জুলাই অভ্যুত্থানে কওমি ছাত্রদের ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি
- আপডেট সময় : ০২:২৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 48
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কওমি মাদরাসার ছাত্রদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কওমি ছাত্র ফোরাম।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ এই দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে সংগঠনের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী এ দাবি জানান।
বক্তব্যে মাওলানা জামিল সিদ্দিকী বলেন, “২০২৪ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে কওমি মাদরাসার ছাত্ররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ত হন। উত্তাল সেই দিনগুলোতে কেবল রাজপথেই নয়, বরং বিপদে পড়া ও আক্রান্ত আন্দোলনকারীদের নিজেদের মসজিদ ও মাদরাসায় আশ্রয় দিয়ে জীবন রক্ষা করেছেন তারা।” এছাড়া আন্দোলন চলাকালে আহতদের খাবার ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাদের সংগঠন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্দোলনে মাদরাসা ছাত্রদের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, রাজধানীর অন্যতম প্রধান উত্তপ্ত পয়েন্ট যাত্রাবাড়ীতে আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ী মাদরাসার বিপুল সংখ্যক ছাত্র গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ‘তরুণ আলেম প্রজন্ম’ কর্তৃক ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত শহীদদের একটি তালিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের মধ্যে অন্তত ৭৯ জন মাদরাসার ছাত্র রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মাওলানা জামিল সিদ্দিকী বলেন, “নতুন এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশে কওমি ছাত্রদের যেন যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়। দেশ গঠনে এবং স্বৈরাচার পতনে তাদের যে আত্মত্যাগ, সেটার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সমানভাবে মূল্যায়ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতরা উপস্থিত থেকে তাদের আবেগঘন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, আইনমন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জাতীয় সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, কূটনীতিক, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে জুলাই অভ্যুত্থানের সকল শহীদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।














