণ করা গাছ হয়তো এখন সেই চোরের বাড়িতেও পৌঁছে গেছে। সে যদি পুরো গ্রামের এই রূপ দেখে অনুতপ্ত হয়, তবেই আমার চেষ্টা সার্থক।”

তিনি আরও বলেন, “আমার লক্ষ্য শুধু চোরকে অনুতপ্ত করা নয়; আমি চাই আমাদের গ্রামটি ফুলে-ফলে ভরে উঠুক। ভবিষ্যতে সদরপুর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ফুল ও ঔষধি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে আমার। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং মানুষের মাঝে সবুজায়নের আগ্রহ বাড়বে।”

নেতিবাচক ঘটনার এমন ইতিবাচক ও নান্দনিক সমাধানের এই উদাহরণ এখন পুরো সদরপুর উপজেলায় প্রশংসায় ভাসছে।