সমস্যা লাঘবের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই
তীব্র যানজটে নাকাল শহরবাসী
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / 79
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শহরের ব্যস্ততম পূর্ব খাবাসপুর মোড়ের চিত্র। রাস্তার ফুটপাত জুড়ে বহুতল ভবনের সিড়ি বানিয়ে দখল করে রাখা হয়েছে। এতে এই পথে যানজট আরো বেড়েছে। বিভিন্ন সময়ে এনিয়ে লেখালেখি করার পরেও দখলদারদের বিরুদ্ধে রহস্যময় কারণে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। শহরের বিভিন্ন সড়কে এভাবে বহুৃতল ভবনের সামনের অংশ বাড়িয়ে ড্রেন দখল করে নিতে দেখা যায়। ছবি- অগ্নিপ্রহর
ফরিদপুর তীব্র যানজট সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে যানজট লেগেই থাকে।
দিনের পর দিন এভাবে জনগণ দুর্ভোগ পোহালেও তা লাঘবে কার্যকর প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়না। শহরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ যানজট নিরসণে ডিউটি করলেও দিনেদিনে এসব সড়কের ফুটপাত দখল করে এবং নানাকারণে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে ওঠায় এ সমস্যার নিরসণ হচ্ছেনা বলে শহরবাসী মনে করছেন।
শহর ঘুরে দেখা গেছে, অপ্রশস্ত সড়ক, ফুটপাত দখল, সড়কের পাশের ড্রেনগুলোর বহুতল ভবনের সীমানাভুক্ত করে নেওয়া ছাড়াও ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ছোট যানবাহন চলাচল করে সারা শহরে। ছোটবড় এসব যানবাহনের নিয়ন্ত্রনের প্রায় পুরোটাই অপ্রশিক্ষিত চালকদের হাতে।
এর বিপরীতে সময়োচিত পদক্ষেপের অভাবের কারণে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এবিষয়ে বিভিন্নজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহরের রাস্তায় ধারণক্ষমতার তুলনায় অনুমোদনহীন অতিরিক্ত যানবাহনের চলাচলকে তারা এই সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান কারণ
বলে মনে করছেন। পৌরসভা কর্তৃক নিবন্ধিত যানবাহনের পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবচিত্রের বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শহরের মধ্যে গণপরিবহন খাতটি সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণহীন কায়দায় চলছে। অতিরিক্ত এই যানবাহনের চাপএবং ধারণক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সঙ্কট আরো বাড়াচ্ছে।
জানা গেছে, ফরিদপুর পৌরসভা নিবন্ধিত ইজিবাইকের সংখ্যা ৩ হাজার ২১৪টি। অন্যদিকে বাস্তবে এর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারেরও বেশি। পৌর এরাকায় অটোরিকশার নিবন্ধন রয়েছে ২ হাজার ৯৩১টি।
অন্যদিকে রাস্তায় চলাচল করছে প্রায় ৫ হাজারের কমবেশি। এই বিপুল পরিমাণ অননুমোদিত অভ্যন্তরীণ যানবাহনের পাশাপাশি প্রতিদিন সকাল
হতেই আশেপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে অনেক অটোরিকশা ও ইজিবাইক ফরিদপুর শহরে প্রবেশ করছে। ফলে শহরের মূল সড়কগুলো সকাল থেকেই যানবাহনের চাপের উপরে থাকে।
জেলার উন্নয়ন সমন্বয় সভা ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এসব সমস্যা নিয়ে বারবার আলোচনা করার পরেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রতিফলন দৃশ্যমান না হওয়ায় শহরবাসীর মনে দুর্ভোগের লাঘব হচ্ছেনা।
জানা যায়, শহরকে যানজটমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা কমিটিরসভায় রঙের ভিত্তিতে গাড়িচলাচল নিয়ন্ত্রণ করার একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লাল ও সবুজ রঙে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট রঙের ইজিবাইক পর্যায়ক্রমে চলাচল করার কথা ছিল। তবে অদৃশ্য কারণে সেই কালার কোড মেনে গাড়ি চলাচলের সিদ্ধান্তটি আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
ফরিদপুর শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র চকবাজার, নিউমার্কেট, সরকারি তিতুমীর মার্কেট এবং থানা রোড ফুটপাতের কিছু অংশ দখলকারীদের কবলে চলে গেছে। প্রায় ৩০ ফুট চওড়া সড়কগুলো অবৈধ পার্কিং ও হকারদের দখলের কারণে ১৫-১৭ ফুটে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। প্রায়শই বিভিন্ন অভিযানে হলেও কয়েক ঘন্টা পরেই আবার পূর্বের অবস্থা ফিরে আসে।
যানজটের তীব্রতা ও ভোগান্তি নিয়ে কথা বলতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চকবাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটের এক দোকান মালিক বলেন, যানজটের কারণে আমাদের এই গলিতে ক্রেতারাও কোন কিছু কিনতে স্বচ্ছন্দাবোধ করেন না। এতে আমাদের লসের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আমরা চাই অতিদ্রুত এই যানজটের সমস্যার সমাধান হোক।
এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক রাশেদ বিন আহমেদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পৌরসভায় চলাচলের জন্য অটোরিকশা এবং ইজি বাইকের যে সর্বচ্চ লিমিট রয়েছে তারও চাইতে কম লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে পৌরসভারও যথেষ্ট চেষ্টা রয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) খুরশীদ আলম শিকদার বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যানজট নিরসন করা সম্ভব। শুধুমাত্র পৌরসভা বা ট্রাফিকের একার পক্ষে এই যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ বাস্তবায়নে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। প্রয়োজন অবৈধ যানবাহন অভিযান করা হবে।
দেশের প্রাচীণ জেলা শহর ফরিদপুর এতদঅঞ্চলের একটি জনবসতিপূর্ণ জনপদ। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রস্থলও। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদী ভাঙ্গনসহ নানা কারণে শহরমুখী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে নাগরিক সুবিধা গড়ে উঠেনি। পথচারী ও যানবাহন চলাচলের অবকাঠামোর আধুনিকায়ন না হওয়ায় শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কোন সমন্বিত রুপ তৈরি করা যাচ্ছেনা। এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সাধারণ নাগরিকদের জোর দাবি উঠেছে।












